• ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

লোহিতসাগরে সৌদি তেল স্থাপনায় হুতিদের হামলা

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ২৫, ২০২৬
লোহিতসাগরে সৌদি তেল স্থাপনায় হুতিদের হামলা
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিতসাগর উপকূলে সৌদি আরবের দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থানে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে। এর ফলে উপসাগরীয় যুদ্ধ নতুন এক ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আজ শনিবার হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, সৌদি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবু অঞ্চলের স্থাপনাগুলোতে তাঁরা সফলভাবে হামলা চালিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্সের যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জিজানের আরামকো শোধনাগার থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠছে।

এশিয়াভিত্তিক জ্বালানি বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে, জিজানে জ্বালানি ও তেল সংরক্ষণাগারে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তারা অবহিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরামকোর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ইয়ানবু বন্দরের তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবে মোতায়েন গ্রিক সামরিক বাহিনী প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, লোহিতসাগর উপকূলের ইয়ানবু সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান বন্দর। এখান থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করা হয়। ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপের পর সৌদি তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান বিকল্প পথ হয়ে ওঠে এই বন্দর। অন্যদিকে ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন জিজানে দৈনিক চার লাখ ব্যারেল সক্ষমতার একটি তেল শোধনাগার রয়েছে।

২০১৪ সালে রাজধানী সানা ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করার পর থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বে আরব জোট সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। এই গৃহযুদ্ধে সংঘর্ষ, দুর্ভিক্ষ ও মানবিক সংকটে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সংঘাত অনেকটাই কমে এসেছিল। তবে চলতি মাসে সেই যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের মিত্র হিসেবে হুতিরা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে সরাসরি যুক্ত হয়েছে।

গত এক সপ্তাহে হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পাশাপাশি সতর্ক করে দেয়, রিয়াদ যদি সংঘাতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তবে সৌদির সব তেল স্থাপনাই তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।

এর ফলে ইরান ঘিরে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা আরও বেড়েছে। এই আশঙ্কার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, যা মে মাসের পর প্রথম।

এর আগে বৃহস্পতিবার লোহিতসাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায় হুতিরা।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, লোহিতসাগরে নিজেদের জাহাজ ও সৌদি আরবের স্বার্থ রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে হুতিরা যদি তাদের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, তবে তার জবাব দেওয়া হবে কঠোরভাবে।