ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আমলে ২০১৮ সালের বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী ৩২ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।
যুগ্ম সচিব হিসেবে এরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) ছিলেন। তাঁদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে আজ সোমবার রাতে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো সবাই বিসিএস ২০ তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। এদের গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ওএসডি করা হয়।
সরকারি চাকরি আইনে ৪৫ ধারা অনুযায়ী তাঁদের সরকারি চাকরি থেকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারা অনুযায়ী, কারও চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ না দিয়েই সরকার তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা অবসর সুবিধা পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ৩২ কর্মকর্তা
সাবেক ডিসিদের মধ্যে চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান, কুমিল্লার মো. আবুল ফজল মীর, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, বান্দরবানের মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ জেড এম নুরুল হক, ময়মনসিংহের মো. মিজানুর রহমান, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, রাঙ্গামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, সুনামগঞ্জের মো. আব্দুল আহাদ এবং পাবনার সাবেক ডিসি মো. জসিম উদ্দিনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া ঝিনাইদহের সাবেক ডিসি সরোজ কুমার নাথ, খাগড়াছড়ির মো. শহিদুল ইসলাম, ফেনীর মো. ওয়াহিদুজ্জামান, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের, মাগুরার মো. আলী আকবর, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবীর মুরাদ, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, খুলনার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, শেরপুরের আনার কলি মাহবুব, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস এবং চুয়াডাঙ্গার সাবেক ডিসি গোপাল চন্দ্র দাশকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আগের রাতে ব্যালটে সিল দেওয়ার ব্যাপক অভিযোগ ওঠায় এটি ‘রাতের ভোটের নির্বাচন’ নামে পরিচিত পায়।
সম্পদের হিসাব যাচাই-বাছাই করে অনিয়ম অসঙ্গতি ধরা পড়লে আটকের দাবিতে এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরগরম।