• ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৭ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

শাপলা চত্বর মামলায় ৩০ পলাতক আসামির জন্য আইনজীবী নিয়োগের আদেশ

Usbnews.
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
শাপলা চত্বর মামলায় ৩০ পলাতক আসামির জন্য আইনজীবী নিয়োগের আদেশ
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ পলাতক ৩০ আসামির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৭ অক্টোবর এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।

এ মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন বলেন, এ মামলার ৪১ আসামির মধ্যে আজ ১১ আসামি হাজির আছেন। বাকি ৩০ জন আসামি পলাতক। তাদের আত্মসমর্পণ করার জন্য দুটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তারপরও তারা আত্মসমর্পণ করেননি। এই পলাতক ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এ আবেদন মঞ্জুর করেন। তারপর এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়।

শাপলা চত্বর মামলায় ৩০ পলাতক আসামির জন্য আইনজীবী নিয়োগের আদেশ
কাদেরসহ ৭ আসামির রায় নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, দুই আইনজীবীকে তলব
শুনানি শেষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনাল-২-এ ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১১ জন উপস্থিত আসামিকে হাজির করা হয়। মামলায় ৩০ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।

পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের প্রতিবেদন দাখিলের পর তাদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য বাংলা ও ইংরেজি দুটি বহুল প্রচারিত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপরও তারা আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের অনুপস্থিত ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ মামলার পলাতক আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আজিজ আহমেদ ছাড়াও রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ, সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস, সাবেক সংসদ সদস্য এস এম জাহিদ, যুবলীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক প্রধান মো. মোখলেছুর রহমান।

আরও আছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মাহবুব হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন, ডিআইজি মহা. আশরাফুজ্জামান, ডিআইজি মোহাম্মদ হারুন–অর–রশীদ, ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম মেহেদী হাসান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, রমনা অঞ্চলের এসি এস এম শিবলী নোমান ও মতিঝিল থানার ওসি বি এম ফরমান আলী।

এ মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামি হলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. শামসুল হক টুকু, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও সাবেক ডিআইজি মোহা. আবদুল জলিল মন্ডল এবং গ্রেপ্তার দুই সাংবাদিক একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু ও একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।