• ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

ফিলিস্তিনকে বাদ দিয়ে শান্তি আলোচনা সম্ভব না, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আমাদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়েছেন, অথচ আমরাই সন্ত্রাসের শিকার : ইরানের প্রেসিডেন্ট

Usbnews.
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
ফিলিস্তিনকে বাদ দিয়ে শান্তি আলোচনা সম্ভব না, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আমাদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়েছেন, অথচ আমরাই সন্ত্রাসের শিকার : ইরানের প্রেসিডেন্ট
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান না করে বিশ্বে শান্তির কথা বলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে (ইউএনজিএ) দেওয়া বক্তব্যে তিনি ফিলিস্তিন ও গাজায় চলমান মানবিক সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, ফিলিস্তিন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকের ওপর একটি ‘ক্ষত’ হয়ে রয়েছে। আর গাজা বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, গত কয়েক দশকে ফিলিস্তিন নিয়ে জাতিসংঘে একের পর এক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। কিন্তু এর পরও দখলদারত্ব ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। তার ভাষায়, বিশ্বে যতদিন দখলদারত্ব, আগ্রাসন ও অবিচার টিকে থাকবে, ততদিন প্রতিরোধও অব্যাহত থাকবে।

গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রসঙ্গ তুলে পেজেশকিয়ান বলেন, সেখানে অব্যাহত হত্যাকাণ্ড ও ব্যাপক ধ্বংস মানুষের প্রতিরোধের ওপর বিশ্বাসকে আরো শক্তিশালী করেছে। বোমাবর্ষণ ও অবরোধের মাধ্যমে প্রতিরোধকে ধ্বংস করা যায় না—এটি মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি।

তিনি বলেন, কোনো মানুষকে যদি তার নিজের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়, তাহলে সে প্রতিরোধ করবে। তার বাড়িঘরে যদি বোমা হামলা, আগ্রাসন ও আক্রমণ চালানো হয়, তাহলেও সে প্রতিরোধ করবে। প্রশ্ন রেখে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘তাদের আর কী করার আছে?’

ফিলিস্তিন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকার সমালোচনা করে ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে গাজায় বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ এবং দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসানের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, অথচ বাস্তবতা হলো আমরা নিজেরাই সন্ত্রাসের শিকার।

বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বক্তব্য দেওয়ার সময় মার্কিন সামরিক হামলায় নিহত ইরানি শিশুদের ছবি এবং ধ্বংসস্তূপের প্রামাণ্য চিত্র বিশ্বনেতাদের সামনে উঁচিয়ে ধরেন তিনি।

ভাষণের শুরুতে লিখিত বক্তব্য পাশে সরিয়ে রেখে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমি আপনাদের সামনে উপস্থাপনের জন্য একটি বক্তব্য প্রস্তুত করে এনেছিলাম। কিন্তু গতকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আমাদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অথচ আমরাই সন্ত্রাসের শিকার।’

মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের কথা তুলে ধরে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, কোনো প্রকার আইনি ভিত্তি ছাড়াই তাদের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। মিনাবের একটি স্কুলে মার্কিন বোমাবর্ষণে নিহত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ছবি দেখিয়ে তিনি বিশ্বমঞ্চে প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনারা কি এই শিশুদের দেখতে পাচ্ছেন? এরা মার্কিন ও ইসরাইলি অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছে। এরা সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিল, কোনো অপরাধ বা অন্যায় তারা করেনি।’

পেজেশকিয়ান বলেন, নিষেধাজ্ঞা আরোপ, চাপ বৃদ্ধি এবং ভয় দেখানোর মাধ্যমে ইরানের জনগণের প্রতিরোধ ভেঙে দেওয়া যাবে না। বরং এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে ইরানি জনগণের প্রতিরোধ আরো জোরালো হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা কখনো মাথা নত করব না, হাঁটু গেড়ে বসব না।’

তিনি জানান, ইরান সংলাপ ও আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে কোনো ধরনের ‘শক্তির ভাষা’ বা বলপ্রয়োগের চাপ মেনে নেবে না তেহরান।

পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে একদিকে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে ইরানের আগ্রহের কথা উঠে আসে, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা ও চাপের মাধ্যমে সমাধান চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার বিরোধিতার বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আমাদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়েছেন, অথচ আমরাই সন্ত্রাসের শিকার

তিনি আরো অভিযোগ করেন, লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া ভবনে শিশুরা যখন খেলায় মগ্ন ছিল, তখন একাধিক ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সেখানে বর্বরোচিত হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ধারাবাহিক হামলায় ইরানের বিজ্ঞানীসহ বহু সাধারণ নারী-পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

পশ্চিমা নীতির দ্বিমুখী আচরণের কঠোর সমালোচনা করে মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘যারা নিজেরাই সন্ত্রাসী তৈরি করে, তাদের প্রশিক্ষণ দেয় এবং সুরক্ষা দেয়, তারাই উল্টো আমাদের সন্ত্রাসী বলছে।’

Iran's President Masoud Pezeshkian addresses the 81st United Nations General Assembly (UNGA) at UN headquarters in New York City, US, September 23, 2026.  REUTERS/MIKE SEGAR

তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইরান কোনো আগ্রাসন চালায়নি, বরং কেবল নিজের সার্বভৌমত্ব ও জনগণকে রক্ষা করেছে। সর্বাধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তির মুখে দাঁড়িয়েও ইরানি জাতি কোনো পরাশক্তির কাছে মাথা নত করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ভাষণে তিনি আরো উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি লঙ্ঘন করে ইরানের হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো হলেও তেহরান পাল্টা পদক্ষেপে কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের নিশানা করেনি।