রাজশাহী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, জয়পুরহাট, বাগেরহাট, নাটোর, রাজবাড়ী, চট্টগ্রাম, ভোলা, চাঁদপুর, ফরিদপুর, যশোর, ঝিনাইদহ, পটুয়াখালী, বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় দিনে ১০-১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করেছেন অধিবাসীরা।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা-কর্ণফুলী এলাকায় গত কয়েক দিনে গড়ে ৭-৮ ঘণ্টার বেশি সময় লোডশেডিং হচ্ছে। ফটিকছড়ি পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, এর আওতায় প্রায় ২ লাখ ২ হাজার ৫০০ গ্রাহকের প্রয়োজন ৪৫ মেগাওয়াটের জায়গায় সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৩২-৩৭ মেগাওয়াট।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে রোববার রাত ১০টা থেকে সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৯ ঘণ্টায় ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হয়। তবে জেলার গ্রামাঞ্চলে ১৪-১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
পটুয়াখালী শহরের পাশাপাশি কলাপাড়া, গলাচিপা, বাউফল, দশমিনা, মির্জাগঞ্জ, দুমকী ও রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা লোডশেডিং নিয়ে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। কুয়াকাটা পৌর এলাকার বাসিন্দা মাসুদ পারভেজ সাগর বলেন, ‘বিদ্যুৎ একবার গেলে ২-৩ ঘণ্টায়ও আসে না।’ রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমন্তাজ ইউনিয়নের বাসিন্দা আইয়ুব খান বলেন, ‘দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ যায়। রাতে বিদ্যুৎ মোটেও থাকে না।
ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ মাদারীপুরবাসীও। দিনরাত মিলিয়ে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাজ বন্ধ রেখে বসে থাকছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। বিদ্যুৎ বিভাগ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহকের ১৭ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১১ মেগাওয়াট।
অপর দিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪ লাখ ২৩ হাজার গ্রাহকের ১০৬ মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫২ মেগাওয়াট।
এলাকায় যে পরিমাণ লোডশেডিং
ফকিরহাট পল্লী বিদ্যুতের জোনাল কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আনন্দ কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘ফকিরহাট উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ২২ মেগাওয়াট। আমরা পাই ১০ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ এবং এক ঘণ্টা লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছি।’
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম আব্দুল ফাত্তাহ বলেন, রাতে ১৫-১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বরাদ্দ দেওয়া হয় মাত্র ৭-৮ মেগাওয়াট।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মাহাবুবুর রশিদ জানান, বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ৫০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ করা হচ্ছে ২৭ মেগাওয়াট। এর ফলে এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) আজিজুল ইসলাম আজাদ সোমবার বলেন, আগের ২৪ ঘণ্টায় এ উপজেলায় বিদ্যুতের গড় চাহিদা ছিল প্রায় ১০ মেগাওয়াট। কিন্তু পাওয়া গেছে ৪-৫ মেগাওয়াট।
জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কালাই জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী মো. জোবায়ের আলী বসুনীয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, কালাই উপজেলায় যে পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন, তার প্রায় ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ২-৩ ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছে।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, বর্তমানে ৪০ শতাংশ লোডশেডিং হচ্ছে।
মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার অসিত সাহা বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। তাই আমাদের কিছুই করার নেই।’