• ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৬ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদের-আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

Usbnews.
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদের-আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে কথোপকথনের সময় আন্দোলনকারীদের মারধরের জন্য উসকানি দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। রায়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

চিফ প্রসিকিউটর : ওবায়দুল কাদের সাদ্দামকে বলেছিল, ‘তোমরা মারো না কেন?’

আমিনুল ইসলাম বলেন, কাদের সাদ্দামকে বলেছিলেন- ‘তোমরা মারো না কেন? মারো।’ এভাবে ছাত্রলীগকে নানাভাবে উসকানি দেন কাদের। এছাড়া ওবায়দুল কাদের ‘দেখা মাত্রই গুলি’ করার নির্দেশনাও দিয়েছিলেন বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি আরও বলেন, ১১ জুলাই সাদ্দামকে বলা হয়—‘মারো না কেন, মারো।’ এরপরই ১৬ জুলাই ওয়াসিম, আবু সাঈদসহ কয়েকজন নিহত হন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি করে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়। এ সময় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, শুধু তাই নয়, ওবায়দুল কাদের এটাও বলেছিলেন যে, এ আন্দোলন দমন করার জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট। এ সমস্ত কর্মকাণ্ডের কারণেই এত বড় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সারাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

জুলাই হত্যা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন—দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

এ মামলার তদন্তকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা দেন কর্মকর্তারা। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করা হয়।

একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ধাপে ধাপে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ শুনানি শেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।

তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৯ জন। এর মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেয়া জবানবন্দিও রয়েছে। সবমিলিয়ে ২ আগস্ট সাক্ষ্যপর্ব সম্পন্ন হয়। এর দুই দিন পর তথা ৪ আগস্ট থেকেই যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। ৯ কার্যদিবসে প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের এ ধাপ শেষ হয় ১৭ আগস্ট। আর ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রায় ঘোষণার তারিখ দেয়া হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। এ মামলায় মোট ১২৩ সিরিজ ডকুমেন্টস প্রদর্শন করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।

ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ
চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আসামি ওবায়দুল কাদেরের অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রনাধীন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ব্যপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর আক্রমন করে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করেন। যা আসামির নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তায়, সম্পৃক্ততায় ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ
চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রনাধীন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ব্যাপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর আক্রমণ করে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করেন। যা আসামির নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তায়, সম্পৃক্ততায় ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ
চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা  আলী আরাফাতের অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রনাধীন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ দলের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ব্যাপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর আক্রমণ করে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করেন। যা আসামীর নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তায়, সম্পৃক্ততায় ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে।

শেখ ফজলে শামস পরশের বিরুদ্ধে অভিযোগ
চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশের অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ব্যপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর আক্রমন করে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করেন। যা আসামীর নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তায়, সম্পৃক্ততায় ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে।

মাইনুল হোসেন খান নিখিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ
চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রনাধীন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ব্যপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর আক্রমন করে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করেন। যা আসামির নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তায়, সম্পৃক্ততায় ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে।

মো. সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন সারাদেশে তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রনাধীন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ব্যপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর আক্রমণ করে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের