জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগটি দাখিল করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষের প্রাণহানির সময় রাষ্ট্রের তিন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করেননি। ৫ আগস্ট পর্যন্ত আয়নাঘর, গুম ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিরুদ্ধেও তিনি কোনো প্রতিবাদ জানাননি। এসব ঘটনায় তার মৌন সমর্থন ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিন ট্রাইব্যুনালে ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির নেতারা বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের সহিংসতা, গুম, খুনসহ বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার সময় আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।
তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক আইনের ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ (Superior Responsibility) নীতিমতে, কোনো গণহত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হলে দায়িত্বশীল সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষও জবাবদিহির আওতায় আসতে পারেন। সে বিবেচনায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতিরা তিন বাহিনীর প্রধান হয়েও অভিযোগ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেননি, বরং তৎকালীন সরকারকে সহযোগিতা ও সুরক্ষা দিয়েছেন। তাই তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত হওয়া উচিত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পলাতক শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ এনে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৃথক আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম।
সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে: আইনমন্ত্রী

পরিচালক থাকাকালে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তদন্ত শেষে জনস্বার্থ বিবেচনায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কোনো ব্যক্তির প্রতি অবিচার করতে চায় না। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই চলছে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারির মামলা করা যায় না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

ফৌজদারি অপরাধ বা অন্য বিষয়ে আদালতে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। এর বাইরে যদি কেউ বক্তব্য দিয়ে থাকেন, সেই স্বাধীনতা তাদের আছে। দিতে পারেন। কিন্তু আমলে নেওয়ার মতো কিছু দেখি না-এমনটাই মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
বিরোধী দল মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছেন। এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীপক্ষকে জিজ্ঞেস করেন কেন তারা রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার চান। এখন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে যারা গালি দিচ্ছেন, সেই অধিকার তাঁদের আছে।’ গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে বলে প্রত্যাশার কথা জানান মন্ত্রী। প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সময় স্বৈরাচারের শেষ দিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরোটা এবং বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের সময়ে তিনি বিধিবিধান ও সংবিধান অনুসারে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি। সংবিধান অনুসারে তিনি প্রিভিলেজড; তার ( ইমিউনিটি) দায়মুক্তি আছে। ফৌজদারি অপরাধ বা অন্য বিষয়ে আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। এর বাইরে যদি কেউ বক্তব্য দিয়ে থাকেন, সেই স্বাধীনতা তাঁদের আছে। দিতে পারেন। কিন্তু আমলে নেওয়ার মতো কিছু দেখি না।’
রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেই সময় তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে, সেটা সেই সময়কার বিষয়। সেটা আইন অনুসারে চলবে।’
সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আইন অনুসারে যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার, সেটা তিনি পাবেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার সুরক্ষার জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টসহ (পিজিআর) অন্যান্য সুবিধা ছয় মাসের জন্য পাবেন। পুলিশসহ অন্যান্য নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন।
দায়িত্ব শেষে রাষ্ট্রপতির ফৌজদারী অপরাধের বিচার সম্ভব, বাধা নয় সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ: শিশির মনির
রাষ্ট্রপতির বিচার করতে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ কোনো বাধা সৃষ্টি করে না বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির।
শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে কিংবা কার্যভারকালে যদি তিনি ফৌজদারী অপরাধ করে থাকেন দায়িত্ব পালন শেষে অবশ্যই আইন অনুযায়ী তার বিচার করা যাবে। এক্ষেত্রে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে কোন বাধা নেই।’
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরও বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার পদত্যাগ নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনা চলছে।