দক্ষিণ সিরিয়ার কুনেইত্রা প্রদেশে গোলান মালভূমির কাছে বিচ্ছিন্নীকরণ রেখা বরাবর ইসরায়েলের খনন ও সামরিক অবকাঠামো নির্মাণকাজের নিন্দা জানিয়েছে সিরিয়া। দামেস্কের দাবি, ইসরায়েলের ‘সুফা ৫৩’ প্রকল্প ১৯৭৪ সালের ইসরায়েল-সিরিয়া বিচ্ছিন্নীকরণ চুক্তি লঙ্ঘন করছে।
রোববার সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছে। দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপও চেয়েছে তারা।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ইসরায়েলের এ ধরনের সামরিক তৎপরতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। একই সঙ্গে নিজেদের ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার অধিকার সিরিয়ার রয়েছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-ইখবারিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুনেইত্রা প্রদেশের আশার পশ্চিমে ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু করেছে। এই কাজ ‘সুফা ৫৩’ প্রকল্পের অংশ। প্রকল্পের আওতায় সীমান্তের বিচ্ছিন্নীকরণ রেখা বরাবর একটি সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।
দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা গত কয়েক দিন ধরে আরও বেড়েছে বলেও জানিয়েছে সিরিয়ার গণমাধ্যম। কুনেইত্রা ও দারা প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর প্রবেশ, মাটি সরানো, প্রতিরক্ষা স্থাপনা নির্মাণ এবং নতুন সামরিক অবস্থান তৈরির খবর পাওয়া গেছে।
‘গ্রেট স্টর্ম’ নামেও পরিচিত সুফা ৫৩ প্রকল্পের কাজ কুনেইত্রার বিচ্ছিন্নীকরণ অঞ্চলে ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে ধীরে ধীরে শুরু হয়। বাশার আল-আসাদের সরকার পতনের আগে প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে এর গতি বাড়ে।
প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ৮ মিটার প্রশস্ত একটি সামরিক সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি প্রায় ৫ মিটার উঁচু মাটির বাঁধ, পরিখা ও পর্যবেক্ষণ চৌকি তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিরিয়ার সিজিল সেন্টার। প্রকল্পটি উত্তর কুনেইত্রার হাদের এলাকার কাছ থেকে শুরু হয়ে জাবাতা আল-খাশাব, হামিদিয়া, কাহতানিয়া, রুয়াইহিনা, বির আজাম ও বারিকাহ হয়ে আশার এবং দক্ষিণের সীমান্ত এলাকার দিকে গেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটি।
সিরিয়ার ওই পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দাবি, প্রকল্পের কিছু অংশে ইসরায়েলি বাহিনী বিচ্ছিন্নীকরণ অঞ্চলের ভেতরে প্রায় ৩০০ থেকে ১ হাজার মিটার পর্যন্ত এগিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা কৃষিজমির বড় অংশ দখলে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েল তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল, দক্ষিণ সিরিয়ায় তাদের সামরিক তৎপরতা সীমান্তের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য হুমকি ঠেকানোর প্রয়োজন থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।
সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে ১৯৭৪ সালের ৩১ মে বিচ্ছিন্নীকরণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সেনাদের অবস্থানের মধ্যে একটি বাফার বা নিরপেক্ষ এলাকা তৈরি করা হয়। জাতিসংঘের ডিসএনগেজমেন্ট অবজারভার ফোর্স (ইউএনডিওএফ) ওই এলাকায় যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ও চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে।
সূত্র: শাফাক নিউজ