• ৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৩শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ, বড় ক্রেতা আমিরাত

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ৪, ২০২৬
ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ, বড় ক্রেতা আমিরাত
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও সংঘাত চলার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ১৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস, হিজবুল্লাহ, হুতিদের সঙ্গে এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বেড়েছে।

ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানির উল্লেখযোগ্য একটি অংশ গেছে আব্রাহাম চুক্তির আওতাভুক্ত আরব দেশগুলোর কাছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মরক্কো ও বাহরাইন মিলিয়ে ইসরায়েল থেকে প্রায় ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে।

এই তিন দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে উঠে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আইআইএসএসের তথ্য অনুযায়ী, ইউএইর সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম, রাডার ও সেন্সরসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে।

দুই দেশের সহযোগিতা কেবল অস্ত্র কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ নেই। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিল্প ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বও গড়ে উঠেছে। আইআইএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বড় ডেটা, ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করছে।

মরক্কো ও বাহরাইনও ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে। ইসরায়েল থেকে এ দুই দেশও ড্রোন, রাডার ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে। তবে আইআইএসএসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অর্থায়নের সক্ষমতা এবং তুলনামূলকভাবে সীমিত প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তির কারণে আমিরাতের মতো বিস্তৃত শিল্প সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারেনি দেশ দুটি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আব্রাহাম চুক্তির অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গত কয়েক বছরে আরও বিস্তৃত হয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সামরিক ও প্রতিরক্ষা-শিল্প সহযোগিতা সরঞ্জাম কেনার গণ্ডি পেরিয়ে যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও বিনিয়োগের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আইআইএসএসের বিশ্লেষণ বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা-উদ্বেগ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। এর মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা রপ্তানি বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।