• ৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৩শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

শেখ হাসিনাকে ঢুকতে দেওয়া ছাড়া ভারতের বিকল্প ছিল না: দীনেশ ত্রিবেদী

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ৩, ২০২৬
শেখ হাসিনাকে ঢুকতে দেওয়া ছাড়া ভারতের বিকল্প ছিল না: দীনেশ ত্রিবেদী
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া প্রসঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মন্তব্য করেছেন, তৎকালীন পরিস্থিতিতে তাকে ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া ছাড়া নয়াদিল্লির হাতে আর কোনো বিকল্প ছিল নাট

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনফারেন্স’-এর একটি সেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিক ও পুরোনো বন্ধু হিসেবে তৎকালীন সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারতের যা করা উচিত ছিল, তারা ঠিক সেটাই করেছে। শেখ হাসিনাকে বহনকারী উড়োজাহাজটিকে ভারতে অবতরণের অনুমতি না দিলে পরিস্থিতি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারত, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনুমতি না দিলে কী ঘটতে পারত তা কারও জানা নেই।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক শুধু লেনদেনের নয়: ভারতীয় হাইকমিশনার

শেখ হাসিনার ভারতে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ভারতীয় দূত জানান, তাকে ভারতীয় কোনো সামরিক বাহিনী বা বিমানবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি; বরং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর একটি বিমানে করেই দেশ ছেড়ে ভারতে পৌঁছান।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দীনেশ ত্রিবেদী জানান, এটি পুরোপুরি একটি বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়া, যা বর্তমানে নিজস্ব গতিতে চলছে। তিনি বলেন, বিষয়টির সঙ্গে আদালত ও সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো জড়িত থাকায় এ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা আগাম টাইমফ্রেম বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয়।

ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, দুই দেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও আস্থাই এ সম্পর্ককে বিশেষ করে তুলেছে।

আজ শনিবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর ‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স: ম্যানেজিং গ্রেট-পাওয়ার কমপিটিশন উইদাউট কনফ্লিক্ট’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

ভারত-বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশে নজরুলগীতি এবং ভারতে রবীন্দ্রসংগীতের চর্চার মধ্যেও দুই দেশের গভীর সাংস্কৃতিক যোগসূত্র রয়েছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই দেশের জাতীয় সংগীত রচনা করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের এ সম্পর্ক সত্যিই অনন্য।

দুই দেশের সম্পর্ক সব সময় এগিয়ে চলার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা তিনি দেখতে পাচ্ছেন, তাতে তিনি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমি ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছি। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে, তা আমি বুঝি। এই সম্পর্ক শুধু লেনদেনের সম্পর্ক নয়, এর চেয়েও অনেক বেশি কিছু। এই সাংস্কৃতিক বন্ধন অত্যন্ত গভীর ও শক্তিশালী।’

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ গণতান্ত্রিকভাবে তাদের সরকার নির্বাচন করেছে। বাংলাদেশ যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটি বাংলাদেশের সরকারের সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশকে কী করা উচিত, তা বলার অধিকার কারও নেই।’