বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পুনরায় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ। সংগঠনটি বলেছে, এনটিআরসিএর মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া বাতিল করে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হলে ঘুষ, তদবির, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির বাণিজ্য আবারও বিস্তার লাভ করবে।
আজ সোমবার এক বিবৃতিতে ছাত্রপক্ষের নেতারা বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের যে প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা বাতিল করা হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মেধার মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষক নিয়োগ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত অনুগ্রহের বিষয় নয়; এটি একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রশ্ন। অর্থ বা প্রভাবের মাধ্যমে একজন অযোগ্য ব্যক্তি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলে তার প্রভাব শুধু একটি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তার কাছে শিক্ষা নেওয়া অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ছাত্রপক্ষ আরও বলেছে, এনটিআরসিএকে শুধু নিবন্ধন ও সনদ প্রদানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে নিয়োগের চূড়ান্ত ক্ষমতা স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়া হলে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিবর্তে অর্থ ও তদবিরনির্ভর নিয়োগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, শিক্ষাকে দুর্নীতির বাজারে পরিণত করার যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে তারা রাজপথ ও জনপরিসরে সোচ্চার থাকবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে আপস করে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।
বিবৃতিতে তারা মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলে, ‘মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ চাই, ঘুষ-তদবিরের নিয়োগ নয়। শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আপস নয়।’