• ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১১ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা : হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সিএনএন, পলিটিকোর মামলা

Usbnews.
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা : হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সিএনএন, পলিটিকোর মামলা
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো। প্রতিষ্ঠান তিনটি বলেছে, তাদের সাংবাদিকদের প্রেস ক্রেডেনশিয়াল বাতিল করে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ বন্ধ করা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠান তিনটি ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতে মামলা করে। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই এই বিষয়ে আদালতে শুনানি ও প্রশাসনের বক্তব্য শোনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

মামলায় সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে—কোনো ধরনের নোটিশ বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছে। তাদের দাবি, হোয়াইট হাউস তাদের প্রকাশিত সংবাদ পছন্দ না করায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে সরকারের সমালোচনামূলক বা স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভয় ও আত্মনিয়ন্ত্রণের পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলেও তারা আদালতকে জানিয়েছে।

গত শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। এরপর শনিবার তিন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং তাদের প্রেস পাসও নিয়ে নেওয়া হয়। সিএনএন ও এমএস নাও-কে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে টেলিভিশন সরঞ্জাম ও ক্যামেরা ব্যবহারের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে।

ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এসব সংবাদমাধ্যমকে ‘ফেক নিউজ’ ছড়ানোর অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সংবাদ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও সংবাদমাধ্যমকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে।

এদিকে, হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী পুল কভারেজ থেকেও সিএনএনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিউইয়র্ক সফরে যাওয়ার কথা ছিল সিএনএন-এর এবং ওই দিন টেলিভিশন পুলের দায়িত্বও ছিল প্রতিষ্ঠানটির।

আইনি এই লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী এবং ‘ভিউপয়েন্ট ডিসক্রিমিনেশন’ বা কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শ বা দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সংবাদমাধ্যমকে আলাদা করে শাস্তি দেওয়ার প্রশ্ন। এর আগে আদালতের বিভিন্ন রায়ে বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমকে তাদের প্রকাশিত বক্তব্য বা প্রতিবেদনের কারণে সরকারি তথ্যের উৎস থেকে ইচ্ছামতো বাদ দেওয়া যায় না।

১৯৭৭ সালের একটি মামলায় ওয়াশিংটনের ফেডারেল আদালত বলেছিল, সাংবাদিকের বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা সুরের ভিত্তিতে হোয়াইট হাউসের প্রেস পাস বাতিল করা হলে তা প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। পরবর্তী সময়ে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও সিএনএন-এর সাংবাদিক জিম অ্যাকোস্টাসহ কয়েকজন সাংবাদিকের প্রবেশাধিকার নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছিল। এসব মামলায় সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে আদালত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিয়েছিল।

এবারের মামলায় সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষে আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন টেড বুট্রস। ২০১৮ সালে তিনি অ্যাকোস্টা মামলায় সিএনএন-এর হয়ে আদালতে লড়েছিলেন।

তিন সংবাদমাধ্যমই জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসে শারীরিক প্রবেশাধিকার বন্ধ হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে তাদের সাংবাদিকতা অব্যাহত থাকবে।