ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় ও নিরাপদ করতে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এ চতুর্থ রেললাইন নির্মাণের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের (এনএফআর) জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন।সংবাদ বিশ্লেষণ সেবা
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ভারতের উত্তরবঙ্গের এই সংকীর্ণ ভূখণ্ডটি দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের সঙ্গে বাকি অংশের যোগাযোগের একমাত্র ভূ-রাজনৈতিক ও লজিস্টিক লাইফলাইন হিসেবে কাজ করে। এর কৌশলগত গুরুত্ব ও ক্রমবর্ধমান পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের চাপ সামাল দিতে সরকার এই করিডোরের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।
এনএফআর সূত্রে জানা গেছে, পূর্বে এই সেকশনে কেবল একটি তৃতীয় লাইন নির্মাণের প্রস্তাব থাকলেও বর্তমান কৌশলগত ও নিরাপত্তা চাহিদার কথা বিবেচনা করে একই সঙ্গে চতুর্থ লাইনেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, তিনমাই হাট ও বাগডোগরার মধ্যে প্রায় ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ডাবল-লাইন ভূগর্ভস্থ (আন্ডারগ্রাউন্ড) রেল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি কমাতেই এই সাবটেরিয়ান বা ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই করিডোরে ওভারগ্রাউন্ড ও আন্ডারগ্রাউন্ড মিলিয়ে রেল সক্ষমতা বাড়ানোর বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে চেতন কুমার শ্রীবাস্তব জানান, মালদা-নিউ জলপাইগুড়ি সেকশনটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংযোগের ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডস্বরূপ। ক্রমবর্ধমান যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা মেটাতে বর্তমানে বারসোই সেকশনে লাইন দ্বিগুণ করার কাজসহ পুরো কাটিহার বিভাগজুড়ে অবকাঠামো সম্প্রসারণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে পুরো রেল করিডোরে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং এলাকাটি আরও সুসংগঠিতভাবে বিকশিত হবে।
রেলওয়ের অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, গত বছর বিভিন্ন রুটে ৪২টি নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে এবং যাত্রীদের সুবিধার জন্য প্রায় ২৫০টি নতুন স্টপেজ যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন পুনর্গঠনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে, যা ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে শেষ হবে।
তিনি আরও বলেন, শিগগিরই যোগবানী, রাধিকাপুর ও বালুরঘাট থেকে নতুন লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালু করার চেষ্টা চলছে। এর ফলে সীমান্ত ও দুর্গম এলাকার যাত্রীদের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি হবে। এ ছাড়া এনএফআর নেটওয়ার্কের শতভাগ বিদ্যুৎায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং বৈদ্যুতিক ট্রেন চলাচল আরও সম্প্রসারণের কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি জানান, গুয়াহাটি ছাড়িয়ে তিনসুকিয়া ও আগরতলা পর্যন্ত দুই মুখেই বন্দে ভারত ট্রেন পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যাত্রীরা আরও দ্রুত ও আরামদায়ক রেল ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।