• ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৬ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

সিলেট সফরে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা বয়কট করল সিলেট মহানগর বিএনপি

Usbnews.
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
সিলেট সফরে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা বয়কট করল সিলেট মহানগর বিএনপি
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সিলেট সফর উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেয়নি সিলেট মহানগর বিএনপি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো একদিনের সফরে সিলেটে এসেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সফর উপলক্ষে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

তবে এ অনুষ্ঠানে যোগ দেননি বিএনপির কয়েকজন সংসদ সদস্যসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতা। সিলেট বিএনপির পক্ষ থেকেও অনুষ্ঠানটি বয়কট করা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ না করে সিসিকের উদ্যোগে অনুষ্ঠান আয়োজন এবং অনেক দলীয় নেতাকর্মীকে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ তুলে তারা অনুষ্ঠানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা যায়।

মহানগর বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির সফর বা তার কর্মসূচির বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন ও আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ থেকেই অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী অংশ নেবেন না। যথাযথভাবে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।’

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি গঠন না করেই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানটি বয়কট করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আমরা সিনিয়র বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য এসেছিলাম। আমাদের অনেক নেতাই এসেছেন। কিন্তু আয়োজনের ক্ষেত্রে এককভাবে সবকিছু করা হয়েছে, যার কারণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। এমনকি আমাদের গাড়িগুলোও অনুষ্ঠানস্থলের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমরা রাষ্ট্রপতির সফর বা তার কর্মসূচির বিরোধিতা করছি না। রাষ্ট্রপতির সিলেট সফরের সঙ্গে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা তার মাজার জিয়ারতের সময়ও ছিলাম, তাকে স্বাগত জানাতেও এসেছি এবং বিদায়ের সময়ও থাকব।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আপত্তি সিটি কর্পোরেশনের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা ও আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে। আমরা আমন্ত্রণপত্র পেয়েছিলাম। তবে যেভাবে আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়েছে, সেটি আমাদের কাছে সম্মানজনক মনে হয়নি। আমাদের মনে হয়েছে, এটি অনেকটা নিয়ম রক্ষার আমন্ত্রণের মতো। এ কারণে আমরা অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংবর্ধনায় অনুপস্থিত থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম।

এর আগে আজ সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে তিনি সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। এরপর হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।

গণততন্ত্রকে রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ এমন মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, অনেক ত্যাগ ও প্রাণের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটিয়ে গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি। এখন গণততন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ এসেছে। গণততন্ত্রকে রক্ষা করাই এখন প্রধান কাজ।

মঙ্গলবার বিকেলে নগরভবনে সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনার জবাবে তিনি এমনটি বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় সরকার ও বিরোধী দলকে একসাথে কাজ করতে হবে। সংসদকে কার্যকর করতে হবে। নানা বিষয়ে মতপ্রার্থক্য থাকবে তবে, মৌলিক বিষয়গুলোতে ঐক্যমতে পৌঁছতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আগামীর লড়াই দেশকে পুণর্গঠন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার। আগামী পন্ন্মেকে একটি সমৃদ্ধেদেশ উপহার দেওয়ার।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠেনে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, এই দেশ অনেকবার হোঁচট খেয়েছে। আজ আবার দেশ গঠনের সুযোগ এসেছে। আমরা যেনো এই সুযোগ না হারাই। আমাদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।

সিলেটে নানা জাতি গোষ্ঠির মানুষের বসবাসের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আর কোথাও নেই।

সিলেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিলেট আমার কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি জায়গা। আমি যখনই সুযোগ পাই তখনই সিলেটে আসি। সিলেটে যতবার এসেছি আপনাদের উষ্ণ আতীতেয়তা পেয়েছি। আমাদের চরম দুঃসময়েও আপনারা আমাদের পাশে ছিলেন।

তিনি বলেন, সিলেটের মানুষের সাথে অতীতে ছিলাম। আগামীতেও থাকবো। ইনশাআল্লাহ, সিলেটের মানুষ আগামীতে দেশের নেতৃত্ব দেবে।

বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি বলেন, আগে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে যেভাবে আপনাদের সাথে কথা বলতাম এখন সেভাবে পাড়ি না। কারণ আমি শপথ নিয়েছি, আমি সম্পূর্ণ দল নিরপেক্ষভাবে কাজ করবো, কথা বলবো।

তিনি বলেন, সিলেট নিজেই অত্যন্ত গর্বিত একটি জায়গা। এখানে হযরত শাহজালাল (র.). হযরত শাহপরান (র.) শুয়ে আছেন, শ্রীচৈতন্য দেবের স্মৃতি সিলেটে রয়েছে। এখানে হাছন রাজা, রাধারমন দত্ত, শীতালাং শাহ, শাহ আব্দুল করিম, হেমাঙ্গ বিশ্বাসরা জন্ম নিয়েছেন। এমএজি ওসমানী, সাইফুর রহমান, এমএ খান, ইলিয়াস আলীর মতো নেতারা এখানে জন্ম নিয়েছেন। সিলেটের আলাদা সংস্কৃতি রয়েছে। সিলেটের চা বাগানের সারা বিশ্বে খ্যাতি রয়েছে। সিলেটের প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছেন। সিলেটের মানুষ একইসঙ্গে শান্তিপ্রিয় ও প্রতিবাদী।

তিনি প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখানে বিনিয়োগের অনেক সম্ভাবানা রয়েছে। শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হুইপ জিকে উজছ প্রমুখ।

তবে যথাযথ মূল্যায়ন না করার অভিযোগ এনে রাষষ্ট্রপতির এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করে সিলেট মহানগর বিএনপি।