• ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৫শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর, আদালতে হট্টগোল

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ৪, ২০২৬
মুক্তিযোদ্ধা ও  সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.)  আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর, আদালতে হট্টগোল
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে করা মামলায় মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার এক দিনের রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে তার আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তবে জামিন শুনানি চলাকালে আদালতকক্ষে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিচারক কিছু সময়ের জন্য এজলাস ত্যাগ করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের পিপি ও উভয় পক্ষের আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, প্রতিবাদ করা অপরাধ নয়। তবে প্রতিবাদের ধরন ও আচরণ আইন ভঙ্গের পর্যায়ে গেলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, বিমানবন্দরে আখতারুজ্জামান কামাল উদ্দীন নামে এক কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে অপমান করা হয়েছে। জমজমের পানি নিক্ষেপের ঘটনাটিও পরিকল্পিত হতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, আখতারুজ্জামান জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্তে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিমানবন্দরে ঘটনাটি কেন এবং কী উদ্দেশ্যে ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ কারণে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, এক দিনের রিমান্ডে আখতারুজ্জামানের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে এবং তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। মামলার তদন্ত এখনো চলমান থাকায় তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

অন্যদিকে, আখতারুজ্জামানের পক্ষে আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিমানবন্দরের অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তার মক্কেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই দাবি করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

আইনজীবী আরও জানান, আখতারুজ্জামান গুরুতর অসুস্থ। তিনি ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় যেকোনো শর্তে তাকে জামিন দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুরের পর আদালতে দাঁড়িয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দেন আখতারুজ্জামান। পরে উপস্থিত আইনজীবীরা তাকে থামিয়ে দেন।

আদালতের বাইরে উত্তেজনা

রোববার আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করার পর থেকেই বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। শুনানি চলার সময় একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতণ্ডা হয়।

এদিকে আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত ভবনের সামনে জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী স্লোগান দেন। পরে তাদের সঙ্গে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও উভয় পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এর আগে দুপুরে এক দিনের রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। পরে বেলা ২টার দিকে কঠোর পুলিশি পাহারায় তাকে আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়।