• ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৩০শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স

Usbnews.
প্রকাশিত আগস্ট ১২, ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ  জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর সাময়িক বিরতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। বর্তমান গতিতে এআইয়ের উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে প্রযুক্তিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসকে কঠোর আইন করতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তিন এআই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ আহ্বান জানান স্যান্ডার্স। চিঠিটি পাঠানো হয়েছে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও অ্যামোডেই এবং মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে।

স্যান্ডার্সের ভাষ্য, এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই এসব প্রযুক্তির ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছে না। তাই মানবতার স্বার্থে এআইয়ের উন্নয়ন সাময়িকভাবে থামিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

চিঠিতে স্যান্ডার্স বলেন, ‘মানবতার স্বার্থে আপনারা আপনাদের দেওয়া কথা রাখুন। এআইয়ের উন্নয়ন স্থগিত করুন।’ তিনি আরও সতর্ক করেন, মানুষ যে প্রযুক্তিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সেটি তৈরির কাজ বন্ধ করা উচিত।

 

এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরতে স্যান্ডার্স সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেছেন। সেখানে এআই ব্যবহার করে নতুন ধরনের ভাইরাস তৈরির সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, এ ধরনের প্রযুক্তি ভুল মানুষের হাতে গেলে তা জৈব অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে এবং এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি কারণ হিসেবে তিনি সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা তুলে ধরেছেন। স্যান্ডার্সের দাবি, তিনটি প্রতিষ্ঠানই তাদের এআই মডেলের মাধ্যমে অন্য প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা প্রকাশ করেছে। তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনা এআই মডেলের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে।

বিশ্বের অন্যতম আলোচিত এআই গবেষক ইয়োশুয়া বেঙ্গিও এসব ঘটনাকে সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। স্যান্ডার্সও তাঁর এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত।

স্যান্ডার্স বলেন, সম্ভাব্য বিপজ্জনক ভাইরাস তৈরির সক্ষমতা এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও এআই প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নয়নের প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, এমন একটি প্রযুক্তিতে কেন হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যেটি সম্পর্কে কেউ এর ভবিষ্যৎ পরিণতি বা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে পারছে না।

তবে এআই মডেল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার দাবির সঙ্গে সব বিশেষজ্ঞ একমত নন। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এআই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্রযুক্তিকে অতিরিক্ত শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরতে কিছু ঘটনার গুরুত্ব বাড়িয়ে উপস্থাপন করতে পারে।

এর মধ্যেই এআইয়ের দ্রুত উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রযুক্তি খাতের ১ হাজার ৩০০-এর বেশি বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী পৃথক একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মনে করেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির গতি এত দ্রুত হয়ে উঠেছে যে এর ঝুঁকি শনাক্ত ও মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

খোলা চিঠিতে এআইয়ের সবচেয়ে উন্নত মডেলগুলোর উন্নয়নের গতি কমাতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, এতে নিয়ন্ত্রকদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে।

এআইয়ের সক্ষমতা নির্দিষ্ট ঝুঁকির সীমা অতিক্রম করলে উন্নয়ন স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি অবশ্য আগে থেকেই দিয়েছিল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে কোন পরিস্থিতিকে সেই সীমা অতিক্রম হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তা স্পষ্ট করেনি প্রতিষ্ঠানগুলো।

অ্যানথ্রপিক জানিয়েছিল, তাদের এআই মডেলের সক্ষমতা যদি নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়, তাহলে নতুন মডেলের উন্নয়ন বাড়ানো স্থগিত করা কিংবা ব্যবহার পিছিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে ওপেনএআই জানিয়েছিল, তাদের সর্বশেষ সাইবার নিরাপত্তা মডেল ‘অ্যাস্ট্রা’ ব্যবহার করে একটি প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রবেশের ঘটনার পর মডেলটির উন্নয়ন ধীর করা হবে। এআইয়ের সক্ষমতা গুরুতর ঝুঁকির পর্যায়ে পৌঁছালে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী উন্নয়ন বন্ধ রাখার কথাও জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

স্যান্ডার্সের দাবি, সেই পর্যায় ইতোমধ্যেই এসে গেছে। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, এআইয়ের সক্ষমতা এখন গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির সীমায় পৌঁছেছে।

এআই নিয়ে উদ্বেগের প্রসঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের মন্তব্যও তুলে ধরেছেন স্যান্ডার্স। তাঁর দাবি, এআই মডেলকে ‘ডিজিটাল পারমাণবিক অস্ত্রের’ সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এবং এগুলোকে ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক ক্ষমতাসম্পন্ন প্রযুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।