• ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১লা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৩রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

সচিবালয়ে বিএনপির বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন : জামায়াত বলছে হয়েছে , বিএনপির না

Usbnews.
প্রকাশিত আগস্ট ১৪, ২০২৬
সচিবালয়ে বিএনপির বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন : জামায়াত বলছে হয়েছে , বিএনপির না
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

প্রার্থী বাছাই করতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির বৈঠকের সংবাদের সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহাকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, সচিবালয়ের মতো নির্বাহী জায়গায় রাজনৈতিক দলের বৈঠকের ইতিহাস জানা নেই।

জামায়াতের এ নেতা বলেন, সচিবালয় হলো একটা নির্বাহী জায়গা, এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে! শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে এটা অতীতের রেকর্ড আমাদের জানা নাই। এই কাজটি উনারা করছেন! তাহলে ওনারা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখেন? আমার দলের মতো হলে গণতন্ত্র, না হলে স্বৈরতন্ত্র।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ওনাদের মহাসচিব বলেছেন সরকারের গত ৫ মাস বা ৬ মাসের কার্যক্রমে অতীত থেকে কোনো পরিবর্তন নাই।’

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা ও সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আযাদ।

অলি আহমেদের মনোনয়ন ফরমে প্রস্তাবক ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও সমর্থক ছিলেন এনসিপির আব্দুল্লাহ আল আমিন। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হবে বলেও আশা করেন জামায়াত নেতা।

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার পরও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষা ও গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার স্বার্থে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বলে জানান হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র চর্চার নতুন ধারা সৃষ্টি করতে চায়। ১৯৯১ সালে যদিও একটা সম্ভাবনা ছিল বিএনপির আসন কম থাকাতে। এখানে তো সেই সম্ভাবনাও নাই, বিএনপিতে আগেই নিজেদের মেজোরিটি (সংখ্যাগরিষ্ঠতা) সুনিশ্চিত কলাকৌশল করে করে নিয়েছে। সেই কারণে তাদের সেফ সাইড আছে। এখানে জিতব, কি হারব —এটা নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক এটা আমরা চায় না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যই আমরা এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।

১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী অলি আহমেদ সম্পর্কে জামায়াত নেতা বলেন, তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং জাতীয়ভাবে সমালোচনা বিতর্কের ঊর্ধ্বে। দেশের জন্য অনেক অবদান রেখে আসছেন দীর্ঘ সময় ধরে। একসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। আবার আলাদা দল করেছেন। এখন আবার আমাদের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে উনি রাজনীতি করে যাচ্ছেন। জাতি এটাকে অবশ্যই ইতিবাচক দেখছে এবং আমাদের ১১ দলের সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করছে।

তবে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গণতন্ত্র চর্চার পেছনে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বাধা তৈরি করেছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে এমপিরা ভোট দিতে পারবে না।’

বিএনপি চাইলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গোপন ব্যালটে ভোটের বিধান চালু করতে পারত বলেও দাবি করেন আযাদ। তিনি বলেন, সবাই মিলে যখন একমত (জুলাই সনদ) হয়েছি একটা অধ্যাদেশ জারি করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র উচ্চ পর্যায়ে থেকে চর্চা শুরু করার সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা করলেন না।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধিত হতো এবং এমপিরা স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট দিতে পারতেন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হওয়ার কথা জানিয়ে আযাদ বলেন, ‘গণভোটে এটা পাস হওয়ার পরও ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির একগুঁয়েমি এবং দলীয় সংকীর্ণতার কারণে দেশ স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে না পারার কারণে, গণতন্ত্রকে আবার সেই জনগণের অধিকারের জায়গা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে উনাদের গড়িমসির কারণে এই সংস্কারটা করছেন না। বিশেষ করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছেন না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে আমরা আশা করতাম কর্নেল অলি সাহেব বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন। কারণ সংসদ সদস্যদের কাছে উনি একজন গ্রহণযোগ্য যোগ্য প্রার্থী।’

সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আযাদ বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অবিকলভাবে বহাল আছে ততক্ষণ সেই অনুযায়ী সংসদ সদস্যদেরকে ভোট দিতে হবে।

নির্বাচনে কমিশনে নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমের বিষয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, তিনি বিএনপির ছিলেন, পরে ইসির অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ভবনে তিনি এখনো আছেন। ফলে ইসিকে বিএনপি তাদের দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করার চেষ্টা চালাচ্ছে, এ অভিযোগ সত্য।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, নাজিবুর রহমান মোমেন, কামাল হোসেন, আবদুল বাতেন, জয়নাল আবেদিন, রাশেদুল ইসলাম, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার, এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, মাহমুদা মিতু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দিন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ওমর ফারুক, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, খেলাফত আন্দোলনের মুফতি ফখরুল ইসলাম, এবি পার্টির আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, নেজামে ইসলামী পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতাহারী।

সচিবালয়ে বিএনপির কোনো বৈঠক হয়নি: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘বৈঠকে’ রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণায় জামায়াতের সমালোচনার জবাবে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতাদের ডেকে রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন, সেখানে কোনো বৈঠক হয়নি। তবে, আলোচনা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘আজকে কোনো বৈঠক ছিল না। যেহেতু তিনি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান, ওনাকে আমরা দায়িত্ব দিয়েছিলাম, উনি আমাদের ডেকে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সেখানে কোনো বৈঠক হয়নি।’

আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন জমা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন গয়েশ্বর।

নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও সমর্থক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

এর আগে, বেলা ২টার পরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল ইসিতে আসেন এবং বেলা ২টা ২৪ মিনিটে আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেন।

সচিবালয়ে বিএনপির প্রার্থিতার বিষয়ে বৈঠক সম্পর্কে জামায়াতের সমালোচনার জবাবে প্রতিনিধিদলের আরেক সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন দল থেকে এবং এই দল তাঁকে মনোনীত করেছেন। দলের মিটিং যেখানে হয়েছে, সেটা কোনো মিটিং নয়, যেটা হয়েছে আমরা আলোচনা করেছি। আলোচনা বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় হতে পারে। আগেই সিদ্ধান্ত ছিল, সেটাকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, আমাদের চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন।’

একই বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এটা স্থায়ী কমিটির বৈঠক ছিল না। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা আগেই দলীয় চেয়ারম্যানকে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

বিএনপির প্রার্থীর বিষয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দল ও জোট থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনীত করা হয়েছে। তাঁকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আগামী ২০ তারিখে (আগস্ট) নির্বাচিত করতে চাই।’

নূরুল ইসলাম বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি, নির্বাচিত হচ্ছি, নির্বাচন করছি। ১৭ বছর আন্দোলন করে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা সংসদ গঠন করেছি, সংসদে আজকে দেশের কার্যক্রম চলছে এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সবাই পরিশ্রম করছেন। সবাই চেষ্টা করছেন ১৭ বছরের জঞ্জাল আমরা গত ৫ মাসে যতখানি সম্ভব তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করছি, ভবিষ্যতে আরও করার চেষ্টা করব। তারই ফলে আগামী ২০ তারিখে আমাদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘গণভোটের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। গণভোট পুরোপুরি মানাও যাবে, না মানাও যাবে। কিন্তু আমরা মানব। সেই গণভোটটা আমরা পর্যায়ক্রমে সংসদে প্রতিফলিত করব। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা একটা আলাদা বিষয়। এটা নিয়ম রক্ষার কথাটা সঠিক না। হয়তো আপনারা বলতে পারেন তারা পরাজিত হবে জেনেও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান না করে অংশগ্রহণ করছে, এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি তাদেরকে অভিনন্দন জানাই।’

বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী কে হচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এটার জন্য অপেক্ষা করেন, পরে শুনবেন।’

বিএনপির নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ; রকিবুল ইসলাম বকুল; মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু; আখতারুজ্জামান মিয়া; এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) ; বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী, আবদুস সালাম আজাদ, ইমরান সালেহ প্রিন্স।