• ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৩০শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য , ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে ভোটাধিকারের সুযোগ নেই

Usbnews.
প্রকাশিত আগস্ট ১১, ২০২৬
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : সরকার ও  নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য , ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে ভোটাধিকারের সুযোগ নেই
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট।

আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। সেদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট নেওয়া হবে।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে এমপি পদ থাকবে না: চিফ হুইপ

আসন্ন ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে কে প্রার্থী হচ্ছেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি।

এর আগে সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শুরু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নূরুল ইসলাম মনি জানান, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পিকারের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে এবং ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ থাকবে।

চিফ হুইপ বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী ভোট হবে। জাতীয় সংসদ ভবনেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং সংসদ সদস্যরা তাদের জাতীয় আসন নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন। ফলাফল প্রকাশের জন্য শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারবেন না। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে না।

দলের বাইরে ভোট দিলে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর হবে কি না, তা রাজনৈতিক প্রশ্ন: ইসি সচিব

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নিজ দলের প্রার্থীর বাইরে ভোট দেওয়ার বিষয় বা এতে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর হওয়া না-হওয়া সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সংসদ সচিবালয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক যৌথ প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিনি জানান, এটি রাজনৈতিক নেতাদের বিষয়, যা নির্বাচনের কারিগরি ও আইনি পরিচালনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬-এর ভোট গ্রহণের সার্বিক বিষয় চূড়ান্ত করা হয়। আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যরা তাদের নিজ নিজ আসনে অবস্থান করবেন এবং নির্বাচন কমিশনের সহায়ক কর্মকর্তারা তাদের কাছে সরাসরি ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন। সংসদ সদস্যদের সুবিধার জন্য কক্ষে ৩টি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখা হবে।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয় যে, নির্বাচনে যদি কোনো রাজনৈতিক দল যেমন জামায়াতে ইসলামী বা বিএনপি পৃথক প্রার্থী মনোনীত করে এবং কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীর বাইরে অন্য কোনো প্রার্থীকে বা বিরোধী বলয়ের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করেন, তবে সে ক্ষেত্রে ভোটারদের প্রাপ্ত ভোট হিসেবে গণ্য করা হবে কি না এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের আসন বাতিল বা অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।

এর জবাবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা ক্রসিং ভোটিং সংক্রান্ত জটিলতা সম্পূর্ণই রাজনৈতিক নেতাদের বিষয়। এ বিষয়গুলো রাজনৈতিক আলোচনার আওতাভুক্ত এবং নির্বাচনের কারিগরি ও আইনি পরিচালনা পদ্ধতির সঙ্গে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। কমিশনের মূল লক্ষ্য একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত নিয়মে নির্বাচন সম্পন্ন করা।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক দল হতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়ার বিষয়ে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ-এ বলা হয়েছে, কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি- উক্ত দল থেকে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে। তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না।

 নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সরাসরি সম্প্রচার হবে: ইসি সচিব

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, এতে শুরুতে লাইভ টেলিকাস্ট হবে এবং সাংবাদিকদের বসার ব্যবস্থা থাকবে।

আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়ে জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান ইসি সচিব।

গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সহাবুদ্দিন অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০ আগস্ট ভোটের তারিখ রেখে তফসিল দেয় ইসি। এবার বিএনপি ও জামায়াত জোট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হতে পারে।

ভোটদানের পদ্ধতির বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, সংসদ সদস্যরা (এমপি) তাঁদের নিজ নিজ আসনে বসবেন। নির্বাচন কমিশনের সহায়তাকারী কর্মকর্তারা (স্পিকারসহ ২০ জন) ব্যালট পেপার সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেবেন। সদস্যরা তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে চিহ্নিত করে সামনে রাখা তিনটি ব্যালট বাক্সের যেকোনোটিতে ভোট দেবেন।

গণনা ও ফলাফল ঘোষণার বিষয়ে ইসি সচিব জানান, বিকেল ৫টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অধিবেশনকক্ষেই ভোট গণনা করা হবে। মোট ব্যালটসংখ্যা ৩৪৯। গণনা শেষে প্রাথমিক ফলাফল সেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ঘোষণা করবেন এবং পরে সচিবালয় থেকে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সংসদ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে এবং সংবাদকর্মীদের জন্য নির্ধারিত বসার ব্যবস্থা থাকবে।

ইসি সচিব বলেন, ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে। একটা হচ্ছে মুড়ি, এতে ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর ও স্বাক্ষরের জায়গা থাকবে। অন্য অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে এবং পাশে ভোটারকে নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে।