• ৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৩শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘাত ও সহিংসতা,রেহাই পাননি শিক্ষক সাংবাদিক

Usbnews.
প্রকাশিত আগস্ট ৫, ২০২৬
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে  সংঘাত ও সহিংসতা,রেহাই পাননি  শিক্ষক  সাংবাদিক
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

গতকাল ও আজ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসাসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ এবং পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষা অধিকার সংসদ। সংগঠনটি এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে তিন দফা দাবি জানিয়েছে।

শিক্ষা অধিকার সংসদের লোগো

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক বিবৃতিতে শিক্ষা অধিকার সংসদের সদস্য-সচিব এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে সোমবার ও মঙ্গলবার ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে যে ধরনের সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা আমরা দেখেছি তা আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনগুলোর এ ধরনের আচরণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গভীর অসুস্থতার প্রতিচ্ছবি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনগুলোর সংঘর্ষ, প্রতিপক্ষের ওপর হামলা এবং ভয়াবহভাবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মানুষের ওপর আক্রমণের ঘটনা কোনোভাবেই স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়। এটি নৈতিকতার পরাজয়, মানবিকতার সংকট এবং শিক্ষার মূল চেতনার ওপর আঘাত।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে আমরা দেখে আসছি—ছাত্রসংগঠনগুলো সুযোগ পেলেই সহিংসতার ভাষায় কথা বলে। রড, লাঠি, ধারালো অস্ত্র, আতঙ্ক এবং দখলদারির রাজনীতি যেন ক্যাম্পাসগুলোতে আবার ফিরে এসেছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসগুলোতে যে নির্মমতা চালিয়েছিল, আজকের ঘটনা যেন তারই পূনরাবৃত্তি। বিস্ময়কর হলেও সত্য, আজকে যারা শিক্ষাঙ্গনে ক্রিয়াশীল তারাই তখন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলো, অথচ তারাই এখন হামলাকারীর ভূমিকায়।’

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা, যেখানে মতের অমিল থাকবে, তর্ক হবে, আন্দোলন হবে, প্রতিবাদ হবে। কিন্তু সহিংসতা কখনোই শিক্ষাঙ্গনের ভাষা হতে পারে না। যে ছাত্র রাজনীতি চিন্তার পরিবর্তে পেশিশক্তিকে বেছে নেয়, যে সংগঠন যুক্তির পরিবর্তে হামলাকে বেছে নেয় এবং যে নেতৃত্ব অনুসারীদের মানবিকতার পরিবর্তে ঘৃণা শেখায়—তারা শিক্ষাঙ্গনের নয়, বরং অন্ধ ক্ষমতার রাজনীতির প্রতিনিধি।’

শিক্ষা অধিকার সংসদ বিবৃতিতে সব ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিন দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলো হলো—

১. ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করে জড়িতদের দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনতে হবে।

২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালকে রাজনৈতিক সহিংসতার বাইরে রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩. বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণতান্ত্রিক, সহনশীল ও মানবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

বিবৃতির শেষে শিক্ষা অধিকার সংসদ জানায়, ‘শিক্ষাঙ্গন হোক জ্ঞান, বিতর্ক, সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচারের স্থান—ভয়, দখল, প্রতিশোধ ও রক্তপাতের নয়।’

 

জবি শিক্ষক সমিতির বিবৃতি ‘কলঙ্কিত বিবৃতি হয়ে থাকবে’: অধ্যাপক মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাম্প্রতিক বিবৃতিকে ‘কলঙ্কিত বিবৃতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি শিক্ষক সমিতির বিবৃতির সমালোচনা করেন।
May be an image of dais and text
অধ্যাপক বিলাল হোসাইন তার পোস্টে লিখেছেন, ‘এটা একটা কলঙ্কিত বিবৃতি হয়ে থাকবে।’ তিনি বলেন, শিক্ষক সমিতি কারও ‘পারপাস সার্ভ’ করার জন্য গঠিত হয়নি। ন্যূনতম ন্যায়বোধ যে বিবৃতিতে নেই, সেটি নিয়ে দুঃখবোধ ছাড়া আর কী হতে পারে এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
পোস্টে নিজের পরিচয় উল্লেখ করে অধ্যাপক বিলাল হোসাইন বলেন, ‘দুঃখিত: এই শিক্ষক সমিতির আমি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।’
এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, ক্যাম্পাসের পরিবেশ এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
শিক্ষক সমিতির ওই বিবৃতির পরই এর সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান অধ্যাপক বিলাল হোসাইন। তিনি মনে করেন, শিক্ষক সমিতির মতো একটি সংগঠনের বিবৃতিতে ন্যায়বোধ ও নিরপেক্ষতার প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।
ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে কবি নজরুল কলেজের অন্তত ২০ জন আহত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সংঘর্ষের জেরে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সামনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কবি নজরুল সরকারি কলেজের উভয় সংগঠনের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জকসু নেতাদের সংঘর্ষের পর এর প্রভাব ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ এলাকার সামনেও ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল সরকারি কলেজ এবং শহীদ সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

মেডিকেলের জরুরি বিভাগে ঢুকে শিবির-ছাত্রশক্তির কর্মীদের পেটাল ছাত্রদল

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে আহতদের ওপর ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় ক্যাম্পাসের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ইস্যু নিয়ে জকসু, শিবির, ছাত্র শক্তিসহ অন্যান্যদের ওপর হামলার ঘটনায় অন্তত শিক্ষক-সাংবাদিকসহ ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আহতদের ক্যাম্পাসের নিকটবর্তী ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল।

জবিতে ছাত্রদলের হামলায় আহত ৬ সাংবাদিক; গুরুতর অবস্থা একজনের
 আহত সাংবাদিক

‎জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল, জকসু প্রতিনিধিগণ, ইনকিলাব মঞ্চ ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা কাভার করতে গিয়ে ছাত্রদলের হামলায় অন্তত ছয় সাংবাদিক আহত হয়েছেন। হামলায় গুরুতর আহত হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক ও আজকালের খবর–এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি কামরুজ্জামান কায়েস। আহতদের প্রথমে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে গুরুতর অবস্থায় কায়েসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনার মধ্যে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকরা হামলার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ সংগ্রহে গেলে তাদের হামলার হুমকি দেওয়া হয়, বাধা দেওয়া হয় এবং কয়েকজনের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অনেক সাংবাদিক আত্মরক্ষার জন্য নিরাপদ স্থানে সরে যান।

আহত সাংবাদিকরা হলেন আজকালের খবর–এর কামরুজ্জামান কায়েস, আমার সংবাদ–এর আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা স্ট্রিম–এর রজব আল ফাহিম, বাংলা ট্রিবিউন–এর সোহায়েল আহমেদ, প্রাইম বাংলাদেশ–এর মোহন খন্দকার এবং আরও একজন সাংবাদিক।

গুরুতর আহত কামরুজ্জামান কায়েসকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে পথেও বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ন্যাশনাল হাসপাতাল থেকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হামলার বিষয়ে গুরুতর আহত সাংবাদিক কামরুজ্জামান কায়েস বলেন, ‘সাংবাদিক হিসেবে নিউজ কাভার করছিলাম। রফিক ভবনের সামনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিচ্ছিল। সেটি ধারণ করতে গেলে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দার আমাকে ডেকে নেয়। এরপর আমার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে আমাকে মারধর শুরু করে। মাথায় আঘাত করা হয়। আমার একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল আমি সংবাদ সংগ্রহ করছিলাম।’

দৈনিক মানবজমিন–এর আহত সাংবাদিক মামুন বলেন, ‘ক্যাম্পাসে নিউজ কভার করতে গিয়ে হামলার শিকার হলাম। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও আমাকে গালাগালি করা হয়েছে। আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তল্লাশি করা হয়েছে, এমনকি প্রেসকার্ডও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’

জবিতে দিনভর শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, আহত প্রায় শতাধিক

আমার সংবাদ–এর সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম, কোনো পক্ষ নিতে নয়। কিন্তু আমাদের ওপরই হামলা হলো। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও মারধর করা হয়েছে এবং ফোন তল্লাশি করা হয়েছে।’

বাংলা ট্রিবিউন–এর সাংবাদিক সোহায়েল আহমেদ বলেন, ‘কয়েকজন মিলে আমাদের ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তারা হামলা চালায়। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে সাংবাদিকরা অন্তত স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।’

ঢাকা স্ট্রিম–এর সাংবাদিক রজব আল ফাহিম বলেন, ‘আমাকে অতর্কিতভাবে হামলা করেছে ছাত্রদল। মাথায়, পিঠে ও ঘাড়ে সবখানে লাটি দিয়ে এলোপাতাড়ি মেরেছে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে সাংবাদিকরা ছবি, ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় কয়েকজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলায় তারা আহত হন। পাশাপাশি কয়েকজনের মোবাইল ফোন ও সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আহত সাংবাদিকদের প্রথমে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কয়েকজনের অবস্থার অবনতি হলে তাদের মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সদস্যরা তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও আঘাত। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের হামলা, নেপথ্যে টেন্ডার?

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন নিশ্চিতের দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করায় ছাত্রদলের হামলার শিকার হয়েছে ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ক্যাম্পাসে দফায় দফায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলার নেপথ্যে কারণ হিসেবে ২য় ক্যাম্পাসের টেন্ডার ভাগাভাগিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এদিন জবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত জুলাই প্রদর্শনীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ। অনুষ্ঠানে ২য় ক্যাম্পাস সেনাবাহিনীকে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন নিশ্চিতকরণসহ ও মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নের দাবিতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন ইনকিলাব মঞ্চ ও জকসু নেতৃবৃন্দরা৷ এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদল বাধা দেয়৷ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়নে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করা হয়।

জানা যায়, কেরানীগঞ্জে জবির নিজস্ব ৭ একর জমিতে ১৭০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন নির্মাণে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। সেখানে অস্থায়ী আবাসনের বদলে ৪০০ শিক্ষার্থীর জন্য ১০ তলা ভবন তৈরির উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের বদলে স্থায়ী ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্তের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ, শিবির, ছাত্রশক্তি ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।

এরই প্রেক্ষিতে সম্মিলিত প্রতিবাদ জানাতে আজ মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন শিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীরা৷ এসময় প্রোগ্রামস্থলে প্রবেশ করতে চাইলে জকসু ভিপি ও ইনকিলাব মঞ্চ নেতাদের ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন জবি প্রক্টর ও ছাত্রদল। পরে তারা কিছুদূর সরে গিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন৷ এসময় প্রক্টর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এসে ভিপি রিয়াজুল ইসলামকে বলেন, তোমরা এখান থেকে না উঠলে সিন ক্রিয়েট করে ছাত্রদল দিয়ে হামলা করানো হবে৷ তখন ভিপি রিয়াজুল ইসলাম অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন৷ এরপরই ছাত্রদলের নেতৃত্বে একযোগে শিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রফ্রন্টের ওপর হামলা শুরু হয়।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ২য় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তরের বিরোধীতা করে আসছে জবি শাখা ছাত্রদল। একটি বেসরকারি টেলিভিশনে টকশোতে ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন সেনাবাহিনীকে কাজ হস্তান্তরের প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্যও দিয়েছিলেন। বর্তমান ২য় ক্যাম্পাসের প্রথম ধাপের কাজ সেনাবাহিনীর অধীনে চলমান রয়েছে। তবে ২য় ধাপের কাজ সেনাবাহিনীকে দেয়ার বিরোধিতা করছে জবি প্রশাসন ও ছাত্রদল।

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেকদের একটি সুসংগঠিত চক্র টেন্ডার ভাগাভাগি নিয়ে তৎপর রয়েছে। অপরদিকে ২০ কোটি টাকার আবাসিক হল নির্মাণের কাজ ছাত্রদলের এক নেতাকে দেয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন ও ছাত্রদল।

এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের টেন্ডার ভাগাভাগির সহযোগী হিসেবে রয়েছে পুরান প্রভাবশালী বিএনপি নেতারা। এসব নেতাদের ইশারায় কবি নজরুল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদল ও স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীরা সুসংগঠিতভাবে হামলা করেছে বলে জানা যায়।

জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমাদের দাবি হলো দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় ধাপের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে দেওয়া। যাতে করে আগের মত লুটপাট না হয় কিন্তু তাদের দাবি এটা তারা ঠিকাদার দিয়ে করবে। সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার এই কাজের সুফল যদি শিক্ষার্থীরা না পায়। আর টাকা চলে যায় একটা গোষ্ঠীর পকেটে। তাহলে এই জুলাই বিপ্লব আর এত মানুষের জীবনের মূল্য কোথায়? ইতোমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি ২০ কোটি টাকার স্থায়ী আবাসন নির্মাণের কাজ পাচ্ছে ছাত্রদলের এক নেতা৷

অভিযোগ অস্বীকার করে এদিন বিকাল ৫ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনে সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ এসে ক্যাম্পাসে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। প্রশাসন তাদের বারবার নির্বৃত্ত করার চেষ্টা করে। আমরা তাদের সাথে কথা বলতে গেলে আমাদের দিকে তেঁড়ে আসে তারা৷ তাই ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিলে শিবিরের সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছি।

বিকাল সাড়ে ৪ টায় উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, আমি অনেক অনুরোধ করে ইউজিসি চেয়ারম্যানকে আমাদের প্রোগ্রামে আসতে রাজি করিয়েছি। তার কাছে আমাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরার প্রত্যাশা রেখেছিলাম। কিন্তু এভাবে একজন সম্মানিত মেহমানকে অপমানিত করা কোনোভাবে ঠিক হয়নি। যারা এসব কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জকসুর জিএস ও জবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের উপর নগ্নভাবে হামলা চালিয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থী, জকসু নেতা, শিবির, ছাত্রশক্তির নেতাদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। তারা এভাবে ক্যাম্পাসগুলোতে ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করতে চায়।

এমনকি চিকিৎসা নিতে আসা আহতদের উপরও তারা ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে ঢুকে নগ্নভাবে হামলা চালিয়েছে। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনী করলে তাদের টেন্ডারবাজির রাজনীতি বিঘ্ন হবে তার জন্য এই হামলা করেছে তারা।

ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা ও জবি শিক্ষার্থী জাবির খান বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা প্লাকার্ড প্রদর্শন করতে গেলে ছাত্রদল বাধা দেয়। তারা যখন বাইরে এটা নয়ে বসে তখন রাদের উপর হামলা চালায়। নগ্ন ও অতর্কিত হামলা চালায়। জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা এটা চাই নাই। টোকাই বাহীনী নিয়ে ইমার্জেন্সির ভেতরে ঢুকে মারছে। আহত চিকিৎসাও নিতে দেয়নি তারা।

জকসু ভিপি ও জিএসকে মেরে ক্যাম্পাসছাড়া করল ছাত্রদল

জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফকে বের করে দিচ্ছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফকে মেরে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সংঘর্ষের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি রিয়াজুল ইসলামকে ঘিরে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে তাকে একটি রিকশায় তুলে দেওয়া হয়। একইভাবে জিএস আব্দুল আলিম আরিফকেও ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ ঘটনায় জড়িতরা ছাত্রদলের নেতাকর্মী।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন।

হামলায় আহত সাংবাদিকদের মধ্যে সুহায়েল আহমেদ, মোহন খন্দকার, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রজব আল ফাহিম, কামরুজ্জামান কায়েস, জুয়েল মিয়ার নাম জানা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক ড. রিফাত হাসান আহত হয়েছেন বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া হামলার ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক এবং সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফারুক আহত হয়েছেন। এছাড়া জবি শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহীন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসে শেখ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জবি শাখার সভাপতি ইভান তাহসিভ, কয়েকজন শিক্ষকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মাথায় হেলমেট, হাতে লাঠি, সংঘর্ষের নেতৃত্বে যুবদল নেতা নয়ন

আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, হাতে পাইপ মাথায় হেলমেট পড়ে মাঠে যুবদল নেতা নয়ন

ছবি -ইত্তেফাক

এদিকে, পরনে সাদা পাঞ্জাবি, মাথায় হেলমেট আর হাতে পাইপ-এভাবেই ঢাকা আলিয়া মাদরাসা এলাকায় ছাত্রশিবিরের ওপর হামলার সময় মাঠে দেখা গেছে যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নকে। এক স্থান থেকে আরেক স্থানে দৌড়াতে এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থান নিতে দেখা যায় তাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সংঘর্ষের সময় তিনি ছাত্রদলের পক্ষে সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেন। রবিউল ইসলাম নয়ন যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব। সংঘর্ষের সময় তাকে সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় মাথায় হেলমেট ও হাতে লাঠি বা জিআই পাইপ নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান করতে দেখা যায়। এ সময় তিনি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থান নেন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গেও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন নয়ন। ঘটনাস্থলে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তাকে বলতে শোনা যায়, “তারা (শিবির) গুলি করছে, আপনারা কিছু করছেন না কেন?” প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ পরস্পরকে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া করে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সন্ধ্যা সাতটার দিকে আলিয়া মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। Time & Calendars

এ ঘটনায় রাতে বিক্ষোভ মিছিল করার কথা জানিয়েছে ছাত্র শিবিরি। রাত ৮টায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে মিছিল শুরু হয়ে ৯ টায় কেন্দ্রীয় অফিসে সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা

জবিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার আহত সাংবাদিকরা হলেন, বাংলা ট্রিবিউন এর জবি প্রতিনিধি সোহায়েল আহমেদ, আজকালের খবর এর কায়েস মাহমুদ, আমার সংবাদ এর আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা স্ট্রীমের রজব আল ফাহিম, প্রাইম বাংলাদেশ এর মোহন খন্দকারসহ আরও কয়েকজন।

শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে গিয়ে অবরুদ্ধ শিক্ষক

আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাই, অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক। পরবর্তীতে হাসপাতালের ভেতরে ছাত্রদল হামলা চালায়ে তাঁরা অবরুদ্ধ হন, কিচেনে অব¯’ান নেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে পিছনের গেট দিয়ে বের হয়ে যেতে বললে শিক্ষার্থীদেরকে রেখে তারা হাসপাতাল থেকে বের হতে অস্বীকৃতি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি গঠন

এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

সংঘর্ষে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আহত

রাজধানীর চকবাজার থানাধীন সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হক ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের সময় গুরুতর আহত হয়েছেন।

রাজধানীর চকবাজার থানাধীন সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হক ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের সময় গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে এই ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষের সময় অধ্যক্ষ মাথায় আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হন এবং পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কর্মসূচি পালনের সময় ছাত্রদল ছাত্রশিবিরের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছাত্রদল নেতারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে শাসায়। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের প্রভোস্টের পক্ষেও হামলা চালিয়েছিল ছাত্রদল। তারই ধারাবাহিকতায় আজ জগন্নাথে হামলা হয় এবং পরবর্তীতে এ সহিংসতা ঢাকা কলেজ ও সরকারি আলিয়া মাদ্রাসাতেও ছড়িয়ে পড়ে। তাদের সহিংসতা থেকে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হকও রেহাই পাননি। তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং তার মাথা ফেটে যায়।

ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসা এবং এর আশেপাশের বকশীবাজার এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ঢাকা কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের মারামারি, কয়েকজন আহত

ঢাকা কলেজের সামনের পরিস্থিতি

ঢাকা কলেজে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এরপর বেলা সাড়ে ৫টার দিকেও ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ দুপুরে কলেজের গ্যালারি-২ তে শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় আয়োজন করা হয়েছিল। শাখা শিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে ৫/৬ গ্যালরি ডেকেরেশনের কাজ করছিল। এমন সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে অতর্কিত আব্দুল মালেকসহ অন্যান্যদের মারধর করে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য পপুলার মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

গ্রাফিক্স আর্টস কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গ্রাফিক্স আর্টস কলেজে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের সিটি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) মোহাম্মদপুর থানার সামনে গ্রাফিক্স আর্টস কলেজ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কলেজ ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘাতের জের রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ এলাকা, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায়ও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে গ্রাফিক্স আর্টস কলেজের পরিস্থিতিও উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে।