• ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

জাতিসংঘে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি—চুক্তি না হলে ইরানকে ‘ধ্বংস’ করা হবে , কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে

Usbnews.
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
জাতিসংঘে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি—চুক্তি না হলে ইরানকে ‘ধ্বংস’ করা হবে ,  কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর। তবে চুক্তি না হলে ইরানকে ‘ধ্বংস’ করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া দীর্ঘ ভাষণে ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। অর্থনীতি, অভিবাসন ও অপরাধ দমনে তাঁর প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি জানান, আগের প্রশাসনের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ‘অন্ধকার যুগ’ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিল, যা তাঁর নেতৃত্বে ‘সোনালি যুগে’ পরিণত হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, তিনি কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবেন না। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বের দেশগুলোকে ইরানের ওপর পূর্ণ অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

অধিবেশনে ট্রাম্প জানান, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হবে নাকি শান্তি চুক্তির পথে হাঁটা হবে—সেই বিষয়ে তাকে একটি ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিতে হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সমঝোতা না হলে তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। তবে আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই একটি চুক্তি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন , জাতিসংঘের পার্শ্ববৈঠকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে ৩ ঘণ্টার একটি ‘উৎপাদনশীল’ বৈঠক হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর নাম বদলে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ রাখার প্রস্তাব দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রযুক্তির লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই চীনের কাছে পরাস্ত হবে না। এছাড়া তিনি গ্রিনল্যান্ডে প্রতিরক্ষা নিশ্চিতে-মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।

ট্রাম্পের ভাষায়, ইরানকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করতে হবে, পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে হবে এবং ‘সন্ত্রাসবাদে’ সমর্থন বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, একসময় ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ‘দাপুটে শক্তি’ ছিল, কিন্তু এখন আর তা নেই।

ইরান নিয়ে নিজের সামনে থাকা বিকল্প ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, তাঁর একটি ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার আছে। চুক্তির মাধ্যমে হয় ইরানকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে, না হয় সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ‘দ্রুত ধ্বংস’ করা হবে।

ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আগামী নভেম্বরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

ভাষণে ট্রাম্প কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তাদের ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দেন। প্রেসিডেন্ট যখন কিউবা ও মার্কিন বামপন্থী দলগুলোর সম্পর্কের অভিযোগ তুলছিলেন, তখন কিউবার প্রতিনিধিদল অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে।

তেহরানে মার্কিন বাহিনীর দফায় দফায় সামরিক হামলার প্রসঙ্গ তুলতেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন থেকে বেরিয়ে গেলেন ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করার সময় ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা একে একে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। শেষ পর্যন্ত সেখানে শুধু ইরানের একজন নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা বসে ছিলেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউ ইয়র্কে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় সাধারণ পরিষদের হলে ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তাদের বসে থাকতে দেখা যায়নি।

জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে যত মিথ্যা বললেন ট্রাম্প

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দেয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একাধিক বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা দাবি করেছেন। ভাষণের বেশির ভাগ অংশ প্রস্তুত করা স্ক্রিপ্ট থেকে পড়লেও বিভিন্ন বিষয়ে তার দাবির সঙ্গে বাস্তব তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। সিএনএনের অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেন, ক্ষমতায় আসার পর তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন। এর মধ্যে কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড, কসোভো-সার্বিয়া, রুয়ান্ডা-ডিআর কঙ্গো, ভারত-পাকিস্তান, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান এবং গাজা যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন। এর আগে ইসরাইল-ইরান সংঘাত এবং মিশর-ইথিওপিয়ার কথিত যুদ্ধকেও এই তালিকায় রেখেছিলেন তিনি।

তথ্য যাচাইয়ে দেখা যায়, মিশর-ইথিওপিয়ার বিরোধটি ছিল একটি বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক বিরোধ, যুদ্ধ নয়। কসোভো-সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের দায়িত্বকালে কোনো যুদ্ধ চলছিল না। রুয়ান্ডা ও ডিআর কঙ্গোর সংঘাতও শান্তিচুক্তির পর পুরোপুরি শেষ হয়নি। গাজায় যুদ্ধবিরতি হলেও ইসরাইলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফলে ‘আটটি যুদ্ধ’ শেষ করার দাবি বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি।