• ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১১ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

টাইফুন দুজিয়ান : জাপানে ১৯ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ

Usbnews.
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
টাইফুন দুজিয়ান :  জাপানে ১৯ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

শক্তিশালী টাইফুন দুজিয়ানের তাণ্ডবে জাপানে ১৯ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু মানুষ। বাতিল করা হয়েছে শত শত ফ্লাইট এবং বন্ধ রয়েছে বেশ কিছু রেল চলাচলও।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা আগে ‘জীবনের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি’ সতর্কতা জারি করেছিল। পরে বেশিরভাগ এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের সতর্কতা কমানো বা তুলে নেওয়া হয়। তবে ওশিমা শহরসহ কয়েকটি এলাকায় এখনো উচ্চমাত্রার সতর্কতা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ সবাইকে নিয়মিত আবহাওয়ার খবর অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

দুজিয়ানের বাতাসের স্থায়ী গতি ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতি উঠেছে ঘণ্টায় ১৯৪ কিলোমিটার পর্যন্ত। জাপানে এ বছর এটি ২৫তম টাইফুন।

প্রবল বাতাসে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। ঝড়ের কারণে রক ইন জাপান সংগীত উৎসবের সোমবারের (২১ সেপ্টেম্বর) কনসার্ট বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে টোকিও গেম শোর সোমবারের আয়োজনও বাতিল করা হয়।

ঝড়ের প্রভাবে ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। কানাগাওয়া এলাকায় একটি বাড়ি ভূমিধসে চাপা পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ইয়োকোসুকা শহরে ষাটের কোঠার এক নারী ভূমিধসে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চিবা প্রিফেকচারে ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষ সরানোর সময় পঞ্চাশের কোঠার এক ব্যক্তি আটকা পড়লে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় জাপানের কয়েকটি এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। কিমিৎসু শহরে ৩৭৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার, ফুনাবাশি শহরে ৩৪১ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং ইচিহারা শহরে ৩২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। টোকিওর এডোগাওয়া এলাকাতেও ২৮২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

দুজিয়ান বর্তমানে জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল ধরে উত্তর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পেতে আরও সময় লাগতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে টাইফুনের সংখ্যা বাড়ছে—এমন প্রমাণ স্পষ্ট নয়। তবে সমুদ্রের পানি উষ্ণ হওয়ায় তৈরি হওয়া ঝড়গুলো তুলনামূলকভাবে আরও শক্তিশালী হতে পারে এবং বেশি বৃষ্টি নিয়ে আসতে পারে। এবার এল নিনোর প্রভাবও ঝড়টির গতিপথ ও শক্তিতে ভূমিকা রাখতে পারে।