• ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৫শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

মধ্যপ্রাচ্যে স্বাভাবিক হচ্ছে জ্বালানি তেল রপ্তানি ,এশিয়ার বাজারে তেলের দাম ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নামাল সৌদি আরব

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ৫, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে  স্বাভাবিক হচ্ছে জ্বালানি তেল রপ্তানি ,এশিয়ার বাজারে তেলের দাম ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নামাল সৌদি আরব
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

চলমান সংঘাত ও উত্তেজনা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়কেও ছাড়িয়ে গেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব। আগামী নভেম্বর মাসের জন্য এশীয় ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা তেলের আনুষ্ঠানিক মূল্য গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নির্ধারণ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো।

সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রকাশিত মূল্য নির্ধারণী নথিতে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে রয়টার্সের এক সমীক্ষায় মধ্যপ্রাচ্যের বেঞ্চমার্ক অনুসরণ করে নভেম্বর মাসে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি সামান্য বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পূর্বাভাসের বিপরীত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরামকো।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহের চার দিনে তেল রপ্তানির পরিমাণ প্রাক-যুদ্ধকালীন গড়কে অতিক্রম করেছে। বিশেষ করে ২৪ সেপ্টেম্বর এবং ২৭ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে প্রতিদিন ১৯.৫ থেকে ২২.৫ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছায়। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে গড় রপ্তানি ছিল প্রতিদিন ১৮ মিলিয়ন ব্যারেল।

তবে ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার আলী ফাদাবি রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, বর্তমানে এই রুট দিয়ে প্রতিদিন মাত্র ৩ থেকে ৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবাহিত হচ্ছে, যা যুদ্ধের আগের তুলনায় ‘নগণ্য’। তিনি আরও বলেন, পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি ও ভারত মহাসাগরে কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ নেই এবং সেগুলো আইআরজিসির হামলার মুখে শতভাগ ঝুঁকিপূর্ণ।

উপাত্ত পর্যালোচনা করে আরও জানা যায়, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত দিনে অপরিশোধিত তেল, রাসায়নিক ও অন্যান্য তরল পণ্যের মোট সরবরাহ গড়ে ২২.৪ মিলিয়ন ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে সেপ্টেম্বর মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনও গত ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ২ অক্টোবরের পর থেকে হরমুজ প্রণালি ও এডেন উপসাগরে প্রতিদিন অন্তত একটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে ইরানের প্রধান সমন্বয়কারী ও স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পুনর্ব্যক্ত করেছেন, তেহরানের প্রস্তাবিত সাত দফা পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।

 

এশিয়ার বাজারে বিক্রির জন্য নভেম্বর মাসের আরব লাইট ক্রুড অয়েলের দাম ওমান ও দুবাইয়ের গড় দামের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলার কম নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মাসের তুলনায় এই দাম ৩ ডলার কম। রয়টার্সের হিসাবে, ২০২০ সালের জুনের পর এটাই এশিয়ার জন্য সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় ডিসকাউন্ট।

শুধু আরব লাইট নয়, এশিয়ার বাজারে বিক্রি হওয়া ভারী গ্রেডের তেল আরব মিডিয়াম ও আরব হেভির দামও ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলার কমানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এশিয়ার বাজারে ক্রেতা ধরে রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরামকো। বিশেষ করে সমুদ্রপথে তেল পরিবহনের ফ্রেইট রেট রেকর্ড পর্যায়ে ওঠা এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে রপ্তানি কার্যক্রমে সম্ভাব্য বিঘ্নের প্রভাব এড়াতে এশীয় ক্রেতাদের জন্য মূল্য কমানো হয়েছে।

সম্প্রতি লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে তেলবাহী ট্যাংকারের ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের মূল্য কমানোর সিদ্ধান্তকে সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের একটি অংশ পুষিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তবে এশিয়ার জন্য মূল্য কমালেও ইউরোপের বাজারে উল্টো পথে হেঁটেছে সৌদি আরামকো। উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের জন্য নভেম্বর মাসে সব গ্রেডের তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের জন্য নভেম্বরের তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স,  আল জাজিরা