• ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

ফিলিস্তিন শুধু একটি অঞ্চলের নয় , আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকের পরীক্ষা হলো ফিলিস্তিন: ইন্দোনেশিয়া

Usbnews.
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
ফিলিস্তিন শুধু একটি অঞ্চলের নয় , আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকের পরীক্ষা হলো ফিলিস্তিন: ইন্দোনেশিয়া
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ফিলিস্তিন প্রশ্নকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকের পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো বলেছেন, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের পাশে থাকবে ইন্দোনেশিয়া।

শনিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে সুগিওনো বলেন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে হবে এবং ঔপনিবেশিকতার অবসান ঘটাতে হবে।

তিনি বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘনের ঘটনা ১৯৪৫ সালের আগের বিশ্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। তখন জাতিসংঘ সনদ, মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা ও জেনেভা কনভেনশন কার্যকর হয়নি।

সুগিওনো বলেন, ইন্দোনেশিয়া নিজেও ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। দুর্বল আন্তর্জাতিক আইন ও শক্তিশালী পক্ষের ইচ্ছাই যেখানে প্রাধান্য পেত, সেই সময়ের অভিজ্ঞতা থেকেই ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতির ভিত্তিতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া তাদের পাশে থাকবে।

সুগিওনো বলেন, ফিলিস্তিন শুধু একটি অঞ্চলের বিষয় নয়। এটি এমন একটি পরীক্ষা, যার মাধ্যমে বোঝা যাবে বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিজেদের প্রতিষ্ঠার সময় নির্ধারিত নীতিগুলো রক্ষা করতে পারে কি না এবং প্রয়োজনের সময় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে কি না।

জাতিসংঘের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অসম্পূর্ণ বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সমাধান কম বহুপক্ষীয়তা নয়, বরং আরও শক্তিশালী ও কার্যকর বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম এবং কার্যকর হতে হবে।

এ সময় ২০২৯-৩০ মেয়াদে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদের জন্য ইন্দোনেশিয়ার প্রার্থিতার কথাও ঘোষণা করেন সুগিওনো। তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া ঐক্য জোরদার, শান্তি এগিয়ে নেওয়া, সংলাপ অব্যাহত রাখা এবং বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমঝোতা তৈরিতে কাজ করবে।

আসিয়ান, জি২০, ডি-৮, ব্রিকস ও মিকতার মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জোটের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া এই নীতি বাস্তবায়নে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন সুগিওনো। তিনি বলেন, জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী বাহিনী ইউনিফিলের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পথে থাকলেও মিশন শেষ হওয়ার সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিশ্রুতিও শেষ হবে না।

দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা নিয়েও কথা বলেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক শক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে জনগণকে কেন্দ্র করে ইন্দোনেশিয়ার সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা গড়ে তোলা হচ্ছে।