রুশ হামলার কারণে ইউক্রেনে কার্যত কোনো অক্ষত তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র অবশিষ্ট নেই বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
শুক্রবার সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচের সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
জেলেনস্কি জানান, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, জ্বালানি, অবকাঠামো, খাদ্য নিরাপত্তা এবং ইউক্রেনের পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন শীত মোকাবিলায় ইউক্রেনের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
তিনি বলেন, রুশ হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে আসন্ন শীত দেশটির জন্য বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি করতে পারে।
জেলেনস্কির ভাষ্য, রুশ হামলায় শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, রেলস্টেশন, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসামরিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ সময় ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়ায় সার্বিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান জেলেনস্কি। তিনি বলেন, সার্বিয়া ইউক্রেনের জন্য নতুন একটি মানবিক সহায়তা প্যাকেজ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মধ্যে চিকিৎসা ও জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বানও জানান জেলেনস্কি। চলতি বছরের শেষ নাগাদ চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণের কথা বলেন তিনি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়েও ভুচিচের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি। তিনি বলেন, কিয়েভ একটি ‘সম্মানজনক শান্তি’ এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চায়।
জেলেনস্কি আরও বলেন, যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অংশীদারসহ বিশ্বের প্রভাবশালী সব দেশের সঙ্গে কাজ করতে চায় ইউক্রেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি