• ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বিভিন্ন ধরনের রোগের কারণে “শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার” কথা লিখেছেন মো. সাহাবুদ্দিন

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ২৪, ২০২৬
বিভিন্ন ধরনের রোগের কারণে “শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার” কথা লিখেছেন মো. সাহাবুদ্দিন
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

কয়েকদিন ধরে নানা গুঞ্জনের পর অবশেষে পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহবুদ্দিন। আপাতত অস্থায়ীভাবে এই দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদে পৌঁছে দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র। যেখানে নিজের “গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার” কারণে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মো. সাহবুদ্দিন।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নির্ধারিত বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার সকালে দেশে ফেরেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার এক বছর নয় মাস বাকি থাকতেই সরে গেলেন তিনি।

কী বলা হয়েছে পদত্যাগপত্রে

May be an image of ticket stub and text
বিভিন্ন ধরনের রোগের কারণে “শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার” কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে পদত্যাগপত্রে লিখেছেন মো. সাহাবুদ্দিন।

“নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে” দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার চিঠির অংশবিশেষ পড়ে শোনান।

তিনি জানান, নিজেকে “গুরুতর অসুস্থ” দাবি করে মো. সাহাবুদ্দিন লিখেছেন, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন।

“আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরিক্ষায় অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন”।

সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের কথা লিখেছেন মো. সাহাবুদ্দিন।

স্পিকার আজ বিকেল ৫টা ১ মিনিটে পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেছেন বলে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলমকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট তৎকালিন সরকারের পতন হলে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয় উল্লেখ করে পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, “সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি।”

স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, “আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে।”

“এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।”

তিনি আরও লিখেন “এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।”

বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন “মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সবসময়ই সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন বলে আমার মনে হয়” বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আজ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এ কথা বলেন তিনি।