• ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

যুদ্ধ থেকে বিশ্বকে মুক্ত করতে ব্যর্থ জাতিসংঘ ,গাজায় নেতানিয়াহু সরকারের গণহত্যার ক্ষত থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম, স্বাধীন ফিলিস্তিন চাই : ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

Usbnews.
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
যুদ্ধ থেকে বিশ্বকে মুক্ত করতে ব্যর্থ জাতিসংঘ ,গাজায় নেতানিয়াহু সরকারের গণহত্যার ক্ষত থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম, স্বাধীন  ফিলিস্তিন চাই  : ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

বিশ্বকে যুদ্ধ থেকে ‘মুক্ত’ করার দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘ ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। মঙ্গলবার জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যের শুরুতেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন।

লুলা দা সিলভা বলেন, ‘২০০৩ সালে প্রথমবার এই মঞ্চে বক্তব্য দেয়ার পর এবার দশমবারের মতো আমি এই অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কের সূচনা করছি। নিঃসন্দেহে জাতিসংঘের জন্য এটি সবচেয়ে সংকটময় সময়। আর আজ আমাকে যে অনুভূতিটি তাড়িত করছে, তা হলো ক্ষোভ।’

গাজায় ইসরাইলি অভিযানে সৃষ্ট ক্ষত ও মানসিক আঘাত ফিলিস্তিনিদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম বয়ে বেড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।

লুলা বলেছেন, গাজায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের হাতে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ‘গণহত্যার’ যন্ত্রণা ও ট্রমা বহু প্রজন্মের ফিলিস্তিনির জীবনে থেকে যাবে।

অনূদিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম নেতানিয়াহুর সরকারের হাতে গাজায় নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার রেখে যাওয়া যন্ত্রণা ও ট্রমা বহন করবে।

একই সঙ্গে হামাসের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান লুলা। জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানচেস্কা আলবানিজকে তার বক্তব্যের কারণে যেন ‘নীরব’ করা না হয়, সেই আহ্বানও জানিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট। সত্য বলার জন্য আলবানিজকে চুপ করিয়ে দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেন তিনি।

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণেরও সমালোচনা করেছেন লুলা। এসব বসতিকে তিনি অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের নিরাপদে বসবাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

তিনি উপস্থিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, ‘জাতিসংঘ তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। সেই দায়িত্ব হলো মানবজাতিকে যুদ্ধের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা।’

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় লুলা বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি যুদ্ধের ময়দানে পরিণত হয়েছে, যা হওয়া উচিত ছিল না।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি এমন একটি জায়গা, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়া উচিত। কিন্তু এটি এখন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

লুলা আরো বলেন, হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীলতার অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের ওপর পড়ছে। জ্বালানি ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবারগুলোকে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। চলমান সংঘাতের কারণে প্রণালিটিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

হরমুজ প্রণালির দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন কৃষি খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইএফপিআরআই) সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রণালির সংকটের কারণে বিভিন্ন ধরনের সারের সরবরাহ ও দামে চাপ তৈরি হয়েছে।