• ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৮শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ অব্যাহত

Usbnews.
প্রকাশিত আগস্ট ১১, ২০২৬
ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ অব্যাহত
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জামায়াতে ইসলামীর

বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার আজ সোমবার (১০ আগষ্ট) এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এনটিআরসিএ-এর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পুনরায় ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাব ও ঘুষ-বাণিজ্যের পুরোনো চক্র পুনরায় সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, “মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো যোগ্য, মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হলে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হবে।”

এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ প্রক্রিয়ায় মেধা, যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অনেকাংশে নিশ্চিত হয়েছে এবং শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যমান নিয়োগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও জটিলতাগুলো দূর করে সেটিকে আরও কার্যকর করার পরিবর্তে পুনরায় ম্যানেজিং কমিটির হাতে ক্ষমতা দেওয়া হলে অতীতে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে চিত্র দেখা গেছে, তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যোগ্য শিক্ষক ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।”রাজনীতি সংবাদ বিশ্লেষণ

অবিলম্বে এই উদ্যোগ বাতিলের জোর দাবি জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, এনটিআরসিএ-এর বিদ্যমান নিয়োগব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে হবে। প্রয়োজনে সরকারি কর্ম কমিশন (PSC)-এর মতো একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কাঠামোর মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করারও প্রস্তাব দেন তিনি। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে সরকারের এই উদ্যোগ অবিলম্বে পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত শিক্ষা ব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেক: ছাত্রশিবির

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পুনরায় স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সম্ভাব্য আত্মঘাতী ও নীতিবিবর্জিত সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি মনে করে, দেশের শিক্ষাখাত যখন নানাবিধ সংকটে জর্জরিত, তখন নিয়োগ প্রক্রিয়াকে পুনরায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের হাতে সোপর্দ করার এই উদ্যোগ প্রকারান্তরে শিক্ষা ব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেক ঠোকার শামিল।

আজ ১০ আগস্ট (সোমবার) এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, “একটি মেধাভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও উন্নত রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রধান শর্ত হলো মানসম্মত ও নৈতিকতাসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা। আর মানসম্মত শিক্ষার মূল কারিগর হলেন যোগ্য শিক্ষক। অতীতে স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যে নজিরবিহীন আর্থিক লেনদেন, চরম স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক আধিপত্য এবং জাল সনদের মহোৎসব দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে, তা থেকে উত্তরণের জন্যই এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে মেধাক্রমের ভিত্তিতে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বর্তমান নীতিনির্ধারকদের এমন একটি অন্ধকার যুগে ফিরে যাওয়ার চিন্তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

এনটিআরসিএ-এর সমস্যা ও সমাধান প্রসঙ্গে নেতৃবৃন্দ বলেন, “এনটিআরসিএ-এর বর্তমান পদ্ধতিতে দূরবর্তী কর্মস্থলে পদায়ন বা প্রশাসনিক ধীরগতির মতো কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা থাকতে পারে। এসব সমস্যার সমাধান নিয়োগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সুনির্দিষ্ট বদলি নীতিমালা প্রণয়ন এবং মেধাক্রম অনুযায়ী দ্রুত নিয়োগের মাধ্যমে করা সম্ভব। কিন্তু তা না করে নিয়োগের মূল ক্ষমতা পুনরায় স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হবেন এবং শিক্ষাব্যবস্থার মান আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একজন অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগের ক্ষতি শুধু একজন যোগ্য প্রার্থীর অধিকার হরণে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের ওপর।”

তারা আরও বলেন, “দেশের শিক্ষাখাতসহ প্রায় প্রতিটি সেক্টর যখন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তখন শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নতুন করে অনিয়মের সুযোগ তৈরি করা কোনোভাবেই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত হতে পারে না। মানসম্মত শিক্ষক, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করাই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মেধাভিত্তিক করা প্রয়োজন। সমস্যার সমাধান করতে হবে নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে, মেধাভিত্তিক কাঠামো দুর্বল করে নয়।”

অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করার আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, “শিক্ষাখাত জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এই খাতে এমন কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না, যা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও মেধার অবমূল্যায়নের পথ উন্মুক্ত করে। শিক্ষাব্যবস্থার স্বার্থে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই এমন আত্মঘাতী ও নীতিবিবর্জিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে।”

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে ফিরলে ‘ঘুষ, তদবির-বাণিজ্য’ বাড়বে: ছাত্রপক্ষ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পুনরায় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ। সংগঠনটি বলেছে, এনটিআরসিএর মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া বাতিল করে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হলে ঘুষ, তদবির, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির বাণিজ্য আবারও বিস্তার লাভ করবে।

আজ সোমবার এক বিবৃতিতে ছাত্রপক্ষের নেতারা বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের যে প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা বাতিল করা হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মেধার মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষক নিয়োগ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত অনুগ্রহের বিষয় নয়; এটি একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রশ্ন। অর্থ বা প্রভাবের মাধ্যমে একজন অযোগ্য ব্যক্তি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলে তার প্রভাব শুধু একটি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তার কাছে শিক্ষা নেওয়া অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ছাত্রপক্ষ আরও বলেছে, এনটিআরসিএকে শুধু নিবন্ধন ও সনদ প্রদানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে নিয়োগের চূড়ান্ত ক্ষমতা স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়া হলে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিবর্তে অর্থ ও তদবিরনির্ভর নিয়োগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, শিক্ষাকে দুর্নীতির বাজারে পরিণত করার যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে তারা রাজপথ ও জনপরিসরে সোচ্চার থাকবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে আপস করে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।

বিবৃতিতে তারা মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলে, ‘মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ চাই, ঘুষ-তদবিরের নিয়োগ নয়। শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আপস নয়।’

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পুনরায় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি – এনসিপি।

 

এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে অর্পণের মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার তরুণদের শেষ আশ্রয়স্থলটুকুও কেড়ে নেওয়া হবে।
– নাহিদ ইসলাম এমপি 
নিজের দলীয় নেতাকর্মীদের ১৭ বছরের ক্ষুধা মেটাতেই সরকার ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
– আব্দুল হান্নান মাসউদ এমপি 
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা কোনোভাবেই ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়া যাবে না।
– নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
স্কুলগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না।
– আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া
শিক্ষার মান ও প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই বাতিল করতে হবে।
– হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি