• ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

রয়টার্সের প্রতিবেদন : স্পিকার ফিরলেই পদত্যাগপত্র দেবেন রাষ্ট্রপতি , পদত্যাগের পরই রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবি এনসিপির

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ২৪, ২০২৬
রয়টার্সের প্রতিবেদন : স্পিকার ফিরলেই পদত্যাগপত্র দেবেন রাষ্ট্রপতি , পদত্যাগের পরই রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবি এনসিপির
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সংস্থাটির খবরে বলা হয়েছে, চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশে ফেরার পর তার কাছে সই করা পদত্যাগপত্র জমা দেবেন রাষ্ট্রপতি। এদিকে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই স্পিকারের শুক্রবার দুপুরে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

রয়টার্স বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবারই পদত্যাগ করবেন। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনটি সূত্র এ তথ্য দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সারওয়ার আলমও রয়টার্সকে বলেন, স্পিকার থাইল্যান্ড থেকে ফেরার পর রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র দেবেন।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর হয় স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে। সে কারণেই স্পিকারের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চিকিৎসার জন্য ১৯ জুলাই ব্যাংকক যাওয়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই শুক্রবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরতে পারেন।

রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের বিষয়ে মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন। একটি সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার তিনি বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিদায়ের প্রস্তুতির কথাও বলেছেন। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টাও সাড়া মেলেনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে রাষ্ট্রপতিকে সরে দাঁড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে। এর কয়েক দিন আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব অবশ্য পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের সঙ্গে ওই বৈঠকের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে সরকার-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, পদত্যাগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে সম্প্রতি বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে আলোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো পদক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সেই সুযোগ তার রয়েছে, তবে এ নিয়ে সরকারের কাছ থেকে কিছু বলা হয়নি।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আর ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার কারণে এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে সম্ভাব্য উত্তরসূরির প্রশ্নও। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। দলটির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এ বিষয়ে শীর্ষ পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে, যদিও জ্যেষ্ঠ নেতারা প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না।

এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নাম আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা একজন জ্যেষ্ঠ সচিব এবং একজন সাবেক সচিবের নামও ঘুরছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব নাম নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ৭৫ বছর বয়সী এই রাষ্ট্রপতির পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল।

রয়টার্স আরও বলেছে, গত নভেম্বর যুদ্ধাপরাধ আদালত শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান দমন অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার কথা জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা নির্বাসন থেকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ, আর দলটির বহু নেতা-কর্মী কারাগারে আছেন বা আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের প্রতিক্রিয়াও এসেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামালপুরে এক কর্মসূচিতে পদত্যাগ নয়, গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তবে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো প্রকাশিত হয়নি।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের প্রতিক্রিয়াও এসেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামালপুরে এক কর্মসূচিতে পদত্যাগ নয়, গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তবে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো প্রকাশিত হয়নি।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ মূলত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক হলেও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পদটির গুরুত্ব নতুন করে সামনে আসে। শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর নির্বাচিত রাষ্ট্রীয় পদে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে মো. সাহাবুদ্দিন ছিলেন সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের সাংবিধানিক কর্মকর্তা। সে কারণে তার সম্ভাব্য পদত্যাগকে শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। স্পিকার দেশে ফেরার পর রাষ্ট্রপতি সত্যিই পদত্যাগপত্র জমা দিলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরেকটি বড় পরিবর্তন ঘটবে।

পদত্যাগের পরই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে: নাহিদ ইসলাম

ইত্তেফাক কোলাজ

পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে পদত্যাগের পর একজন সৎ, নিরপেক্ষ ও অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিকে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় জামালপুরে পদযাত্রা শেষে ফৌজাদারী মোড়ে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা তুলে ধরেন এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

সমাবেশে বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, সংস্কার বাস্তবায়ন ও জনগণের ৭০ শতাংশ ম্যান্ডেট পূরণে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছে। তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা না থাকায় এবং সংস্কার এগিয়ে না নেওয়ায় বিশ্বের কোনো দেশই বর্তমান সরকারকে ঋণ বা কোনো ধরনের সাহায্য দিচ্ছে না। এমনকি তারেক রহমান চীন সফর শেষ করে খালি হাতে ফিরেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে কোনো ধরনের বৈদেশিক সহায়তা পাওয়া যাবে না বলে মনে করেন এনসিপির এই শীর্ষ নেতা।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রপতির বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠনের কথা বলা বিএনপি পাঁচ মাসেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্রপতিকে পরিবর্তন করতে পারেনি। যে সরকার একজন রাষ্ট্রপতিকে সরানোর সক্ষমতা রাখে না, তারা কীভাবে দেশ পরিবর্তন করবে বলে প্রশ্ন তুলেন তিনি। রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে গণহত্যায় সমর্থন ও দুর্নীতির স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তাকে শুধু পদত্যাগ করালেই চলবে না, পদত্যাগের পরই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

দেশে গুণগত পরিবর্তনের জন্য এনসিপিকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, বর্তমান সরকার পরিবর্তনের শক্তি নয়। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদে এনসিপির মাত্র ৮ জন সংসদ সদস্য থাকলেও তারা ১০০ জন সংসদ সদস্যের চেয়েও বেশি শক্তিশালী ও সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন।

এর আগে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক ছাত্র সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। পরে শহরজুড়ে একটি বর্ণাঢ্য পদযাত্রা বের করা হয়। পদযাত্রা শেষে আয়োজিত সমাবেশে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।