• ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৯শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

এমপির নাছির উদ্দিনের গলায় রামদা ঠেকিয়ে বাড়িসহ সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ, তিন সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা

Usbnews.
প্রকাশিত আগস্ট ১১, ২০২৬
এমপির নাছির উদ্দিনের গলায় রামদা ঠেকিয়ে বাড়িসহ সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ, তিন সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে  মামলা
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে গলায় রামদা ধরে বাড়িসহ সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল সোমবার এমপির স্ত্রী পারভিন আক্তার তাঁর তিন সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার প্রধান আসামিরা হলেন—নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন দিরাই উপজেলার মাতারগাঁওয়ের আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁওয়ের ছয়ফুল চৌধুরী, দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, তাজুল ইসলাম এবং মোহরার মমতাজ বেগম।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, অসুস্থ নাছির চৌধুরীকে গলায় ‘রামদা’ ধরে বাড়িসহ সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন তার সৎ ভাইয়েরা। অভিযোগে আরও বলা হয়, নাছির চৌধুরীর বাড়িসহ সম্পত্তি থেকে তার দুই স্ত্রী ও সন্তানদের বঞ্চিত করে সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য অনেক আগেই পরিকল্পনা করে আসামিরা। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দুই কর্মচারীকে অফিসার সাজিয়ে শারীরিকভাবে অসুস্থ নাছির চৌধুরীকে দলিলে স্বাক্ষর করতে বললে তিনি অসম্মতি জানান। পরে তারা গলায় রামদা ধরে স্বাক্ষর না করলে গলা কেটে খুন করবে বলে ভয় দেখায়। এ সময় তার অপর স্ত্রী শেলী চৌধুরী এসে বাধা দিলে আসামি মিজানুর রহমান চৌধুরী তাকেও খুন করার হুমকি দেয়। পরে শেলী চৌধুরী মেঝেতে ঢলে পড়ে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়, ওই সময় নাছির চৌধুরীর টঙ্গর এলাকার সমর্থক ওয়াকিব হাসান তাকে দেখতে ওইখানে যান। তখন মঈন উদ্দিন চৌধুরীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে ওয়াকিবকে ওই সময় বাড়ি থেকে বের করে করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে পারভিন আক্তার মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার হন বলেও মামলায় উল্লেখ করেন তিনি।

মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা আদালতের বিচারক মো. জসিম। তিনি মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পারভিন আক্তারের পক্ষে আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন আইনজীবী কাওছার আলম।

মামলার বিষয়টি জানার পর আইনিভাবেই জবাব দেবেন বলে জানিয়েছেন এমপি নাছির চৌধুরীর ছোট ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী (মাসুক চৌধুরী)।