শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার পর রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চের গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে। এতে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
লংমার্চে হাজারের বেশি গাড়ি যুক্ত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়ছেন।
এদিকে রংপুরে সমাপনী সমাবেশের আগে পথে পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম সভা হবে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে। এরপর পর্যায়ক্রমে টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস রোড, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালির বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে। সন্ধ্যায় রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে হবে সমাপনী সমাবেশ।
এছাড়া পথে লংমার্চকে স্বাগত জানাতে আসা জনতার চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় দাঁড়িয়ে নেতারা বক্তব্য রাখতে পারেন।
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের গাজীপুরের প্রথম পথসভাস্থল ভোগড়া বাইপাসে এসে পৌঁছেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে নেতৃবৃন্দ সমাবেশস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকবির ধ্বনিতে তাদের স্বাগত জানান।
‘হেলিকপ্টারে পালাবেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে যাবেন: তারেক রহমানের উদ্দেশে নাহিদ

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘তারেক রহমানকে নির্ধারণ করতে হবে তিনি কি হেলিকপ্টারে পালিয়ে দেশ ছাড়বেন, নাকি সম্মানের সাথে পদত্যাগ করবেন।’
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা টু রংপুরমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘যারা অতীতে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, তাদের স্থান হয়েছে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। এরশাদও অনেক সম্মানের সাথে পদত্যাগ করেছিল। ফলে তারেক রহমানকে তার যাওয়ার রাস্তা নিজেকেই বাছাই করে নিতে হবে।’
নাহিদ বলেন, ‘লংমার্চের পক্ষে যে গণজোয়ার শুরু হয়েছে, সেটা প্রতিরোধ করতে’ তাদের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এ কাজে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনও যোগ দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।’
তিনি দাবি করেন, ‘ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে এই লংমার্চের গণজোয়ার বন্ধ করা সম্ভব হবে না। দফা বাড়ছে, কিন্তু আমরা জানি সকল দফা এসে ঠেকবে এক দফায়। সেটার জন্য প্রস্তুত হন।’
সরকার আমাদের বাধ্য করেছে রাজপথে নামতে: পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, গুমের বিষয়ে যদি সমাধান সংসদে করতে পারতেন তাহলে আমাদের লং মার্চে যেতে হতো না। সরকার আমাদের লং মার্চে যেতে বাধ্য করেছে। সরকার আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, লড়াইটা অনেক আগে শুরু হয়েছে। এই লড়াইটা বাংলাতে শহীদ তিতুমিরের লড়াই, হাজী শরীয়তুল্লাহর লড়াই, বাংলাদেশে মওলানা ভাসানীর লড়াই, সেই লড়াইয়ের একজন অংশীজন হিসেবে আজকে আমরা এখানে লংমার্চের ঐতিহাসিক আমাদের যাত্রায় জাতীয় সংসদের সামনে উপস্থিত হয়েছি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকার আমাদের জিজ্ঞেস করছে কেন আমরা লং মার্চ করছি। এই বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা সুস্পষ্টভাবে বাংলাদেশের কাছে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। সরকার যদি অন্ধ হয়ে যায় আমাদের ৮ দফা দাবি যদি পড়তে সক্ষম না হয় সরকারকে শিক্ষিত করতে প্রস্তুত আছি।
তিনি আরও বলেন, গতকালকে আমরা এখানে একটা প্রোগ্রাম করেছিলাম। সরকার যেখানে সালাউদ্দিন ভাই থেকে ইলিয়াস আলী গুম হয়েছিল। কিন্তু সরকার গুমের সংসদে কালো আইন পাশ করেছে। এর প্রতিবাদে আমাদের ১১ দলীয় জোট ও বিরোধী দলীয় নেতারা সংসদে কালো কাপড় বেঁধে ‘কালো দিবস’ পালন করেছেন। একই সঙ্গে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে সরকারকে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার প্রশ্ন তুলেছে- সংসদে আলোচনা হলে লং মার্চ কেন? কিন্তু সংসদেই যদি গুম ও অন্যান্য সমস্যার সমাধান করা যেত, তবে আমাদের লংমার্চে নামতে হতো না। সরকারই আমাদের রাজপথে নামতে ও লংমার্চ করতে বাধ্য করেছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ওসমান হাদির বিচার, মানবাধিকার রক্ষা, গুমের কালো আইন, সাইবার সিকিউরিটি আইন, পুরাতন বোতলে যে নতুনভাবে ঢুকানো হয়েছে। এই এসআরবি বিলুপ্তকরণসহ বাংলাদেশের তিস্তাপাড়ার মানুষের দুঃখ গুছানোর জন্য বাংলাদেশের মানুষের আজাদীর জন্য যতদিন পর্যন্ত আমরা জীবিত থাকবো এই আজাদীর লড়াই চলবে। সেখানে তারেক রহমান আছেন না অন্য কোনো ফ্যাসিবাদীর দোসর আমাদের সামনে আছেন, আমাদের তোয়াক্কা করার প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, আজকের মিছিল রংপুরের উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছে। আজাদীর মিছিল সিলেটে যাবে। আজাদীর মিছিল বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে যাবে। লক্ষ কোটি জনতা আবার রাজপথে বেরিয়ে এসে নতুন করে আবার বলবে শেখ হাসিনা তুমি বিদায় হয়েছে তোমার পথ তারেক রহমান রওয়ানা দিয়েছে। তারেক তুমি কবে যাবে বাংলাদেশ মুক্তি পাবে। তারেক তুমি কবে যাবে বাংলাদেশ মুক্তি পাবে।
আমরা সরকারের বিরুদ্ধে না, দেশের বিরুদ্ধেও না: কর্নেল অলি

‘আমরা সরকারের বিরুদ্ধে নই, দেশের বিরুদ্ধেও নই’—এমন মন্তব্য করেছেন এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, ‘আমরা সরকারের বিরুদ্ধে না, দেশের বিরুদ্ধেও না। আমরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে চাই। কিন্তু বর্তমান সরকার কোনো অবস্থাতেই তা পারছে না। আমরা সংস্কার চাই, করতে হবে।’
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন; সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে এ পথসভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এ লং মার্চ দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। আমরা দলীয় দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামিনি। আমরা গণভোটের গণরায় নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি পানি খাবে কিন্তু ঘোলা করে খাবে।’ এসময় আন্দোলন সফল করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন,
‘আমরা অধিকার আদায়ের জন্য উত্তরজনপদে লং মার্চে যাচ্ছি। গণদাবি নিয়ে ১১ দল রাজপথে নেমেছে। আন্দোলনের সফলতা নিয়ে ঘরে ফিরবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো উপায় নেই, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করে সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।’ তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারের টালবাহানা বরদাশত করা হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ করে ১১ দলীয় ঐক্য। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার দিকে লং মার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। এ সময় তেজগাঁও, মহাখালী, বনানী, খিলক্ষেত, উত্তরা ও টঙ্গীতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ফুল ও স্লোগান দিয়ে বহরকে অভিবাদন জানায়। পরে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডের পথসভায় যোগ দেয় লং মার্চের বহর।
গাজীপুরের পথসভা শেষে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস রোড, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সবশেষে রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে লং মার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া লং মার্চ রুটের বিভিন্ন স্থানে গণজমায়েতস্থলে অনানুষ্ঠানিক পথসভা অনুষ্ঠিত হবে এবং রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় সংগঠনের ১১ দলের নেতাকর্মীদের দেওয়া অভিবাদন গ্রহণ করবে লং মার্চের বহর।

নেতৃবৃন্দ সমাবেশস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সকাল থেকেই গাজীপুর মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা ভোগড়া বাইপাসে জড়ো হচ্ছেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশস্থলে মানুষের উপস্থিতিও বাড়ছে।
সমাবেশস্থলে ইতোমধ্যে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। নির্ধারিত মঞ্চ থেকে নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।
লংমার্চের গাজীপুর পর্বকে ঘিরে সকাল থেকেই ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আশপাশের সড়ক ও বিভিন্ন স্থানে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে। টঙ্গী থেকে ভোগড়া বাইপাস পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে লংমার্চের বহরকে স্বাগত জানান।
সমাবেশস্থলে উপস্থিত নেতারা তাদের বক্তব্যে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত সাত দফা দাবি তুলে ধরবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-দখলদারি বন্ধ এবং সংকীর্ণ দলীয় নিয়ন্ত্রণ বন্ধের দাবিগুলো রয়েছে।
গাজীপুরে লংমার্চের প্রথম পথসভাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গাজীপুর পর্ব শেষ করে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে বলে জানা গেছে।
টাঙ্গাইল পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান : নব্য স্বৈরশাসক থেকে দেশকে মুক্ত করতে আমরা রাস্তায নেমেছি

জনগণের দাবি আদায়ে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নব্য স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-রংপুর লং মার্চে টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাসের পথসভায় তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, এ লড়াই ১৮ কোটি মানুষের জন্য। এ দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরবো ইনশাআল্লাহ। তিনি সরকারের প্রতি প্রশ্ন করে বলেন, ৭০ ভাগ মানুষের ভোটের রায়কে কেন আপনারা মানলেন না?১৪ শত শহীদদের সাথে কেন বেইমানি করলেন! কেন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেন নি! আপনারা বলেছিলেন অনির্বাচিত কাউকে কোথাও বসাবেন না ; কিন্তু আপনারা সব জায়গায় প্রশাসক বসিয়েছেন। আপনারা একটা কথাও রাখেননি ; সব জায়গায় ধোকা দিয়েছেন। জাতি যা চেয়েছিল তা আপনারা দিতে পারছেন না আপনারা ব্যর্থ হচ্ছেন। তিনি গ্যাস বিদ্যুতের ব্যাপারে প্রশ্ন করে বলেন এগুলো কি আপনারা পান? সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি দুর্নীতি সহ সকল দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই হবে ইনশাআল্লাহ। সেই লড়াইয়ে জনতার বিজয় হবে। জনগণের জন্য ৮ দফা বিলুপ্ত ঘোষণা করে ১ দফা ঘোষণা করার প্রয়োজন হতে পারে। আগামীর লং মার্চ হবে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকার দিকে ইনশাআল্লাহ। মা বোনেরা যেহেতু রাস্তায় নেমে এসেছেন দাবি আদায় হবে ইনশাআল্লাহ। আগামীর আন্দোলন সংগ্রামে শামিল হওয়ার আহবান জানান আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে। সংসদে সবকিছুর ফয়সালা হবে। কিন্তু সরকার গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করে দেশের ৭০ ভাগ মানুষকে অপমান করেছে। জনগণকে দেওয়া কথার সঙ্গে গাদ্দারি করেছে, প্রতারণা করেছে। ৭০ ভাগ জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। সেটা আমরা আদায় করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ। এর আগে আমরা থামব না। এ লড়াই চলবে। বাংলাদেশ বদলাবে। ’
জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘প্রস্তুত থাকুন। বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসবে। এই লড়াইয়ে জনগণ বিজয়ী হবে। ফ্যাসিবাদ হেরে যাবে।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের সামনে কঠিন সংগ্রাম, সরকার জনগণের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করছে। আমরা টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানীর উত্তরসূরী ; আমাদের দিল্লির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
কর্নেল ড. অলি আহমেদ বীরবিক্রম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি যে আওয়ামী লীগের দ্বারা সরকার, প্রশাসন চালাচ্ছেন, এভাবে দেশ চালাতে পারবেন না।আমাদেরকে একদফা আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিবেন না।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আজকের এই লং মার্চ প্রমান করছে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার আদায় করতে জানে। সোজা আঙুলে ঘি না ওঠলে আঙুল বাঁকা করতে জানে জনগণ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি,সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারোয়ার,সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমীর আল্লামা মুফতি মোখলেসুর রহমান কাসেমী, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, জনগণ কোনো শিশু সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। পরিণত বয়সের মানুষের দল ক্ষমতায় বসে নিজেদেরকে শিশু বলে দাবি করছে। কর্নেল ড. অলি আহমদের ছেলে ওমর ফারুক, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিলাল হোসাইন মিয়াজি, বলেন, গণভোট নিয়ে কোনো টালবাহানা চলবে না। এনসিপির সরোয়ার তুষার বলেন, আগের মতো খাম্বাগিরি চলবে না, তেল,গ্যাস বিদ্যুৎ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আই হেভ এ প্ল্যান, আসলে দে হেভ নো প্ল্যান।
টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি হুমায়ুন কবিরের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন,ড. আহসান হাবীব ইমরোজ, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, এনসিপির জেলা আহবায়ক এডভোকেট কামরুজ্জামান শাওন,সেক্রেটারি মাসুদুর রহমান রাসেল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা কামরুল হাসান,সেক্রেটারি মাওলানা যায়েদ হাবিব, ইসলামি ছাত্রশিবিরের টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি আব্দুল আলিম প্রমুখ।