• ৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২২শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করেছে ডিবি ,গ্রেফতারের আগে যা বললেন, মুক্তি দাবি জামায়াতের

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ৩, ২০২৬
আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করেছে ডিবি ,গ্রেফতারের আগে যা  বললেন, মুক্তি দাবি জামায়াতের
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক এমপি , বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করা মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছেন অফিস ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার।

তিনি জানান, তাকে থানায় দিয়ে গেছে ডিবি। এই বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মামলার তদন্তসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। এর আগে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের আগে ভিডিও বার্তায় যা বললেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

গ্রেপ্তারের ঠিক আগ মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় দেশবাসী, সবাই ভালো থাকবেন, সুখে থাকবেন। আমাকে এই মুহূর্তে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে, সবাইকে বিষয়টি জানিয়ে রাখলাম।

তিনি আরও বলেন, দোয়া করবেন আমি যেন জনগণের জন্য, দেশের মানুষের জন্য বিশেষ করে প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য যদি শহীদ হতে পারি, আল্লাহ যেন আমার সেই দাবি কবুল করেন, আহ্বান কবুল করেন। জনগণের অধিকারের সংগ্রামে আমি আছি, আজীবন থাকব। যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন জনগণের পাশে থাকব, জনগণের জন্য সংগ্রাম করব। জনগণের জন্য এই জীবন ত্যাগ করব। সবাই ভালো থাকবেন। আসসালামু আলাইকুম।

মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা, অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জামায়াতের

No photo description available.

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে তাকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে তাকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পবিত্র ওমরা পালন শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তিনি অন্যান্য যাত্রীর মতোই নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন। এর প্রতিবাদে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও লাগেজ নিয়ে অসদাচরণের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশ নিজেই জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে। অথচ তদন্তের আগেই বৃহস্পতিবার রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলা দায়ের করা হয় এবং সেই মামলায় শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। আমি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ ও দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা, অসম্মানজনক আচরণ, লাগেজ নিয়ে হয়রানি, লাগেজ থেকে মূল্যবান সামগ্রী হারানোর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি, এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে ঘোরানো এবং নারী, অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের অতিরিক্ত ভোগান্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে যাত্রীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে।

তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানসহ বহু যাত্রী যে ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অবিলম্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ, সেবার মান নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠারও দাবি জানান তিনি।

আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে মুক্তি দিন: জামায়াত আমির

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে মুক্তি এবং তার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।

ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির লেখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে মুক্তি দিন। সাজানো মামলা প্রত্যাহার করুন। তিনি কাউকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করেননি। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি আরও লেখেন, বিমানবন্দরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ছিল বলেই এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি (আখতারুজ্জামান) কেবল যাত্রী হয়রানি, প্রবাস থেকে ফেরত বাংলাদেশিদের প্রতি উপেক্ষা ও তাদের সঙ্গে অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করেছেন।

সবশেষ বিরোধীদলীয় নেতা লেখেন, তার (আখতারুজ্জামান) ভাষা কি ছিল সেটা দেখেন। কিন্তু তিনি যে বিষয়ে প্রতিবাদ করেছেন, তার ভুক্তভোগী সাক্ষী বিমানবন্দরের উপস্থিত যাত্রীরা। অতএব বিমানবন্দরের অনিয়ম, যাত্রী হয়রানি ও অসংগতিকে চাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার করে থাকলে, অশনি সংকেত! ভুক্তভোগী জনগণ এটা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবেন না।

 

জামায়াতের ৩৪ জন প্রতিনিধি সপরিবারে শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছার পর যা হয়

বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাহাসে জড়িয়েছেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব নিয়ে বিমানবন্দরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি, গালিগালাজ ও এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

এঘটনায় শুক্রবার হযরত শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে জামায়াতের ৩৪ জন প্রতিনিধি সপরিবারে শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান। যাত্রীর চাপ ও ট্রলি সংকটের মধ্যে লাগেজ ও জমজমের পানি পেতে দেরি হওয়ায় কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

পরে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে গেলে আখতারুজ্জামান তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ায় নিরাপত্তা সুপারভাইজার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে আঘাত করেন আখতারুজ্জামান।

 

ঠুনকো অজুহাতে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ভালো লক্ষণ নয়: সেলিম উদ্দিন

সামান্য ও ঠুনকো ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশবরেণ্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং তড়িঘড়ি করে তাঁকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দেশের জন্য অশুভ লক্ষণ বলে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে সেলিম উদ্দিন বলেন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে ভিআইপি এবং সংসদ সদস্যদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। দেশের স্বাধীনতার মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে তিনি বিমানবন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে কথা বলাতেই তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে মামলা দেওয়া হয়েছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যিনি যুদ্ধ না করলে দেশ স্বাধীন হতো না, সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে সামান্য কথা-কাটাকাটির জের ধরে কোনো দায়িত্বশীল সংস্থার পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করার পরিবর্তে উল্টো তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া ও তড়িঘড়ি গ্রেপ্তার করা কোনোভাবেই সমীচীন হতে পারে না। এই ধরনের ঠুনকো অজুহাতে মামলা ও গ্রেপ্তারের সংস্কৃতি দেশের জন্য কোনো ভালো লক্ষণ নয়।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী মানসিকতা পরিহার করে বর্তমান সরকার আইনের শাসন, ইনসাফ ও মানুষের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করবে—এটাই দেশবাসীর একমাত্র প্রত্যাশা। তবে দায়িত্বশীল জায়গাগুলোতে যদি এখনও সেই পুরোনো স্বৈরাচারী কায়দায় তুচ্ছ অজুহাতে হয়রানি করা হয়, তাহলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

অবিলম্বে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং তাকে ডিবি অফিস থেকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিবাদ করলেই মামলা, এটাই কী বিএনপির গণতন্ত্র: সাদিক কায়েম

হয়রানির শিকার হয়ে প্রতিবাদ করলে উল্টো নিজেকেই মামলা খেতে হবে- এটাই কী বিএনপির গণতন্ত্র? এমন প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। গতকাল শুক্রবার (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি। সাদিক কায়েম বলেন, ‘হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, অথচ ব্যবস্থাপনার অবস্থা মাছের বাজারের মতো। এখানে হয়রানির অভিজ্ঞতা আজকের নতুন নয়। আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। লাগেজ না পাওয়া, লাগেজ ভেঙে চুরি-এগুলো এ বিমানবন্দরে একদম স্বাভাবিক। এটা আমরা সবাই জানি।’ তিনি বলেন, ‘অথচ এশিয়ায় আমাদের পাশের দেশগুলো তাদের বিমানবন্দরের ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সুন্দর করে ট্রানজিটের মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক অর্থ উপার্জন করছে।’ মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রতিবাদ করেননি দাবি করে সাদিক কায়েম বলেন, ‘তিনি বলেছেন, যে সরকার বিমানবন্দরে ঠিকঠাক ট্রলি ব্যবস্থাপনা করতে পারে না, সেই সরকার কেন বোয়িং কিনতে যায়? বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হওয়া অসংখ্য যাত্রীর কণ্ঠস্বর হয়ে তিনি এই প্রতিবাদ করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু সরকার যাত্রীদের ভোগান্তির সুরাহা না করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিচয় দিলো। বিএনপি সরকার যেন নাগরিকদের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।’

উত্তরায় জামায়াতের বিক্ষোভ

বিমানবন্দরে নাগরিক হয়রানির প্রতিবাদ করায় প্রতিকারের পরিবর্তে সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব:) আখতারুজ্জামান এর বিরুদ্ধে হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর উত্তরা অঞ্চল। উত্তরার জসিম উদ্দিন সড়ক মোড় থেকে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাতের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিমানবন্দর সড়কে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।উত্তরা অঞ্চল পরিচালক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলমের পরিচালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন উত্তরা মডেল আমীর ইব্রাহীম খলীল, উত্তরা পশ্চিম আমীর মাজহারুল ইসলাম, উত্তরা পূর্ব আমীর মাহফুজুর রহমান,তুরাগ উত্তর আমীর মতিউর রহমান, দক্ষিণখান পূর্ব আমীর আবু সাঈদ, দক্ষিণখান পশ্চিম আমীর আবু সাঈদ শাহনেওয়াজ, বিমানবন্দর আমীর এনামুল হক শিপন, মহানগরীর যুব বিভাগের সেক্রেটারি মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মামলা প্রত্যাহার এবং হয়রানি বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।