• ২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৯শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মার্কিন ঘাঁটিতে ১০২ মিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

Usbnews.
প্রকাশিত আগস্ট ১, ২০২৬
মার্কিন ঘাঁটিতে ১০২ মিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটিতে দেশটির বিমানবাহিনীর একটি এফ-৩৫বি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটেছে। তবে বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার ঠিক আগেই জরুরি প্যারাস্যুট নিয়ে পাইলট সফলভাবে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।

শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার কিছুক্ষণ আগে সান দিয়েগোতে অবস্থিত ‘মেরিন ক্রপস এয়ার স্টেশন মিরামার’-এ এই দুর্ঘটনা ঘটে।

মেরিন এয়ারক্রাফট উইং থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এক আসনবিশিষ্ট এফ-৩৫বি লাইটনিং-টু মডেলের যুদ্ধবিমানটি ঘাঁটির রানওয়েতে অবতরণের ঠিক পূর্বমুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে আগুন ধরে গেলে দ্রুত ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ে, যা বেশ কয়েক মাইল দূর থেকেও দেখা যায়।

সামরিক কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, পাইলট বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার মুহূর্তেই ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। পরে উদ্ধারকারী দল তাঁকে স্থানীয় একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আঘাতের মাত্রা আশঙ্কাজনক নয় এবং পাইলট বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত ও স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

দুর্ঘটনার সময় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের রেকর্ড করা অডিও বার্তায় জরুরি সেবা দলকে জানানো হয়, ‘রানওয়ের কাছাকাছি এফ-৩৫ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। পাইলট সফলভাবে ইজেক্ট করেছেন এবং প্যারাস্যুট সক্রিয় হতে দেখা গেছে।’

দুর্ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরে নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিসের ফেনা (ফোম) ও স্প্রে ব্যবহার করে বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সঙ্গে বিমানের আশপাশের ঘাসে ছড়িয়ে পড়া আগুনও দ্রুত নিভিয়ে ফেলা হয়।

দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। বেসামরিক বিমান দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সাধারণত ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড তদন্ত পরিচালনা করলেও, এই সামরিক বিমান দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি নিজস্ব তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী, ৫০ ফুটেরও বেশি দীর্ঘ এই এফ-৩৫বি লাইটনিং-টু যুদ্ধবিমানকে বিশ্বের অন্যতম সর্বাধুনিক ও শক্তিশালী ‘স্টেলথ’ (রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম) যুদ্ধবিমান হিসেবে গণ্য করা হয়। এই বিমানটি সাধারণ বিমানের মতো স্বাভাবিক রানওয়ে ব্যবহারের পাশাপাশি হেলিকপ্টারের মতো উল্লম্বভাবে (ভার্টিক্যালি) উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে।

প্রতিটি এফ-৩৫বি বিমানের নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১০ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১০২ মিলিয়ন ডলার)। মার্কিন মেরিন ক্রপস ছাড়াও যুক্তরাজ্য এবং ইতালির বিমানবাহিনী এই বিশেষ মডেলটি পরিচালনা করে থাকে।

উল্লেখ্য, দুর্ঘটনাটি যে মিরামার ঘাঁটিতে ঘটেছে, সেখানে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ১৫ হাজার সামরিক কর্মী কর্মরত রয়েছেন।