৭০ বছরের সংসার, ১০০ বছর বয়সে মারা গেলেন মাহাথিরের স্ত্রী।মাহাথির মোহাম্মদ একজন চিকিৎসক থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন একটি আধুনিক দেশের রূপকার। তিনি মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।
মাহাথিরের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ১৯৪৬ সালে, মাত্র ২১ বছর বয়সে। তিনি যোগ দেন ইউনাইটেড মালয়াস ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনে (ইউএমএনও)। এই দলের মনোনয়নে ১৯৬৪ সালে তিনি পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন।
মাহাথির মোট ২৪ বছর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। প্রথম দফায় টানা ২২ বছর (১৯৮১-২০০৩)। দ্বিতীয় দফায় দুই বছর (২০১৮-২০২০)। মালয়েশিয়ার ইতিহাসে তিনি সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের প্রধানমন্ত্রী।২০০৩ সালের অক্টোবরে মাহাথির স্বেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন।
বিরোধীদলীয় ‘পাকাতান হারাপান’ নামের এই জোট ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মাহাথিরকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। এই জোট ২০১৮ সালের ৯ মে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়।
১০ মে বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাহাথির শপথ নেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৯৪ বছর।
দীর্ঘ শাসনামলে মালয়েশিয়ার চেহারাই বদলে দেন মাহাথির। তিনি কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে দেশকে শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেন। এভাবে তিনি মালয়েশিয়ার অর্থনীতিকে করেন আধুনিক। দেশটির রাজনীতি পুনর্গঠন করেন তিনি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোসহ মালয়েশিয়ার প্রায় সব খাতের অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেন ।
ছাত্রজীবনে মাহাথির ছিলেন পরিশ্রমী ও মেধাবী। তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করেন। ১৯৫৩ সালে ডিগ্রি অর্জনের পর চিকিৎসক হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত চাকরি করে গেছেন। পরে সরকারি চাকরি ছেড়ে নিজ এলাকায় ব্যক্তিগত ক্লিনিক স্থাপন করেন।

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী মারা গেছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।
সিতি হাসমাহ ছিলেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে কাজ করা একজন পরিচিত ব্যক্তি।
সিতি হাসমাহ ও মাহাথির মোহাম্মদের পরিচয় হয় ১৯৪০-এর দশকের শেষ দিকে। তখন তারা দুজনই সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাবিদ্যা পড়ছিলেন।
পরে তাদের বিয়ে হয়। চলতি বছরের আগস্টে তারা ৭০তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছিলেন।
মাহাথির ২০১৮ সালে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সে সময় জাতিগত মালয় নারীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন ছিল বিরল।
তার স্ত্রী সিতি হাসমাহ কোন পারিবারিক তন্ত্র তৈরী করেন নাই। নিজের সন্তান এবং স্বামীর রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেন নাই। কিন্তু সেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেই আলাদা একটা পরিচিতি লাভ করেন।
মূল তথ্যসমূহ –
• দাম্পত্য জীবন: ১৯৫৬ সালের আগস্টে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং দীর্ঘ ৭০ বছর একত্রে কাটান।
• পেশা ও অবদান: তিনি প্রাক-স্বাধীন মালয়েশিয়ার অন্যতম প্রথম মালয় নারী চিকিৎসক ছিলেন। জনস্বাস্থ্য, মাতৃস্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে দেশটিতে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
• পরিবার: এই দম্পতি ৭ জন সন্তান (৪ জন জন্মসূত্রে এবং ৩ জন দত্তক) রেখে গেছেন।