গাজা যুদ্ধ নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা চ্যাটবটগুলোর দেওয়া উত্তর নিজেদের পক্ষে প্রভাবিত করতে ইসরায়েল কোটি কোটি ডলার খরচ করে একটি বড় গোপন ডিজিটাল অভিযান চালাচ্ছে। অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ (Drop Site News)-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। বৈশ্বিক জনমত এবং এআই প্রযুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ইসরায়েল এই সুদূরপ্রসারী কৌশল হাতে নিয়েছে।
এআই-এর জবাব বদলানো এবং আমেরিকার জনমত গঠনের এই প্রজেক্টে ইসরায়েল প্রায় ৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলার ($46.5 Million) বা ৪৬.৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে। ইসরায়েল ২০২৬ সালে তাদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সামগ্রিকভাবে প্রায় ৭৩০ মিলিয়ন বা ৭৩ কোটি ডলার বরাদ্দ রেখেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক নির্বাচনী প্রচার প্রধান ব্র্যাড পারস্কেল (Brad Parscale) এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘ক্লক টাওয়ার এক্স’ (Clock Tower X) ইসরাইল সরকারের কাছ থেকে এই কাজের দায়িত্ব পেয়েছে।
চ্যাটজিপিটি (ChatGPT), ক্লড (Claude), জেমিনী (Gemini) এবং পারপ্লেক্সিটি (Perplexity)-র মতো জনপ্রিয় চ্যাটবটগুলোর উত্তর নিজেদের অনুকূলে নেওয়া এই অভিযানের লক্ষ্য।
প্রযুক্তি বিশ্বে এই চতুর প্রক্রিয়াকে ‘এলএলএম পয়জনিং’ (LLM Poisoning) বা এআই লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ডেটাভাণ্ডারে বিষ ঢেলে দেওয়া বলা হয়। এই প্রজেক্টের অধীনে ‘Allyvia.org’, ‘FactSignal.org’ এবং ‘Paxpoint.org’-এর মতো প্রায় ১০টি বিশেষ ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। এই সাইটগুলোতে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের পক্ষে এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সাফাই গেয়ে অত্যন্ত মার্জিত ভাষায় নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়।
চ্যাটবটগুলো ইন্টারনেটের ওপেন সোর্স ডেটা (যেমন Common Crawl) থেকে তথ্য সংগ্রহ করে উত্তর দেয়। ইসরায়েলের তৈরি সাইটগুলোর তথ্য বারবার এআই স্ক্র্যাপ বা রিড করায় চ্যাটবটগুলো গাজা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে ইসরায়েলি বয়ান বা ন্যারেটিভকে সত্য বা নিরপেক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করা শুরু করেছে।