• ৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৩শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৪শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ডকুমেন্টারি নিয়ে যে যা বললেন

Usbnews.
প্রকাশিত আগস্ট ৫, ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ডকুমেন্টারি   নিয়ে যে যা বললেন
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির ক্ষোভ : সরকারের জুলাই ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদ নেই
‘যে ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদ নেই, সেটি কোনো ডকুমেন্টারিই হতে পারে না।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের ছবি বা উপস্থিতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যে ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদ নেই, সেটি কোনো ডকুমেন্টারিই হতে পারে না। সম্প্রতি আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ডকুমেন্টারিতে অভ্যুত্থানের মূল ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে একটি সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ডকুমেন্টারিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতীক শহীদ আবু সাঈদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি না থাকায় বিতর্ক ও বিক্ষোভ শুরু হয়। অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত শহীদ পরিবারের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিদের একটি অংশ প্রতিবাদ ও ওয়াকআউট করেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্বীকার করেন যে ডকুমেন্টারিতে বেশ কিছু ভুল ও ঘাটতি ছিল। তিনি বলেন, আবু সাঈদ এই বিপ্লবের প্রতীক ও মূল চালিকাশক্তি, তাঁর ছবি ছাড়া এটি সম্পূর্ণ হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী প্রকাশ্যেই ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করায় তিনি সবাইকে শান্ত থাকার এবং জাতীয় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা না করার আহ্বান জানান।

 

রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে যা ঘটেছে, আমরা সবাই বিব্রত: নাহিদ

রাষ্ট্রপতির (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি) উপস্থিতিতে আজকে যা ঘটেছে, সেটার জন্য আমরা সবাই বিব্রত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় আমরা এমন বিভাজন দেখেছি। এটা আমাদের কারো জন্যই কাম্য নয়।’

বুধবার (৫ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা আশা করবো জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো সার্বজনীনভাবে পরিচালিত হবে। সার্বজনীন বক্তব্য ও ইতিহাস উপস্থাপন করা হবে। যাতে আমরা সবাই সমানভাবে সেটির অংশীদারিত্ব অনুভব করতে পারি। দিনশেষে তো এই গণঅভ্যুত্থান জনগণের। জনগণের কৃতিত্ব যাতে জনগণকে ফিরিয়ে দিতে পারি।

এই ধরনের অনুষ্ঠানে যদি দলীয় ইতিহাস বা ন্যারেটিভ প্রচার করা হয়। তাহলে বিরোধী দল বা ভিন্ন দলের অংশগ্রহণের জায়গাটা সংকুচিত হয়ে আসে।

 

ঢাবি শিক্ষক আসিফ শাহান : ‘পিএমওর ভিডিও না দেখলে জানতামই না, তারেক রহমানের আহ্বানে আমরা রাজপথে নেমেছিলাম’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমওর) ভিডিও না দেখলে জানতামই না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বানে এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমরা জুলাই আন্দোলনে রাজপথে নেমেছিলাম; জুলাই আন্দোলনে বিএনপির একক ক্রেডিটের সমালোচনা করে এ মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ মোহাম্মদ শাহান।

তিনি বলেছেন, “যখন এই ভিডিও সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়; তখন পুরো গণঅভ্যুত্থানকে একজন নেতার আহ্বানের ফল হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না; বরং তা বিভ্রান্তিকর।”

বুধবার (৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া নিজ অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক ড. আসিফ মোহাম্মদ শাহান লেখেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমওর) প্রকাশিত ভিডিওটি দেখলাম। সত্যিই বেশ ‘চমকপ্রদ’। এতদিন তো জানতামই না যে ‘ছাত্র-জনতা’-আমাদের অনেকেই-নাকি তারেক রহমানের আহ্বানে এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাজপথে নেমেছিলাম।”

তিনি বলেন, “এই ভিডিওটি যদি বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রকাশ করত এবং সেখানে নিজেদের নেতাকর্মীদের ভূমিকা তুলে ধরত, তাহলে সেটি স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণযোগ্য হতো। কিন্তু এটি যখন সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়, তখন পুরো গণঅভ্যুত্থানকে একজন নেতার আহ্বানের ফল হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না; বরং তা বিভ্রান্তিকর।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বহু মানুষের সম্মিলিত আত্মত্যাগ, সাহস এবং অংশগ্রহণের ফল। সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন ও সাধারণ মানুষের অবদান স্বীকার করার বদলে যদি পুরো কৃতিত্ব একটি পক্ষের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে সেটি সত্যিই উদ্বেগজনক।”

সবশেষে ড. আসিফ মোহাম্মদ শাহান বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-ইতিহাসকে নিজের মতো করে লিখতে গেলে শেষ পর্যন্ত নিজের মিত্রদের মধ্যেই বিভাজন তৈরি হয়। এতে শুধু যারা পাশে ছিল তারাই দূরে সরে যায় না, বরং যারা শুরু থেকেই এই আন্দোলনকে অস্বীকার করে এসেছে, তারাও নিজেদের সুবিধামতো আরেকটি ভিন্ন বয়ান দাঁড় করানোর সুযোগ পায়। আমরা অতীতেও এমন ঘটনা দেখেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মনে হচ্ছে আবারও সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে “

 

সারজিস আলম : ‘ডকুমেন্টারিটা দেখলে মনে হতে পারে জুলাইয়ে বিএনপির দলীয় অভ্যুত্থান হয়েছে’

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রের সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, এটি দেখে মনে হতে পারে জুলাইয়ে কোনো গণঅভ্যুত্থান হয়নি বরং বিএনপির দলীয় অভ্যুত্থান হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সারজিস আলম লিখেছেন, ‘চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি দেখিয়েছে। সেখানে ৩ আগস্ট ঘোষিত জুলাইয়ের এক দফা নেই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম-চিহ্ন পর্যন্ত নেই। ডকুমেন্টারিটি দেখলে মনে হতে পারে, জুলাইয়ে কোনো গণঅভ্যুত্থান হয়নি, বিএনপির দলীয় অভ্যুত্থান হয়েছে।’

তিনি আরও দাবি করেন, ‘ইতিহাসকে দখল করার যে প্রবণতা আওয়ামী লীগের ছিল, বিএনপিও সেটিই অনুসরণ করছে বলে মনে হচ্ছে।’

পোস্টে সারজিস আলম আরও লেখেন, ‘এই দলীয় সংকীর্ণতা ও দেউলিয়াত্ব নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন, ডিয়ার বিএনপি? শুধু মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ দিয়ে এই দলীয়করণ ও ইতিহাস দখলের কলঙ্ক মুছে ফেলা যাবে না।’

জুলাইয়ের পরে বেঁচে থাকাটাই আমাদের অপরাধ: মাহিন

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি ডকুমেন্টারির প্রতিবাদ করায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকারকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে মাহিন সরকার এ অভিযোগ করেন।

ফেসবুক পোস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দাবি করেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ডকুমেন্টারিতে ‘এক দফা’ আন্দোলনের ঘোষক হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদ জানানোয় রাষ্ট্রপতির সামনেই তার ওপর হামলা চালানো হয়।

তিনি লিখেছেন, আমি আজকের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ডকুমেন্টারির প্রতিবাদ করেছি। রাষ্ট্রপতির সামনে আমাকে হামলা করা হয়েছে এবং আমি এটি নিয়ে গর্বিত। ওই ডকুমেন্টারিতে এক দফার ঘোষক বানানো হয়েছে তারেক রহমানকে।

এনসিপি যুগ্ম সদস্যসচিব আরও লিখেছেন, যে নাহিদ ইসলাম নিজের মৃত্যু পরোয়ানায় সই করে এক দফার ঘোষণা দিলেন, তিনি ইতিহাসে নেই। যেই আসিফ মাহমুদ মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ ঘোষণা করলেন, তিনিও ইতিহাসে নেই। জুলাইয়ের পরে বেঁচে থাকাটাই আমাদের অপরাধ। গণঅভ্যুত্থানে আমার নেতা নাহিদ ইসলাম আর আসিফ মাহমুদ। তাদের পদসেবা করা আমার পরম সৌভাগ্য। যেখানে তারা নেই, সেখানে আমিও নেই।