• ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম এরশাদের কারাগারে আটক

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ২৫, ২০২৬
সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি  মরহুম এরশাদের কারাগারে আটক
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম এরশাদের কারাগারে আটক।‘আর্টিকেল ৫১’ কি সাহাবুদ্দিনের রক্ষাকবচ? যা বলছে সংবিধান এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এরশাদের বিচার ও কারাগারে থাকার বিষয়টি আলোচনার দাবি রাখে।

সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ (আর্টিকেল ৫১)। একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “কিসের বিচার করবে, আর্টিকেল ফিফটি ওয়ানটা পড়ুক।” এরপর থেকেই রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তির বিধান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের মূল বিষয়গুলো হলো-

১. রাষ্ট্রপতি তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো আদালতের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন।

২. দায়িত্বে থাকাকালে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি (ক্রিমিনাল) মামলা দায়ের বা পরিচালনা করা যাবে না।

৩. দায়িত্বে থাকাকালে রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার বা আটক করার জন্য কোনো আদালত থেকে পরোয়ানা জারি করা যাবে না।

৪. রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত (সিভিল) মামলা করতে হলে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় আগে লিখিত নোটিশ প্রদান করতে হবে।

সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ মূলত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালীন সুরক্ষার কথা বলে। দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে অভিযোগের ধরন, সংশ্লিষ্ট আইন এবং আদালতের ব্যাখ্যার ওপর।

অর্থাৎ, এই অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব পালনকালে বিশেষ সুরক্ষা দিলেও পদ ছাড়ার পর সব ধরনের আইনি দায় থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি দেয়; এমন কোনো স্পষ্ট বিধান এতে নেই।

১৯৯০ সালের গণঅভুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দীর্ঘ কারাবাস করতে হয়। দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের বিভিন্ন মামলায় তিনি টানা প্রায় পাঁচ বছর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।

১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছাড়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় সাজা হয়।

‘এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনটা ছাত্ররাই গড়ে তুলেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় হামলা করে ছাত্র হত্যা করা, মরদেহ গুম করার মতো বড় বড় ঘটনা ঘটিয়েছিলেন এরশাদ। আমার যতদূর মনে পড়ে ১৯৮২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টকে কেন্দ্র করে শিক্ষা ভবন ঘেরাও করতে গিয়েছিল শিক্ষার্থীরা; সেখানেও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মিছিলের ওপর ট্রাক তুলে দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে সেদিন। অর্থাৎ বীভৎস এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। তৎকালীন শিক্ষার্থীরা তখন সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছে। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোও আন্দোলনে যুক্ত হয়। একপর্যায়ে এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।’

রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে ১৯৯০ সালে এইচএম এরশাদের পতনের পর পরই তার বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় কারাবরণ করতে হয় তাকে। পরে সে তালিকা দীর্ঘ হতে থাকে। সব মিলিয়ে সাবেক এ রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল ৪৩টি। ছয় বছর জেলে থাকার পর ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্ত হন।

‘এরশাদ ছিলেন বেনাভোলেন্ট ডিক্টেটর। ক্ষমতা গ্রহণের পরই এরশাদের বিরুদ্ধে ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করে। ক্ষমতায় থাকাকালীন পুরোটা সময় জুড়ে বিভিন্ন সময় বিক্ষিপ্তভাবে ছাত্রদের ওপর আক্রমণ এবং বেশকিছু হত্যার ঘটনা ঘটে। তবে শেষের দিকে যখন গণ-অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতি হয় এবং হত্যাকাণ্ডের পরিমাণ বাড়তে থাকে তখনই তিনি ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিশেষ করে ডা. মিলন হত্যার পর।

রাজনৈতিক পরিচয়

২৪শে এপ্রিল ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি শপথ নেয়ার দিন

মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু   ছাত্রজীবনে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ১৯৭৪ সালে পাবনা জেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ২২তম জাতীয় পরিষদে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে খালি থাকা প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির চেয়ারম্যান পদে তাকে মনোনীত করা হয়।

২০২৩ সালের ২৪শে এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন।

২০২৩ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রথমবারের মতো মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে পরিচয় করিয়ে দেন।

সেসময় রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে উল্লেখ ছিল যে ছাত্রজীবনে তিনি পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ১৯৭৪ সালে পাবনা জেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৭৫ সালে গঠন হওয়া বাকশালের (বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ) পাবনা জেলা অংশের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান তার মনোনয়ন দেন বলে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়।

জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, ১৯৮০ সালে তিনি পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হিসেবেও নির্বাচিত হন।