• ৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২২শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

মদিনায় মসজিদে নববির বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ, অস্বীকার হুতিদের ,তৃতীয় পক্ষ থাকতে পারে

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ২, ২০২৬
মদিনায় মসজিদে নববির বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ, অস্বীকার হুতিদের ,তৃতীয় পক্ষ থাকতে পারে
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ইরানের ঘনিষ্ঠ হুতি গোষ্ঠী মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলা করেছে। এই কেন্দ্র থেকে ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান মসজিদে নববিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি—হামলার ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে যায়। তবে এতে পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ নেটওয়ার্কে কোনো প্রভাব পড়েনি। হুতিরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হুতি নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সাবাকে দেওয়া এক হুতি সামরিক সূত্র জোটের এই প্রতিবেদনকে মিথ্যা বলে দাবি করেছে।

এরপর হুতিরা জানায়, সৌদি বাহিনী ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং অন্যান্য এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে থাকা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্রও জানিয়েছেন, জোটের বাহিনী রাজধানী সানায় তাদের ভাষায় ‘উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তু’ বা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তবে তিনি হামলার লক্ষ্য বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা ২০২২ সালের পর সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর লড়াই। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হুতিদের আন্তসীমান্ত হামলা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু চলতি বছর আবার সংঘাত শুরু হয়েছে। জুলাই মাসে হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। এরপর তারা সৌদি ভূখণ্ড এবং জাহাজে হামলা শুরু করে। একই সময়ে হুতি বাহিনী ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকায়ও বড় ধরনের ভূখণ্ডগত সাফল্য অর্জন করেছে। জবাবে সৌদি আরব ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং হুতিদের প্রতিহত করতে লড়াইরত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীকে সমর্থন দিয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা তদন্ত করেছে এবং হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করেছে। জোটের দাবি, এসব তদন্ত ও ধ্বংসাবশেষের পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে মঙ্গলবারের হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে হুতিরা জড়িত ছিল।

তবে একজন হুতি সামরিক সূত্র এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সাবা সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে ওই সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, জোটের এই দাবি একটি ‘মিথ্যা’, যার উদ্দেশ্য হলো এর আগে হুতিরা মুসলিমদের পবিত্র নগরী ‘মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু’ করেছিল বলে সৌদি আরব যে অভিযোগ করেছিল, তার পক্ষে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি আড়াল করা।

মক্কা নিয়ে আগের অভিযোগ
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, তারা মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে, সেটি শহরের ওপর নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশ করার আগেই। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তখন দাবি করেছিল, ২০১৭ সালের পর মক্কাকে লক্ষ্য করার এটি হুতিদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা। তবে হুতিরা সেই অভিযোগও অস্বীকার করেছিল। তাদের দাবি ছিল, তারা মক্কা বা অন্য কোনো ইসলামি পবিত্র স্থানকে লক্ষ্য করে হামলা করেনি।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলাটি হুতিদের পক্ষ থেকে দুই পবিত্র মসজিদকে লক্ষ্য করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। ইসলামের দুই প্রধান পবিত্র মসজিদ হলো মক্কার মসজিদুল হারাম, যেখানে পবিত্র কাবা শরিফ অবস্থিত এবং মদিনার মসজিদে নববি, যেখানে নবী মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজা অবস্থিত।

জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, হুতিরা এসব পবিত্র স্থানে হামলার মাধ্যমে বিশ্বের মুসলমানদের ‘উসকানি’ দিতে চায়। জোট জানিয়েছে, তারা পবিত্র স্থান ও সেখানে থাকা মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষ বা হাজি-ওমরাহ পালনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।