• ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৩রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

‘ইসরায়েলি’ বসতিগুলোর সাথে বাণিজ্য করার দায়ে কারাদণ্ডের প্রস্তাব দিয়েছে নরওয়ে

Usbnews.
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
‘ইসরায়েলি’ বসতিগুলোর সাথে বাণিজ্য করার দায়ে কারাদণ্ডের প্রস্তাব দিয়েছে নরওয়ে
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবস্থিত অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর সাথে যেকোনো ধরনের বাণিজ্য বা ব্যবসায়িক লেনদেন নিষিদ্ধ করতে একটি নতুন বিলের প্রস্তাব করেছে নরওয়ে সরকার। এই আইন অমান্য করলে ব্যক্তি বা কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

নরওয়ের প্রস্তাবিত এই নতুন বিলটির মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

কারাদণ্ড ও জরিমানা: প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, কোনো নরওয়েজীয় নাগরিক বা কোম্পানি যদি পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর সাথে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করে, তবে তাদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এমনকি অবহেলাজনিত লঙ্ঘনের জন্যও সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আইনের আওতাভুক্ত এলাকা ও পণ্য: এই নিষেধাজ্ঞা মূলত অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে গড়ে ওঠা ইসরায়েলি বসতিগুলোর উপর কার্যকর হবে। বসতিগুলো থেকে উৎপাদিত ওয়াইন, কৃষি পণ্য এবং স্থানীয় নির্মাণ বা প্রকৌশল সেবার মতো বাণিজ্যগুলো এর আওতায় পড়বে।

আইন পাসের সময়সীমা: নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডে (Espen Barth Eide) জানিয়েছেন, বিলটির ওপর জনসাধারণের মতামত বা পরামর্শ গ্রহণের সময়সীমা ১৯ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে এবং চলতি বছরের (২০২৬) শরতের মধ্যেই এটি দেশটির সংসদে পাস হবে বলে তারা আশা করছেন।

আন্তর্জাতিক যৌথ পদক্ষেপ: শুধু নরওয়ে একাই নয়, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও স্পেনসহ মোট ১২টি দেশ সমন্বিতভাবে এই অবৈধ বসতিগুলোর পণ্যের ওপর বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা বা কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাজ্যে এই ধরনের আইন লঙ্ঘনের শাস্তি ১০ বছর পর্যন্ত এবং কানাডায় ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

এই বিলটির লক্ষ্য হলো দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানকে বাঁচিয়ে রাখা এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া।