• ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৭ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

যুদ্ধাপরাধের দায়ে কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিমের ২৫ বছরের কারাদণ্ড

Usbnews.
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
যুদ্ধাপরাধের দায়ে কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিমের ২৫ বছরের কারাদণ্ড
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

যুদ্ধাপরাধের দায়ে কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত কসোভো স্পেশালিস্ট চেম্বার্সের (কেএসসি) আদালত। ১৯৯০-এর দশকে সার্বিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতার জন্য কসোভোর সশস্ত্র সংগ্রামের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের ঘটনায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৮ বছর বয়সী থাচি তখন জাতিগত আলবেনীয় কসোভো লিবারেশন আর্মির (কেএলএ) শীর্ষ কমান্ডার ছিলেন। আদালত বলেছে, সংঘাতের সময় কেএলএর হাতে ৯৬ জন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সার্বীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগী হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় থাচি দায়ী।

তবে থাচি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বুধবার রায় ঘোষণার সময় স্যুট ও টাই পরা থাচি আদালতে নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিচারক চার্লস স্মিথ তার সাজা ঘোষণা করেন।

থাচির সঙ্গে কেএলএর আরও তিন সাবেক শীর্ষ কমান্ডারকেও বিভিন্ন অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়েছে। জাকুপ ক্রাসনিকিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড, কাদরি ভেসেলিকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড এবং রেক্সহেপ সেলিমিকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ভেসেলি ও সেলিমির সাজায় ইতোমধ্যে কারাগারে কাটানো সময়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে চার আসামিই মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন। বিচারকেরা বলেছেন, বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলার অংশ হিসেবে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, এমন প্রমাণ প্রসিকিউশন দিতে পারেনি।

সাজা ঘোষণার আগে বিচারক চার্লস স্মিথ কেএলএর হাতে সংঘটিত গুরুতর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। মার্কিন ইতিহাসবিদ হাওয়ার্ড জিনের একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নিরপরাধ মানুষ হত্যার লজ্জা ঢাকার মতো বড় কোনো পতাকা নেই।’

থাচির বিরুদ্ধে এই বিচার কসোভোয় বিতর্কিত। দেশটির অনেক জাতিগত আলবেনীয়দের কাছে ১৯৯৮-৯৯ সালের সার্বিয়ার বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধে কেএলএ এবং থাচি গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত।

হাশিম থাচি। ছবি: গেটি ইমেজেস

হাশিম থাচি কসোভোর ড্রেনিকা অঞ্চলের একটি জাতিগত আলবেনীয় মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ওই অঞ্চলের জনসংখ্যার বিশাল অংশ সুন্নি ইসলাম অনুসারী। তবে কসোভোর অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের মতো থাচির প্রকাশ্য জীবন মূলত ধর্মীয় রাজনীতির চেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ আলবেনীয় জাতীয়তাবাদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

রায় ঘোষণার সময় কসোভোর রাজধানী প্রিস্তিনায় হাজারো মানুষ বড় পর্দায় সরাসরি আদালতের কার্যক্রম দেখছিলেন। সাজা ঘোষণার পর অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাদের কেউ কেউ কেএলএ ও থাচির সমর্থনে স্লোগানও দেন।

সূত্র: আল জাজিরা