• ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

‘মুসলিম দেশের ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে নয়’, ঐক্য-সহযোগিতার আহ্বান ইরানের প্রেসিন্ডেন্টের

Usbnews.
প্রকাশিত আগস্ট ২৮, ২০২৬
‘মুসলিম দেশের ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে নয়’, ঐক্য-সহযোগিতার আহ্বান ইরানের প্রেসিন্ডেন্টের
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

কোনো মুসলিম দেশের ভূখণ্ড অন্য কোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

তিনি বলেন, কোনও মুসলিম দেশেরই উচিত নয় নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে প্রতিবেশীকে অনিরাপদ করে তোলা। একইভাবে কোনও মুসলিম দেশের ভূখণ্ড যেন অন্য কোনও মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা না হয়।

রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামিক ঐক্য সম্মেলনে দেওয়া সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে এসব কথা বলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

তিনি বলেছেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি; বরং আগ্রাসনকারীদের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ইরান কোনও দুর্বল অবস্থানে নেই এবং নিজেদের কীভাবে রক্ষা করতে হয় তা তারা ভালোভাবেই জানে।

নিজেদের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সময় নিজ দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে যাতে প্রতিবেশীদের ব্যবহার না করা হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করে আন্তর্জাতিক ইসলামিক ঐক্য সম্মেলনে পেজেশকিয়ান মুসলিম বিশ্বকে তাদের বৈচিত্র্য ও মতপার্থক্য সত্ত্বেও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সম্মেলনে মুসলিম দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) ৫৭টি সদস্যদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত বিস্তৃত। এসব দেশ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র ও স্থলপথ, সমৃদ্ধ জ্বালানি সম্পদ, তরুণ জনগোষ্ঠী এবং বিশাল বাজারের অধিকারী।

তবে জনসংখ্যা ও ভূ-কৌশলগত গুরুত্বের তুলনায় মুসলিম দেশগুলোর অর্থনীতির আকার এখনো ছোট বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ অবস্থায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট।

পেজেশকিয়ান জানান, ২০২৪ সালে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত অর্থনীতির আকার ছিল প্রায় ৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বিশ্ব অর্থনীতির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। তিনি উল্লেখ করেন, এসব দেশের মোট রপ্তানির মাত্র ১৯ শতাংশ নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য হয়, আর বাকি অংশ ওআইসির বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে হয়ে থাকে। এ পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।।