• ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

ফ্যাসিবাদ আর চাই না, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে , ঢাকার জন্য ডাক আসবে, ঘরে ঘরে লড়াইয়ের দুর্গ গড়তে হবে: জামায়াতের আমির

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ২৫, ২০২৬
ফ্যাসিবাদ আর চাই না, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে , ঢাকার জন্য ডাক আসবে, ঘরে ঘরে লড়াইয়ের দুর্গ গড়তে হবে: জামায়াতের আমির
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান :  বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ পরিবর্তনের জন্য, সংস্কারের জন্য গণভোটে হ্যাঁ বলেছে। গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষের হ্যাঁ-কে আমরা অপমান করতে দেবো না। হ্যাঁ ভোটের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। কোনো ধানাই পানাই শুনতে চাই না।

তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশের মানুষের একই দাবি- গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেই আমাদের আন্দোলন সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছবে। বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ আমরা চাই না।

আজ শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেটের ঐতিহাসিক সরকারি আলীয়া মাদরাসা মাঠে ১১ দলের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর বিক্রম। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ ছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা সমাবেশে বক্তব্য দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পথ ধরেই হাঁটা শুরু করেছেন। তারা সকল পর্যায়ে দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করতে যাচ্ছে। আমরা এটি মানব না। হাসিনাকে তাড়িয়েছি, যদি তারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করে জনগণ তাদেরও তাড়াবে।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন বিষয়ে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ভালোয় ভালোয় মেনে নিন। আমরা আমাদের জুলাই-যোদ্ধা, জুলাই-শহীদ ও ১৮ কোটি মানুষের সাথে বেঈমানি করব না। আমরা কথা রাখব। জীবন দিয়ে হলেও লড়াই করে কথা রাখব।

ডা. শফিকুর বলেন, আমরা সারাদেশ ঘুরেছি। সবার দাবি একই। আর তা হল-গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণ বলছে, আপনারা সরকারি ও বিরোধীদল হ্যাঁ ভোট দিতে বলেছেন; আমরা হ্যাঁ ভোটকে বিজয়ী করেছি। এখন সেটির বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

বিএনপি সরকার ফ্যাসিবাদের দিকে হাঁটছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, হাসিনাকে তাড়িয়েছি। যদি আপনারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেন, তাহলে আপনাদেরও জনগণ তাড়াবে।

জনগণ পরিবর্তন ও সংস্কারের জন্য গণভোটে রায় দিয়েছে বলে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা জানান, ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ ভোট দিয়েছে। গণভোটের রায়কে অপমান করতে দেবো না। এ রায় বাস্তবায়ন করলেই আমাদের আন্দোলন সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছবে। বাংলাদেশে আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ চাই না।

সিলেটের ঐতিহাসিক সরকারি আলীয়া মাদরাসা মাঠে ১১ দলের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হন। ঢাকার জন্য ডাক আসবে, ঘরে ঘরে সেই লড়াইয়ের দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও দুঃশাসন দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। মুক্তির মঞ্জিলে না পৌঁছা পর্যন্ত আমরা থামব না।’

সিলেটবাসীকে পরবর্তী আন্দোলনের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, ঢাকার জন্য ডাক আসবে। প্রস্তুতি নিন। ঘরে ঘরে লড়াইয়ের দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও দুঃশাসন দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। আমরা থামব না, বলেন তিনি।

শনিবার বিকেলে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলের উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: ইত্তেফাক

সরকারকে জুলাই সনদ মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘ভালোয় ভালোয় জুলাই সনদ মেনে নিন। যদি না মানেন, তাহলে এই দেশের মানুষ জীবন দিয়ে, পঙ্গুত্ব বরণ করে, গুলি খেয়ে শিখে নিয়েছে মুক্তির পথে কিভাবে হাঁটতে হয়।’

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ চাই না। আমরা দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি-তারাও মজলুম ছিলেন, যারা এখন সরকার গঠন করেছেন। কিন্তু তারা ভুলে গেছেন। সেই ফ্যাসিবাদী পথ ধরেই তারা হাঁটা শুরু করেছেন। সমাজের সব ক্ষেত্রে তারা বেপরোয়া, নির্লজ্জ, দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করতে যাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মানব না। হাসিনা তাড়িয়েছি, যদি ফ্যাসিবাদ আপনারা কায়েম করেন, আপনাদেরকেও জনগণ তাড়াবে। আপনাদেরকেও ছেড়ে কথা বলবে না।’

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সারা বাংলাদেশ আমরা ঘুরেছি, মানুষের একটিই দাবি-গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণ আমাদের বলে, সরকারি দল ও বিরোধী দল-আপনারা হ্যাঁ ভোট দিতে বলেছেন, আমরা হ্যাঁ ভোট বিজয় করে দিয়েছি। এখন আমাদের হ্যাঁ ভোটের বাস্তবায়ন দেখতে চাই, এখন কোনো টালবাহানা মানি না।’

জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের শহীদদের সঙ্গে বেঈমানি করব না, জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে বেঈমানি করব না। আঠারো কোটি মানুষের সঙ্গে বেঈমানি করব না। জীবন দিয়ে হলেও লড়াই করে কথা রাখব, ইনশাআল্লাহ।’

সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ

সিলেটের বঞ্চনা ও ভোগান্তি তুলে ধরে সরকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সিলেটের কিছু ন্যায্য দাবি ঝুলে আছে যুগ যুগ ধরে। সিলেট এম এ জি ওসমানী বিমানবন্দরকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করুন। অবিলম্বে সিলেটের ৬ লেনের রাস্তা সম্পন্ন করে জনগণকে স্বস্তি দেয়া হোক। সিলেটের দীর্ঘ দিনের দাবি- এখানে ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি হবে। কলেজটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কেন? এটিকে ইউনিভার্সিটিতে রূপান্তর করে প্রাণ দেয়া হোক। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামে মাত্র একটি ঘর, আর একজন ভিসি। এর বাইরে তেমন কোনো কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না। অবিলম্বে এটাকে পূর্ণাঙ্গতা দেয়া হোক, বলেন তিনি।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

 

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, জুলাই বিপ্লব দেশ থেকে দেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে। আর আমাদের সরকার উল্টো পথে হাঁটছে। আমরা আশা করেছিলাম, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সেই সরকার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু দুঃখের সাথে দেখতে হচ্ছে- সেই সরকার গণভোটে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করছে। বিএনপি যদি জুলাই, তরুণদের ভুলে যায়, ১৪শ শহীদকে ভুলে যায়- তাহলে এর পরিণতি বিএনপিকে বরণ করতে হবে, সতর্ক করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর বিএনপি সংস্কারকে ভুলে গেছে। তারা এখন শুধু সংবিধান সংশোধনের কথা বলছে। কিছু দালাল বুদ্ধিজীবীই বলছে সংশোধন প্রয়োজন, সংস্কার প্রয়োজন নেই। নাহিদ সতর্ক করে বলেন, সরকার সংস্কার না করলে জনগণের মাঝে যে আস্থা তৈরি হয়েছিল, তারেক রহমান সেই আস্থা ধরে রাখতে পারবেন না। জুলাই সনদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার করতে হবে, বলেন নাহিদ।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ আরও বলেন, বিএনপি দেশের নির্বাচন কমিশনসহ সকল প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করছে। যার কারণে আমরা যে উন্নতি চেয়েছিলাম- তা হবে না। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে এই সরকারকে আর আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে না। যদি জুলাই সনদ, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে এই সরকার ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না। সেজন্য গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নইলে তাকে তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।

সরকার যদি জুলাই বিপ্লবের সংস্কার পরিকল্পনা ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে, তবে আগামী পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, তারেক রহমানকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি কি পাঁচ বছর নির্বাচিতভাবে ক্ষমতায় থাকতে চান নাকি শেখ হাসিনাসহ পৃথিবীর অন্যান্য জায়গায় যেই করুণ পরিণতি হচ্ছে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করার জন্য সেই পরিণতি তিনি ভোগ করতে চান।

সমাবেশে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও ছাত্র-তরুণদের কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা মনে করি দেশ থেকে দেশে এই যে তরুণদের উত্থান, তরুণরা জেগে উঠছে, রাজপথে অন্যায় বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলছে- এটা জুলাই বিপ্লবের ধারাবাহিকতা। আমরা বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে জুলাই বিপ্লবীদের পক্ষ থেকে ভারতের আন্দোলনরত ছাত্র-তরুণদেরকে সাধুবাদ জানাই।

ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ায় চলমান তরুণদের প্রতিবাদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বিশ্বজুড়ে তরুণদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া জুলাই বিপ্লবেরই ধারাবাহিকতা। যখন বিশ্বের অন্যান্য দেশ তরুণ ও গণদাবিকে সম্মান জানাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের নতুন সরকার উল্টো পথে হেঁটে।

তিনি বলেন, যেই দেশে জুলাই বিপ্লবের ফলে সরকার পতন হয়েছিল এবং নির্বাচনের পরবর্তীতে যে সরকার এসেছে আমরা আশা করেছিলাম এই নতুন সরকার জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। ছাত্র-তরুণদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম যে জনগণের রায়কে তারা ক্ষমতায় এসেই অবজ্ঞা করা শুরু করেছে। ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটে যে গণরায় দিয়েছে সংস্কারের পক্ষে, জুলাই সনদের পক্ষে, সেই রায়কে তারা অবজ্ঞা করছে।

আমরা দেখলাম এই দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি- তারা নিজের দলের ভেতর কোনো সংস্কার আনলো না এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জন্য যে ন্যূনতম ঐকমত্য সেই ঐকমত্য মেনে নিল না। যদি তারা এই পথে হাঁটে, তারা জুলাই বিপ্লবকে ভুলে যায়, যদি তারা ছাত্র-তরুণদের আন্দোলনকে ভুলে যায়, যদি এদেশের ১৪০০ মানুষের আত্মত্যাগকে ভুলে যায়, তাহলে তার পরিণতি বিএনপির তারেক রহমানের সরকারকেই ভোগ করতে হবে।

সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সংস্কার বনাম সংশোধন এই বিতর্ক নতুন করে শুরু হয়েছে এই দেশে। আমরা মনে করি এই বিতর্কের কোনো প্রয়োজন ছিল না। আমরা ঐকমত্য কমিশনেই এই বিতর্কের অবসান করেছিলাম যে, দেশে সংশোধনের মাধ্যমে দেশের সংবিধানের কোনো মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন সম্ভব হবে না। দেশের কোনো মৌলিক সংস্কার সম্ভব হবে না। ফলে আমাদের লাগবে সংস্কার পরিষদ অথবা গণপরিষদ। সেই সময় বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদ এবং গণভোটে রাজি হলো। নির্বাচিত হওয়ার পরে তারা সংস্কার কী সেটা ভুলে গিয়েছে। তাদের ২১ দফাতে সংবিধান সংস্কার কমিশনের কথা উল্লেখ থাকলেও নির্বাচিত হওয়ার পরেও সংস্কার কী তারা ভুলে গিয়েছে। তারা এখন শুধু সংশোধন চিনে আর কিছু চিনে না। বিএনপি সমর্থিত কিছু দালাল বুদ্ধিজীবী তারাও প্রচার করছে দেশে সংশোধন প্রয়োজন সংস্কার প্রয়োজন নেই। কিন্তু দেশের মানুষ সংস্কারের জন্যই জীবন দিয়েছে। এই বিএনপি গত ১৬ বছর ধরে সংস্কারের মুলা ঝুলিয়ে, ৩১ দফার মুলা ঝুলিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, রাজধানীতে গ্যাস সংকট, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও এলপিজির দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষ চাপে রয়েছে। পাশাপাশি বাজেটের মাধ্যমে মধ্যবিত্তের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, সংস্কার না হওয়ায় সরকার আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও যথাযথভাবে পাচ্ছে না। ফলে সরকার যদি সংস্কার না করে, সরকার যদি বিচার না করে, জনগণের মধ্যে যে নতুন আস্থা তৈরি হয়েছিল সেই আস্থা তারেক রহমানের সরকার ধরে রাখতে পারবে না।

নির্বাচন কমিশন নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করছে। তার মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের সংস্কার ও পুনর্গঠন করতে হবে, অন্যথায় বর্তমান কমিশনারদের পদত্যাগ করা উচিত।

সমাবেশে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে বর্তমান সরকারকে আর সমর্থন দেওয়া সম্ভব হবে না। ফলে আমরা আশা করবো সিলেটবাসী যেভাবে জুলাই বিপ্লবে রক্ত দিয়ে দেশের গণতন্ত্র এবং সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, আবারো সংস্কারের পক্ষে গণরায়ের পক্ষে আপনারা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন ইনশাআল্লাহ। দেশের রাজনীতির পক্ষে সার্বভৌমত্ব, সংস্কার এবং সুশাসনের পক্ষে আমরা ১১ দল ঐক্যবদ্ধ আছি, ঐক্যবদ্ধ থাকবো।

জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে গ দ্দারি করলে ঘাড় ধরতে আমাদের হাত কাঁপবে না, জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে : মামুনুল হক

জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে গা দ্দা রি করলে ঘাড় ধরতে আমাদের হাত কাঁপবে না: মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আমাদের ঐক্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য। সরকারি দল বা ১১ দলের মধ্যে ক্ষমতার ভাগ বাটোয়ারার জন্য নয়। যতদিন পর্যন্ত জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য অর্জিত না হবে, ততদিন আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমাদের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৭ বছর জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। নেতাকর্মীরা হত্যা, খুন গুমের শিকার হয়েছে। আমাদের ভাইয়েরা জুলাই বিপ্লব, শাপলায় রক্ত দিয়েছে। অনেক ভাই-বোনেরা চিরদিনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ ও চোখ হারিয়েছেন।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমরা সরকারকে বলতে চাই, আপনারাও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছিলেন। আমরা আপনাদের বন্ধু মনে করি। আমরা দেশের কল্যাণ চাই। যে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেছেন, যদি সেই জুলাই বিপ্লবের সাথে গাদ্দারি করেন, তাহলে আপনাদের ঘাড় ধরে ধাক্কা দিতে আমাদের বাঁধবে না। গণভোটের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে যদি ছিনিমিনি করেন, বিশ্বাসঘাতকতা করেন- তাহলে আপনাদের পরিণাম শেখ হাসিনার মতো হবে।

জুলাই বিপ্লবের আদর্শের ওপর ভিত্তি করে গঠিত বর্তমান সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘আমাদের এই ঐক্য শুধুমাত্র ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারার জন্য হয়নি। শুধুমাত্র এই ১১টি রাজনৈতিক দলের ভাগ্য গড়ার জন্য আমরা ঐক্য করিনি। আমাদের ঐক্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমাদের এই যাত্রা।’

 

বিএনপিকে বন্ধু আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় অংশীদার ছিলেন আপনারা। তাই আপনাদেরকে আমরা বন্ধু মনে করি। বন্ধু মনে করে আমরা যেমন দেশের কল্যাণ চাই, তেমন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপিরও কল্যাণ চাই। তাই বলতে চাই, যে জুলাই বিপ্লবের ওপর ভিত্তি করে ক্ষমতার মসনদে বসেছেন, সেই জুলাই বিপ্লবের সাথে যদি গাদ্দারি করেন, ক্ষমতার মসনদে থাকবার কোনো অধিকার আপনাদের থাকবে না।’

মামুনুল হক আরও বলেন, গণভোটের গণরায় মেনে নিন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করুন। গণভোটের গণরায়ের আলোকে গণপরিষদ গঠন করুন। তা না হলে আন্দোলন করে তা বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে। আমাদের আন্দোলন ৩০ হাজার আহত জুলাই-যোদ্ধার অধিকার আদায়ের আন্দোলন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর পদত্যাগ ও অপসারণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, ‘একটা প্রাণী আছে, যখন পানি খায় ঘোলা করে খায়। আমরা বলেছিলাম, শেখ হাসিনার দোসররা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদে থাকতে পারে না। আজ যখন সে রাষ্ট্রপতির মসনদে বসে আপনাদের ছোবল মারতে উদ্যত হয়েছে, তখন স্পিকারকে ২৪ ঘণ্টার নোটিশে হাসপাতাল থেকে ডেকে এনে সেই চুপ্পুকে আপনারা বিদায় করলেন।’

১১ দলীয় জোটের সমাবেশ থেকে কর্নেল অলির ‘হুংকার’

সভাপতির বক্তব্যে এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ তখনই সম্ভব হবে, যখন দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতি মুক্ত করা সম্ভব হবে। তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে হবে, বিএনপির না। আপনি দালাল, চাটুকারদের কথা না শুনে নিজের বিবেক দিয়ে বিবেচনা করে সংস্কার বাস্তবায়ন করুন। প্রয়োজনে ১১ দলের নেতাদের সাথে কথা বলেন। জাতিকে মুক্ত করেন।

তিনি বলেন, জনগণ যে সংস্কার চায় সেই সংস্কার করেন। আপনি বাংলাদেশের মানুষের কথা চিন্তা করেন। আপনি চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেননি। আপনাকে ভুলপথে পরিচালিত করছে। আপনি বাহিরে থাকায় আপনি বাস্তবতা এখনো উপলব্ধি করতে পারছেন না। জনগণের প্রধানমন্ত্রী হতে হলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। আমাদের সরকার পতনের এক দফায় ধাক্কা দিবেন না। সংস্কারগুলো সংসদের মাধ্যমে পাস করে দেন। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি জনগণকে ফাঁসির রশি নিয়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জনান।

অলি আহমদ বলেন, এই তিন নেতা একজোট হলে তারা যে কোনো সময় ঢাকায় ২০ থেকে ৩০ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটাতে সক্ষম হবেন। টঙ্গী, সায়েদাবাদ ও মিরপুরের সড়ক অবরোধ করে দিতে পারবেন তারা। আপনি কোন দিকে দেশে থাকবেন? আপনাকে এটা বুঝতে হবে। আপনি অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে দেশের মানুষের কথা চিন্তা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এক ব্যক্তি একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন না-এই প্রস্তাব ১১ দলীয় ঐক্যজোট দিয়েছিল। কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি। আপনি বিএনপির প্রধানমন্ত্রী না হয়ে দেশের মানুষের প্রধানমন্ত্রী হন। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটলে ভবিষ্যতে ‘এক দফা, এক দাবি-এই সরকার কবে যাবি’ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।

 

এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, আমরা বর্তমান সরকারকেও বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের যে অঙ্গীকারের ভিত্তিতে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন, তার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল বিচার ও সংস্কার। কিন্তু গত দেড় বছরে আমরা দেখেছি, আপনারা নির্বাচন নিয়ে যতটা আগ্রহী ও তৎপর ছিলেন, বিচার ও সংস্কারের ক্ষেত্রে ততটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। শুধু জুলাই জাতীয় সনদ, গণভোট বা গণরায়ের কথা বললেই হবে না। জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর করা প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করতে হবে। জনগণ জানতে চায়- যে দল নিজের প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করতে পারে না, তাদের ওপর জনগণ কীভাবে আস্থা রাখবে?

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. ইরান অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছে এবং নির্বাচনে কৌশল করে অনেক প্রার্থীকে পরাজিত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী ডা. হামিদুর রহমান আজাদ, মাওলানা মামুনুল হক এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সরকার যদি মনে করে থাকে যে, তারা পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবে, তাহলে তারা ভুল করছে। অতীতের সরকারগুলোও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার প্রত্যাশা করেছিল, কিন্তু জনগণের আন্দোলনের মুখে তা সম্ভব হয়নি। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোট কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, যারা ৫ মাসে জাতির জন্য কিছু করতে পারে না, তারা আগামী ৫ বছরেও কিছুই করতে পারবে না। আমরা ভারতীয় আধিপত্যবাদ আর দেখতে চাই না। ভারতের নির্দেশে ইলিয়াস আলীর মতো আর কাউকে গুম হতে দেখতে চাই না। টিপাইমুখ বাঁধের কারণে সিলেটের জনগণকে আর বঞ্চিত হতে দেখতে চাই না। ইনসাফের বাংলাদেশ কায়েম করতে চাই। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার যদি গণরায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ঢাকায় মহাসমাবেশ করে সরকার পতনের একদফা আন্দোলন শুরু করা হবে।

নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে, তা বাস্তবায়নে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায়কে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। জনগণের রায় ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারবে না। জনগণ যেভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে অবস্থান নিয়েছিল, ভবিষ্যতে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কোনো অপচেষ্টা হলে- তা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে বিরোধীদলীয় নেতা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আগামী দিনের আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা মানতে না চাইলেও তারা ১৯৯৬ সালে তীব্র গণআন্দোলনের মুখে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। বিএনপি ২০০৪ সালে আবার জাতির সাথে প্রতারণা করে চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতির বয়স বাড়িয়ে জাতীয় সংকট সৃষ্টি করেছিল। ফলে এক/এগারোর সরকার এসেছিল। বিএনপির এই গোয়ার্তুমির কারণেই জাতি ১৭ বছরের গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ হয়েছিল। একইভাবে বিএনপি আবার গণভোটের রায় না মেনে জাতিকে নতুন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমি হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, জনগণের রায় অস্বীকার করা যায়, কিন্তু সে রায়ের ফলাফল মেনে না নেয়ার পরিণতি অস্বীকার করা যায় না। ক্ষমতা বদলায়, চেয়ার বদলায় কিন্তু জনগণের রায় বদলায় না। সময় থাকতে গণরায় মেনে নিন।

 জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে দেশে আরেকটি গণআন্দোলন অনিবার্য হয়ে উঠবে। ঢাকা মহাসমাবেশের পরও দাবি বাস্তবায়ন না হলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলন শুরু হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

রাশেদ প্রধান অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাস পরও সরকার সিলেট অঞ্চলকে অবহেলা করে রেখেছে। তার ভাষ্য, যারা প্রথম পাঁচ মাসে দৃশ্যমান কাজ দেখাতে পারে না, তারা আগামী পাঁচ বছরেও তা পারবে না।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে তার বিচার দাবি করবে। পাশাপাশি সীমান্তে ভারতের পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করায় সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের জনগণকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ প্রধান দাবি করেন, শেখ হাসিনা নিজেই ভারতে আশ্রয় চেয়েছিলেন। একই সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়া এবং টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুতে ভারতীয় নীতির সমালোচনা করেন।

এর আগে সকাল থেকেই সিলেট বিভাগের চার জেলা থেকে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন।

সিলেটের সমাবেশে বিভাগের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য, অবকাঠামোগত বঞ্চনা এবং স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও জোটের নেতারা দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

 

আরো যাঁরা ছিলেন –

বিভাগীয় সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মো. ফখরুল ইসলাম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর জনাব মো. সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়েজ আহমেদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপার) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহনগরীর সভাপতি জিয়াউল আনোয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিলেট জেলা সভাপতি জুনায়েদ আহমদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগরীর সাবেক নায়েবে আমীর হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা এমরান আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিলেট মহানগরীর আমীর মাওলানা মোজ্জামেল হক তালুকদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা মো. ইকবাল হুসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সিলেট মহানগরীর সভাপতি মাহবুবুর রহমান এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সিলেট মহানগরীর সভাপতি শহিদুল ইসলাম সাজু।