ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হল সংসদের উদ্যোগে এবং হল প্রশাসনের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্মিত ক্লাব রুমের উদ্বোধনী নামফলক ভাঙচুরের ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, বিজয় একাত্তর হল সংসদ দীর্ঘদিন ধরে হলের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক, সামাজিক, সৃজনশীল ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য একটি উপযুক্ত ক্লাব রুম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কাজ করে আসছে। রুমের পরিকল্পনা, বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে সমন্বয়, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণ নির্ধারণ এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন—প্রতিটি পর্যায়েই হল সংসদের প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে হল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকবৃন্দের সহযোগিতাও এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ক্লাব রুমের অর্থায়ন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং উদ্বোধনসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক পর্যায়ে আলোচনা ও সমন্বয় করা হয়েছে। অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিজয় একাত্তর হল প্রশাসন অর্ধেক দিয়েছে, বাকিটা প্রাধ্যক্ষ স্যারের অনুমতিতে ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খাঁনের মাধ্যমে থেকে ম্যানেজ করা হয়। এ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় আলোচনা করেই উদ্বোধনী নামফলক প্রস্তুত করা হয়। একইসাথে প্রাধ্যক্ষ মহোদয় এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বিষয়টি অবহিত করা হয়।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, নামফলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর এজিএস মহিউদ্দীন খানের নাম থাকাকে কেন্দ্র করে সেটি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনাটির সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই- কোনো শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়, সংগঠনগত অবস্থান কিংবা মতাদর্শের কারণে একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ও অরাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের স্থাপনা বা নামফলক ভাঙচুর করার অধিকার কারও নেই। মতপার্থক্য থাকলে তা আলোচনা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কিংবা গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রকাশ করা যেতে পারে; ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য পন্থা হতে পারে না।
আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজসহ প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে প্রকৃতভাবে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাঙচুর করা নামফলক পুনঃস্থাপন এবং ক্লাব রুমের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু করার জন্য হল প্রশাসনের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করছি।
বিজয় একাত্তর হল সংসদ বিশ্বাস করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো হবে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সহাবস্থানের জায়গা। রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছি।
হাসানুল বান্না
ভিপি
বিজয় একাত্তর হল সংসদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়