• ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৩০শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ভারতের ‘র’ প্রধানের বাংলাদেশ সফর নিয়ে জল্পনার কিছু নেই : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

Usbnews.
প্রকাশিত আগস্ট ১১, ২০২৬
ভারতের ‘র’ প্রধানের বাংলাদেশ সফর নিয়ে জল্পনার কিছু নেই : প্রধানমন্ত্রীর  উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ভারতের ‘র’ প্রধানের বাংলাদেশ সফর নিয়ে জল্পনার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘র’ প্রধান চীন থেকে ঢাকা এসেছেন। এটা তার এক ধরনের সফর। হয়তো তার সফর শেষে সরকার কোনো বিবৃতি দিলেও দিতে পারে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এসএসসি ও সমানের পরীক্ষায় পাশের হার কমার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এবার জিপিএ-ফাইভ এবং পাশের হার কমেছে। যেনতেনভাবে নম্বর দেওয়া ও পাশ করানোর প্রবণতা ছিল একটা সময়ে। এ সরকার শিক্ষার মানের দিকে খেয়াল রাখবে, সেটি প্রথমেই জানান দেওয়া হয়েছিল।

জ্বালানি তেল সরবরাহের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে নিরবচ্ছিন্ন এবং নিরাপদ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহণ, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা-২০২৬-এর খসড়া প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত নীতিমালা প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা। এ ছাড়াও একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে জরুরি বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে বিদ্যমান সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সক্ষমতাকে জাতীয় স্বার্থে এ নীতিমালার লক্ষ্য। এ নীতিমালার মাধ্যমে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। ভারতের পক্ষ থেকেও আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় ভারতে যেতে পারেন।’

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘বন্ধু পাল্টানো যায়, কিন্তু প্রতিবেশী পাল্টানো যায় না।’

দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ ও কথাবার্তা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র)-এর একজন প্রতিনিধি ঢাকায় এসেছেন। দুই দেশের গোয়েন্দা প্রধানদের মধ্যে বৈঠক হতে পারে। ‘র’ প্রধানের বাংলাদেশ সফর গোপন কোনো বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এখন নতুন করে তৈরি হবে। গত ১৭ বছর যেভাবে দুই দেশের সম্পর্ক পরিচালিত হয়েছে, তার বাইরে গিয়ে সমতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে।

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার সময়ের মতো ভারতের কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে কাজ করতে দেয়া হবে না বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘এখন থেকে সবকিছু স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আলোচনার মাধ্যমে করা হবে।’

ভারতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়েছে এ ব্যাপারে আমরা টাফ আছি। দুদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে যে আলাপ করছি, সেটির অনূকূল পরিবেশ ভারতের দিক থেকে তৈরি করতে হবে। শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করার কথা ছিল। আমরা একজন মৃত্যুদণ্ড আসামিকে ফেরত চাই, দেশে আইনের আওয়তায় আনতে চাই। সেটা তো হচ্ছেই না, এবার রীতিমত সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এ ব্যাপারগুলোকে ভারতকে আন্তরিকভাবে নিতে হবে। এ বার্তা শক্তভাবে দেয়া হয়েছে এটাতে কোনো সন্দেহ নেই।

বিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাওয়াত করা হয়েছে। এ ছাড়াও একটি দাওয়াত আছে। সরকার গঠনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় সফরের আমন্ত্রণ ছিল। সফর যেকোনো সময় হতে পারে।

সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে তিনি বলেন, সাকিব আল হাসান ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন, যে শেখ হাসিনার সঙ্গে এলাইনড হয় এবং এখনো আছে সে নষ্ট পচে যাওয়া মানুষ। তিনি এসব ফালতু কথা বলেন সরকারকে কিছুটা চাপে ফেলার জন্য। শুধু সাকিব আল হাসান নয় শেখ হাসিনাও বাংলাদেশে আসলে পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে আসবেন, পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাবেন, পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন বিচারিক প্রক্রিয়ায়। এরপর আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটা সবাই মেনে নেব। এটি ফ্যাসিস্ট আমল নয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। নিশ্চিতভাবে সবচেয়ে বীভৎস অপরাধীও সেটি সাকিব আল হাসান কিংবা হাসিনা যেই হোক যা যা নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার সেগুলো পাবেন।