আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে। বিএনপি ধোঁকাবাজ। আওয়ামী লীগ যা করেছে সাড়ে ১৫ বছরে, বিএনপি পাঁচ মাসে তা দেখিয়ে দিয়েছে। বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বিএনপি। আপস করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক দিনে শিক্ষাঙ্গনে যা হচ্ছে, ছাত্র আর শিক্ষকরা আতঙ্কিত। দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। আরেকটা বিপ্লব সন্নিকটে। সব দেখে মনে হচ্ছে আরেকটা অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে বুধবার সকালে রাজধানীতে এক গণসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য এই সমাবেশের আয়োজন করে। গণসমাবেশে জামায়াতের আমির বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে গড়ে ওঠেনি; এটি ছাত্র ও তরুণ সমাজের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি গণআন্দোলন। এই আন্দোলনের কৃতিত্ব জনগণের এবং নেতৃত্বের কৃতিত্ব তরুণ সমাজের। জুলাই আন্দোলনের একক ‘মাস্টারমাইন্ড’ নেই। আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড ১৮ কোটি নির্যাতিত মানুষ।
শহিদদের নিয়ে রাজনীতি হোক-সেটি পছন্দ করেন না বলে মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, শহিদেরা কোনো দলের নয়, জাতির সম্পদ। আহত ও পঙ্গু হয়ে যাওয়া জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং শহিদ পরিবারগুলোর সম্মানজনক পুনর্বাসন নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি। জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, কার সঙ্গে আঁতাত করে জনগণের দাবিগুলো উপেক্ষা করা হচ্ছে, সেটি তারা জানতে চান। এর জবাব প্রধানমন্ত্রীকে দিতে হবে।
সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী যেসব দাবি করেছিলেন, এখন সেগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা করা হচ্ছে।’ গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

গণসমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বলতে চাই, বিভেদ সৃষ্টি করবেন না। আপনার চারপাশের লোকজন থেকেই আপনার বিপদ, আমাদের কাছ থেকে কোনো বিপদ নেই। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আজ মানুষের একটাই দাবি-গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় পাঁচ বছর নয়, পাঁচ মাসের মধ্যেই সরকারের পতন ঘটানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সতর্ক করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, তার নিজ দলের নেতারাই তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান না। দলের ভেতরে থাকা ‘দালালরাই’ তার জন্য সবচেয়ে বড় বিপদের কারণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সমাবেশে অলি আহমদ বলেন, বিভেদ সৃষ্টি করে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না করতে তিনি গত কয়েক মাস ধরেই প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়ে আসছেন, যাতে করে তাদের পতন ত্বরান্বিত না হয়। মঙ্গলবার দেশের তিনটি স্থানে ঘটা হামলার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনাই প্রমাণ করে দলের ভেতরের একটি অংশ তারেক রহমানের পতন চায়। ষড়যন্ত্রকারীরা চারপাশেই অবস্থান করছে জানিয়ে তিনি নিজ দলের ভেতরের দালালদের দ্রুত চিহ্নিত করার আহ্বান জানান। এলডিপির দিক থেকে সরকারের কোনো বিপদের শঙ্কা নেই বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
রাজনৈতিক জোট ও অতীত প্রেক্ষাপট টেনে বিএনপির উদ্দেশে বেশ কিছু প্রশ্ন রাখেন এলডিপি চেয়ারম্যান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করেছিল। এছাড়া ২০০১ সালের মন্ত্রিসভায়ও জামায়াতের নেতারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যদিও তিনি নিজে সেই মন্ত্রিসভায় ছিলেন না। সে সময়কার মন্ত্রিসভাকে বা বিএনপিকে ‘রাজাকার’ বলা হবে কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের যুগপৎ আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। নিজে জামায়াতে যোগ দেননি স্পষ্ট করে অলি আহমদ জানান, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বিদেশি প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্র গঠন এবং ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসীরাই কেবল এখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির জানান, সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, আরেকটি বিপ্লব আসন্ন। সেই বিপ্লবের জন্য আমি দেশবাসীকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পাপের পরিণতি পেতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু একসময় সেই পাপই পচে গিয়ে ঝরে পড়ে। এখন সেই পাপে পচন ধরেছে। সরকার যদি তা বুঝতে পারে, তাহলে ভালো। না বুঝতে পারলে তাদের পতন কেউ ঠেকাতে পারবে না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আপনারাও মজলুম ছিলেন। অথচ যেসব জুলুম ও অপকর্মের বিরুদ্ধে মানুষ লড়াই করেছে, এখন আপনারা সেগুলোরই পুনরাবৃত্তি করছেন। ফ্যাসিবাদী আচরণ করলে জনগণ আপনাদের ফ্যাসিবাদী বলবেই। তাই ফ্যাসিবাদী আচরণ পরিহার করুন। জনগণকে সম্মান করলে জনগণও আপনাদের ফুল দিয়ে বরণ করবে। আমরা সবাই দেশকে ভালোবাসি। কিন্তু আল্লাহর কসম করে বলছি, বাংলার জমিনে কোনো ফ্যাসিবাদকে আমরা সহ্য করবো না।
শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের জনমত ও গণরায় মেনে নিন। ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অপমান করবেন না। জনগণের রায়কে অপমান করে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। ইতিহাস সাক্ষী, যারা জনগণের রায়কে অস্বীকার করেছে, তাদের অপমানজনকভাবে বিদায় নিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, আপস করার জন্য প্রতিনিয়ত আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, বিভিন্ন ধরনের লোভও দেখানো হচ্ছে। কিন্তু দেশবাসীকে সাক্ষী রেখে বলতে চাই, আপনাদের গণরায়ের পাহারাদারি আমরা করব, ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহর সাহায্যে এই দাবি আমরা আদায় করেই ছাড়ব। কোনো কিছুর বিনিময়ে, এমনকি জীবনের বিনিময়েও আমরা এই দাবি থেকে সরে আসব না। আল্লাহ তাআলার ওপর আমাদের পূর্ণ ভরসা। বাংলাদেশ আর কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করবে না। আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত, মানবিক, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ দেখতে চাই। সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে।
ভারত শেখ হাসিনাকে রাখতে চাচ্ছে না: আসিফ মাহমুদ
শেখ হাসিনাকে রাখার মধ্যে আর কোনো কূটনৈতিক পাওয়া-না-পাওয়ার বিষয় নেই। সম্ভবত ভারত আর শেখ হাসিনাকে রাখতে চাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, আমরা শুনলাম, ডিসেম্বরে তিনি (শেখ হাসিনা) বাংলাদেশে আসতে চান। আমার মনে হয়, এটা কোনো রিলায়েবল ঘোষণা নয়। আমাদের মনে হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকে কেন্দ্র করে সরকারকে এক ধরনের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা ভারত সরকারের যোগসাজসে এবং একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে সম্ভবত ভারত আর রাখতে চাচ্ছে না।
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছিল, তিনি যেন ভারত থেকে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারেন। বর্তমান সরকারও ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে একই কথা বলেছে।’
তিনি বলেন, ‘তার পরও যদি তিনি রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তাহলে বাংলাদেশে এমন ধারণা তৈরি হয় যে, ভারতের এক ধরনের ইন্ধনে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, তারেক রহমান বাংলাদেশে ভালো কিছু দিতে পারবেন না। তারেক রহমানের কোনো ভবিষ্যৎ নেই, ভবিষ্যৎ কেবল বাংলাদেশের জনগণের। তারেক রহমান ক্ষমতায় থাকবেন না, তার পতন ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। শেখ হাসিনার মতোই জনগণ তার বিচার করবে; এখানে কোনো নেগোসিয়েশন (আপস) হবে না। বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করেই আমরা এগিয়ে যাব।
ঐতিহাসিক দিনটির স্মৃতিচারণ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সেদিন বেলা তখন ১২টা। সকাল থেকেই পুরো বাংলাদেশ স্তব্ধ হয়ে ছিল। চারদিকে সেনাবাহিনী করিডোর দিয়ে রেখেছিল। আমি ও নাহিদ একটি বাসায় অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলাম। সকালবেলা আমরা বাইরে বের হতে চাইলে আমাদের সতর্ক করে বলা হয়, বের হলেই গুলি করা হবে। পরিস্থিতি বুঝতে আমরা বাসার নিচের একজন শিক্ষককে পাঠালাম। তিনি নিচে দেখে এসে জানালেন, বাইরে যাওয়ার কোনো পথ নেই। সেদিন সকালে আমাদের অনেক ভাই শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং তাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে বাংলার জাগ্রত জনতা সব বাধা-ব্যারিকেড ভেঙে রাজপথে নেমে আসেন। শেখ হাসিনাকে পাঁচ মিনিটের সময় দেওয়া হয়েছিল, হয় তিনি বাংলাদেশে জীবন দেবেন, না হয় ভারতে পালাবেন।
এনসিপির এই মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, সেই সময় তারেক রহমান বাংলাদেশে ছিলেন না। বাংলাদেশে ছিলেন কৃষক, মজুর, রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষ, গৃহিণী, আলেম এবং ছাত্ররা। তারেক রহমানের কোনো ছায়া আমরা সেদিন রাজপথে দেখিনি। এখন নতুন করে বাংলাদেশে এসে সব বোঝার আগেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু করেছেন। আমরা বলেছি, আপনাকে ক্ষমতায় থাকতে হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলার জনগণের রায় না মানার কারণে পাকিস্তানি জান্তাদের যে পরিস্থিতি হয়েছিল, আপনার ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি হবে। কারণ প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার আপনার নয়, এটা বাংলাদেশের জনগণের।
পাটওয়ারী বলেন, এক ব্যক্তি তাজমহল প্রায় একশত বার বিক্রি করেছিল। কিন্তু তাজমহলের মালিকানা কি কেউ নিতে পেরেছে? না। তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ভারত থেকে শুরু করে অনেক ‘ডিপ স্টেট’-এর কাছে তাজমহলের মতো বাংলাদেশকে বিক্রি করেছেন। এখন সবাই তার কাছে পাওনা চাইছে। কিন্তু বাংলাদেশের মালিকানা তারেক রহমানের নয়, বাংলাদেশের মালিকানা এ দেশের জনগণের। ক্ষমতার লোভে যদি কেউ বাংলাদেশের মাটি, বায়ু, পানি অন্য কোনো রাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করতে চায়, তবে আমরা রাজপথে থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব।
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনকে আলাদা করার চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা এবং মরহুম দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতিকৃতিতে হামলার নিন্দা জানান। সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের যেখানেই জুলুম হবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে উঠবে। প্রয়োজনে আবার মাদ্রাসাগুলো থেকে ‘আবাবিল’ রাজপথে নেমে আসবে। নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইলে শুরুতেই তা প্রতিরোধ করতে হবে।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলের নেতারা।