রাজনীতির রহস্যময় সিরাজুল আলম খান জীবনের প্রথম মিডিয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন ইউএসবি নিজের সাথে। সিরাজুল আলম খান ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাষ্ট্রে এলে নিউইয়র্কে স্বাক্ষাৎকাটি নিয়েছেন ইউএসবি নিউজের সম্পাদক এমজেড ফয়সল।
রাজনীতি , ইতিহাসের বহু অজানা বিষয়ে মুখোমুখি হয়ে রাজনীতির রহস্যময় সিরাজুল আলম খান অনেক বিষয়ে সরাসরি বলেন এবং অনেক বিষয় ইতিহাসের উপর ছেড়ে দেন।বাংলাদেশ স্বাধীনের আগে ও পরে—তার রাজনৈতিক জীবনের দুটি অধ্যায়।অনেক প্রশ্নের বিষয়ে নীরব থেকে গেছেন। ইতিহাসের উপর ছেড়ে দিয়েছেন।
১৯৭২ সালের অক্টোবরে শেখ ফজলুল হক মনি ও মোস্তফা মহসিন মন্টুকে দায়িত্ব দিয়ে যুবলীগ গঠন করেন শেখ মুজিবুর রহমান । অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যুবলীগের কমিটি গঠনের ৪-৫ দিনের মধ্যে ৩১ অক্টোবর সিরাজুল আলম খান গঠন করলেন ‘জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)’। মেজর (অব.) জলিল ও আসম রবকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে কমিটি ঘোষণা করেন। সিরাজুল আলম খান জাসদের কোনো পদে থাকলেন না। তার নাম কোথাও থাকল না। অথচ তিনিই জাসদের সর্বেসর্বা।
১৯৬২ সালের দিকে ছাত্রলীগের ভেতরে গড়ে তুলেছেন ‘নিউক্লিয়াস’। নেতৃত্বে সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমেদ। নিউক্লিয়াসের প্রধান কাজ আন্দোলন, সংগ্রামকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার দিকে নিয়ে যাওয়া। শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফা নিয়ে যখন তর্ক-বিতর্ক চলছে, সিরাজুল আলম খান তখন দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছেন ৬ দফার পক্ষে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে ছাত্রলীগ পালন করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর চাপ তৈরি করেছেন যে, ৭ মার্চের ভাষণে যেন ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ দেওয়া হয়।
ছাত্রজীবনের শুরুটা কেমন ছিল ?
আমি নোয়াখালীর মিডল ইংলিশ (এমই) স্কুল থেকে প্রাইমারী পাশ করি। এরপর নোয়াখালী বেগমগঞ্জ হাই স্কুলে ২ বছর লেখাপড়া করি। খুলনা জিলা স্কুল থেকে ১৯৫৬ সালে ম্যাট্রিক পাশ করি। আমি পূর্ব পাকিস্তান স্কুল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মেট্রিকুলেশান পরীক্ষা দেওয়া শেষ ব্যাচের ছাত্র। ১৯৫৬ সালে ঢাকা কলেজে ভর্তি হই। ছাত্র হিসেবে অত্যন্ত মেধাবী ছিলাম। ভাবতাম মেট্রিকে প্রথম স্থান অধিকার করবো। শিক্ষকরাও তা মনে করতেন। পরীক্ষার ফলাফল বের হবার পর দেখলাম আমার স্থান দশের মধ্যেও নেই। পরে খোঁজ নিয়ে জেনেছিলাম আমার স্থান ছিলো ১৮তম।
জীবনে প্রথম একটা বড় মাপের ধাক্কা খেলাম। ধাক্কা সামলাতে না সামলাতে দুই বছরের মাথায় ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। বাবা-মায়ের ইচ্ছে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবো। কিন্তু আমিতো তা হবো না। যেহেতু সায়েন্সের ছাত্র, ঠিক করলাম এমন সাবজেক্ট নেবো না যাতে প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস করতে হবে। অর্থাৎ হাতে অফুরন্ত সময় থাকতে হবে। অতএব অঙ্কশাস্ত্রকেই বেছে নিলাম। ১৯৫৯ সাল। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্কশাস্ত্রের ছাত্র।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে রাজনীতিতে বেশি জড়ানোর পেছনে কি বিশেষ কোন কারণ ছিল ?
বন্ধুরা প্রায় সবাই খন্ডকালীন চাকুরিতে ব্যস্ত। আমি ফজলুল হক হলের আবাসিক ছাত্র। ছুটি-ছাটায় বাড়িতে যেতাম না। তখন ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনের পাবলিক লাইব্রেরি ছিলো ঢাকায়। আমি সেখানে গিয়ে প্রচুর লেখাপড়া করতাম। আমি ও আমার আরেক বন্ধু, যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ ডাবল অনার্স পাওয়া ছাত্র ছিলো। ১৯৭১-এর সশস্ত্র যুদ্ধের প্রথমদিকেই সে মারা যায়।
আমি ইংরেজিতে দুর্বল ছিলাম। এই দৌর্বল্যের কথা মনে রেখে সব সময় চেষ্টা করেছি কী করে ভালো ইংরেজি শেখা যায়। তখন ঢাকার মার্কিন তথ্যকেন্দ্র ছিলো প্রেসক্লাবের ঠিক সামনে, রাস্তার অপর পারে। তবে ফুলার রোডে অবস্থিত ব্রিটিশ কাউন্সিলের মতো তার এতো শানশওকত ছিলো না। এ ধরনের লম্বা ছুটিতে তখন বেশির ভাগ ছাত্রই গ্রামের বাড়ি চলে যেতো। সেবার আমি আর আমার সেই বন্ধু মিলে ঠিক করলাম আমরা গ্রামের বাড়িতে যাবো না, দিল্লি যাবো। লম্বা ছুটিতে হল খালি হয়ে যায়। এই সময়ে খাওয়া-দাওয়ার প্রাইভেট ব্যবস্থা হতো। ছাত্ররাই করতো।
দিল্লি ভ্রমণের ইচ্ছের পেছনে একটি বড় কারণ ছিলো। আমার ছোট চাচা ফিরোজ আলম খান তখন নয়াদিল্লির পাকিস্তান হাই কমিশনে কমার্শিয়াল সেকশনের সেকশন অফিসার।
অনেকটা উদ্দেশ্যহীনভাবেই তাকে একটি চিঠি লিখলাম।
চিঠির উত্তর এসে গেলো দ্রুত। জানালেন, আমার দিল্লি ভ্রমণে তিনি খুবই আগ্রহান্বিত। কয়েকদিনের মধ্যেই কূটনৈতিক চ্যানেলে আমার কাছে ভিসার আবেদনপত্র পাঠিয়ে দিলেন। আমাদের মধ্যে দু’তিনটা চিঠির আদান-প্রদানও হলো। চাচার কাছ থেকে ভিসার আবেদনপত্র পেলাম ঠিকই। কিন্তু ভিসার আবেদন করার আগেতো পাসপোর্ট করাতে হবে।
১৯৫৯ সালে তিনি শিক্ষা বিভাগের ডিডিপিআই হিসেবে সরকারি চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
পাসপোর্টের আবেদনে লিখতে হবে দিল্লির পাকিস্তান হাইকমিশনে কর্মরত পিতৃব্য অত্যন্ত অসুস্থ। তাঁকে দেখতে যাওয়া জরুরি। বাকিটুকু তিনি দেখবেন। তাঁর পরামর্শানুযায়ী পাসপোর্টের আবেদন করি। তিনি উদ্যোগ নিয়ে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই পাসপোর্ট করিয়ে দিলেন। এরপর ভিসার আবেদন। সেখানেও লোকে লোকারণ্য। লাইনে শত শত মানুষ। বুঝলাম, এভাবে করতে গেলে দিল্লি যাবার আগেই আমার ছুটি ফুরিয়ে যাবে। ইতোমধ্যে আমি বুঝে ফেলেছি পাকিস্তানিদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করতে হয়।
লাইন বাদ দিয়ে সরাসরি ভিসা অফিসারের কক্ষে ঢুকতে গেলাম। অবাঙালি গার্ড তেড়ে আসলো। আমি আরও জোরে তেড়ে গেলাম। বচসা। হুলুস্থুল। অফিসারের আগমন। এসব ঘটে গেলো দ্রুত। ভিসা অফিসার আমাকে তাঁর কক্ষে ডেকে নিয়ে গেলেন। আমি বললাম, আমার জরুরিভিত্তিতে ভিসা দরকার। অফিসার আমার ব্যাপারটা বুঝলেন। আমাকে দুপুরের খাবার খাওয়ালেন এবং সেদিনই ভিসা দিয়ে দিলেন।
তখন পূর্ব পাকিস্তান থেকে ট্রেনে চড়ে ভারতের যে কোনো জায়গায় যাওয়া যেতো। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিলো।
ট্রেনে ঢাকা-দিল্লি ভাড়া ২৮ টাকা ১২ আনা। গোয়ালন্দ থেকে ট্রেন গিয়ে থামলো শেয়ালদা। প্ল্যাটফর্মে নেমেই বুঝলাম ভারতীয়রা আমাদের উপস্থিতি পছন্দ করে না। চোখে-মুখে বিরক্তি। তখন অবশ্য সেটাই স্বাভাবিক ছিলো। মাত্র কয়েক বছর আগে দেশ ভাগ হয়েছে। ভারত বিভাগের রূঢ় বাস্তবতা ভারতীয়রা তখনও মেনে নিতে পারেনি।
হাওড়া থেকে দিল্লি। ট্রেনে প্রচন্ড ভিড়। পৌঁছতে দুদিনের বেশি সময় লেগে গেলো। দিল্লিতে নেমে অনেকটা স্বস্তি পেলাম। ছোট চাচার বাসা খুঁজে পেতে কোনো কষ্ট হলো না। দিল্লি শহর ট্যাক্সি ড্রাইভার সিং জি’র নখদর্পণে। তাছাড়া চাচার বাসাটি ছিলো দিল্লির বেশ একটি সম্ভ্রান্ত এলাকায়। দিল্লিতে দুই মাস চৌদ্দ দিন ছিলাম। এ সময়ে ১৪ আগস্ট ছুটির দিন চাচা পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে নিয়ে যান। তখন এ কে ব্রোহি দিল্লিতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত। পাকিস্তানে সামরিক শাসন চলছে। অনুষ্ঠানে গিয়ে আমার জায়গা হলো কয়েকশত গজ পেছনে। সারিবদ্ধ লাইনে সবাই দাঁড়ানো। আমার নিজস্ব অভ্যাসের কারণে সামনে যেতে চাইলাম। পারলাম না। চাচা বললেন, সামনে বড় অফিসার। তোমাকে ওখানে যেতে দেবে না। অনুষ্ঠান শেষে ফিরে আসছি, চাচাকে বললাম, আমরা এতো পেছনে কেনো? তিনি বললেন, সামনে বসতে হলে বড় অফিসার হতে হবে। বিষয়টি বুঝেও গ্রহণ করতে পারলাম না।
এদিকে সারাদিন দিল্লি ঘুরছি। এতো বড় বড় রাস্তা। বিরাট দোকানপাট। লালকেল্লা, জামে মসজিদ, কুতুবমিনার। আগ্রা গেলাম। তাজমহল দেখলাম। রাষ্ট্রপতি ভবন অবিশ্বাস্য রকমের বড়। পুরনো আমলের অবশিষ্ট ভগ্নাংশ। এমনি ধরনের শত শত বড় দালানকোঠা। চাচাদের রোববার ছুটির দিন। জিজ্ঞেস করতেন, কোথায় কোথায় গিয়েছি. কী কী করেছি। বলতাম।
জিজ্ঞেস করতাম, এখানে সবকিছু এতো বড় বড়, ঢাকায় তার কিছুই নেই। বায়তুল মোকাররম তখনও হয়নি। রাস্তাঘাট দোকানপাট যা আছে ঢাকায় দিল্লির তুলনায় আমার কাছে মামুলি মনে হলো। এক রোববারে আলাপের সময় জিজ্ঞেস করলাম, আমাদের তো ঢাকায় কিছুই নেই। চাচা বললেন, ঢাকায় নেই, কিন্তু করাচিতে আছে। করাচি তখন পাকিস্তানের রাজধানী। আরও বললেন, রাজধানী না হলে বড় কিছু হয় না। আমরা তো প্রদেশ। সে কারণে আমাদের বড় কিছু নেই।
এরপর মনে হয় আট-দশদিন ছিলাম। সে কয়দিন আর ঘর থেকে বের হইনি। দিল্লিতে ওই সময়ে ভালো ভালো সিনেমা দেখেছি। বড় বড় সিনেমা হল। মুঘল-ই-আজম ছবিটি দেখি দিল্লিতে। সবেমাত্র রিলিজ হয়েছে। সিনেমা হলগুলো খুবই জাঁকজমকপূর্ণ। আমাদের একমাত্র আধুনিক গুলিস্তান হল তখন কেবল হয়েছে। বাকিগুলো ছিলো নেহায়েত গুদাম ঘর।
দিল্লি থেকে ফিরে এসে কিছুতে মন বসাতে পারতাম না। একটি চিন্তাই আমাকে সারাক্ষণ পীড়িত করতো। সেটি হলো: কেনো আমাদের কোনো কিছুই বড় নয়।
এদিকে দিল্লি থেকে ফেরার পরই আমি কেমন যেন হয়ে গেলাম। লেখাপড়ায় সে রকম মন বসাতে পারছিলাম না। তবুও ডিগ্রী তো নিতে হবে। সেটুকুর জন্য যা পড়াশোনা দরকার তা অবশ্য হতো। অঙ্কশাস্ত্রের পড়াশোনার চাইতে বাইরের বই পড়ার ওপর ঝোঁক এসে গেলো। বই পড়াতেই আমার তখন উৎসাহ সবচেয়ে বেশি। চারদিক থেকে বইপত্র এনে জোগাড় করে দিতেন আজহার ভাই ও রেজা কাদের ভাই। ভালো ছাত্র হবার কারণে ইউনিভার্সিটির পাঠ্যপুস্তকের বাইরের নানা বিষয়াদি পড়ার দিকে আরও মনোযোগী হলাম।সে সময়ে ইংরেজিতে অতোখানি দখল না থাকার কারণে দুবার করে বইগুলো পড়তাম। অনেক সময় যারা ইংরেজিতে অনার্স পড়তেন তাদের সাহায্য নিতাম। রেজা কাদের ভাই ইংরেজিতে খুব ভালো ছিলেন। আমাকে সর্বাত্মক সাহায্য ও সহযোগিতা করতেন।
১৯৬১-’৬২ সালে আইয়ুব খানের সামরিক সরকারের সময়ে ভূমিকা কেমন ছিল ? হলগুলোর বাইরে ও ভিতরে ভূমিকা কেমন ছিল ?
১৯৬১-’৬২ সালে আইয়ুব খানের সামরিক সরকারের হাতে হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর গ্রেফতারের প্রতিবাদে সভা ও ছাত্র ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি নেওয়ার জন্য ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে আলাপে বসে ছাত্রলীগ। মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন গোপনে সভা করলো। সন্ধ্যা থেকে মাঝ রাত পর্যন্ত মিটিং চললেও সিদ্ধান্ত ছাড়াই সে মিটিং শেষ হয়। আমরা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ধর্মঘটের প্রস্তুতি হিসেবে রাতে হাতে লেখা পোস্টার সেঁটে দিলাম হলগুলোর বাইরে ও ভিতরে, প্রবেশের গেইটে, ক্যান্টিনের সামনে ও রিডিং রুমে। তখন এফএইচ হল, ঢাকা হল (বর্তমান শহীদুল্লাহ হল), এসএম হল, জগন্নাথ হল, ইকবাল হল (বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ও রোকেয়া হল ছাড়া ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে আর কোনো ছাত্রাবাস ছিলো না। রোকেয়া হল ছাড়া সব জায়গায় আমরা পোস্টার লাগিয়ে দিলাম। ছাত্ররা প্রথমে ক্লাসে আসার পথে হল থেকে বের হয়ে এবংবিশ্ববিদ্যালয়ের ঢোকার সময় পোস্টার দেখে ক্লাস করা থেকে বিরত থাকলো। তখন ক্লাস হতো আমতলায় (বর্তমান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সামনে) ও কার্জন হলে।
পোস্টার লেখার দায়িত্ব ছিলো রেজা কাদের ভাইয়ের। তিনি নিজের হাতে ৫০টির মতো পোস্টার লিখে দিলেন। ‘সোহ্রাওয়ার্দীর মুক্তির দাবিতে ছাত্র ধর্মঘট পালন করুন।’ এ নামে পোস্টারগুলো লেখা হলো। আবদুর রাজ্জাক তখন সবেমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। আমি ও আবদুর রাজ্জাক দুজনেই মূলত পোস্টার লাগাই রাতের অন্ধকারে। সামরিক শাসনের অধীনে এটি ছিলো গুরুতর অপরাধ, শাস্তি ছিলো বেত্রাঘাত। এখনকার মতো সাদা পেপারে চাররঙা পোস্টার ছাপানোর কথা কেউ স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারতো না। পোস্টার লেখা হতো হয় ছাপানো সংবাদপত্রের ওপরে মোটা দাগের কালি দিয়ে অথবা সামান্য পয়সা জোগাড় করতে পারলে সাদা নিজউপ্রিন্টের ওপরে মোটা কালিতে হাতে লিখে।
মজার ব্যাপার হলো এ ধর্মঘট হওয়ার কারণে (১-২ জানুয়ারি, ১৯৬২) ঢাকা হলকে মিলিটারিরা ঘেরাও করলো। হলের সব ছাত্রকে তারা ধরে নিয়ে গেলো এবং দুদিন ক্যান্টনমেন্টে আটক করে রাখলো। সব মিলিয়ে প্রায় ২৫০ জন ছাত্র। আমি হলে না থাকার কারণে গ্রেফতার হলাম না। সামরিক শাসন থাকলেও তখন হলগুলোর নির্বাচন হতো। হলের নির্বাচিত ভিপি ও জিএসসহ দশ-বারোজনকে রেখে বাকি সবাইকে মিলিটারি গাড়িতে উঠিয়ে টঙ্গির কাছাকাছি নিয়ে ছেড়ে দেয়। এ দীর্ঘ পথ হেঁটে সবাই হলে ফিরে আসে। সামরিক বাহিনীর লোকেরা নানা ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলো। পোস্টার লেখা ও লাগানোর পিছনে কে কে ছিলো সেটি বিশদভাবে জানতে চায়।
শিক্ষা আন্দোলন চলাকালে পাকিস্তানের সংবিধান রচনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার এ জন্য সংবিধান রচনা কমিশন বা কমিটি গঠন করেছিলো। এ কারণে আন্দোলন শিক্ষা কমিশনের বিরোধিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো না। সংবিধানের বিষয়টি একেবারে সামনে চলে আসে।
এফএইচ হল থেকে বহিষ্কৃত করার পর ও ঢাকা হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন বিষয়টি কি সত্য ? কি কারণে বহিস্কার করা হয় ?
আমি অনেক রাতে হলে ফিরতাম। বিভিন্ন জায়গায় রাতে রাতে কিছু কাজ করতাম। সে জন্য ফিরতে অনেক দেরি হতো। কিন্তু কেউ জানতো না, কী কারণে রাত হতো। কারণ দর্শাতে না বলেও ‘সন্তোষজনক উত্তর না দেওয়ার’ কারণে ফজলুল হক হল থেকে আমাকে বহিষ্কার করা হয়। তখন হলের প্রভোস্ট ছিলেন ড. মাজহারুল হক। এফএইচ হল থেকে বহিষ্কৃত হবার পর আমি ঢাকা হলের আবাসিক ছাত্র হলাম। সেখানেও এক বছরের মাথায় ‘কেনো সে রাতের বেলা দেরি করে আসে যার কারণ একমাত্র সে ছাড়া আর কেউ জানে না’ এ অভিযোগে প্রভোস্ট ড. মুশফিকুর রহমান আমাকে ঢাকা হল থেকে বহিষ্কার করেন। ঢাকা হলে ছিলাম এক বছর। এরপরে থাকা শুরু করলাম নিমতলির একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ‘নিমভিলা’ নামক বাসায়। অনেক প্রাক্তন ছাত্র ওই বাড়িতে থাকতেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষে সিএসএস (পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিস) পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অনেকেই সেখানে থাকতেন। অনেক রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারাও থাকতেন। এদের মধ্যে ছিলেন মনোয়ার হোসেন ও শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকও সেখানে থাকতেন। দিল্লির পর পড়াশোনা ও রাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে আমার ঔৎসুক্য অনেক বেড়ে গেলো। স্বাধীন দেশ না হলে বড় কিছুই হয় না এই কথাটি আমাকে তাড়িয়ে বেড়াতে থাকে।
বহু বছর পরে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক হলেন কখন এবং কোন প্রেক্ষাপটে ?
ইতোমধ্যে সমসাময়িক (যদিও দুই বছর নিচে) আবদুর রাজ্জাক ফজলুল হক হলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলেন। হলের নির্বাচনী রাজনীতিতে দুজনই একসঙ্গে কাজ করলাম। সে সুবাদে পরস্পর ঘনিষ্ঠ হলাম। দিনের বেলা দুজনের কথা বলা সম্ভব নয়। সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দারা ছাত্রদের মধ্যে কাজ করতো। রাজ্জাক ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, আমি সহ-সম্পাদক।
আমাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বই পড়তে দেখে এবং অন্যান্য বিষয়ে আমার জানাশোনার আগ্রহের কারণে রাজ্জাক একদিন জিজ্ঞেস করে বসলো, আমি অংকশাস্ত্রের বাইরে এতো লেখাপড়া করি কেনো? আমি তাকে আমার বাবার উপদেশমূলক কথাটি বললাম। পৃথিবীতে বড় হতে হলে জ্ঞান আহরণের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।
১৯৬১ সালে রফিকউল্লাহ চৌধুরী সভাপতি, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন সাধারণ সম্পাদক ও আমি কার্যনির্বাহী সদস্য হই। সে সময়ে ছাত্রলীগের কারা নেতৃত্ব দেবে সেটি মূলত নির্ধারিত হতো ঢাকা কলেজের ছাত্রদের দ্বারাই। ঢাকা কলেজের ছাত্ররা সে সময়ে ঢাকা শহরের রাজনৈতিক আন্দোলনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতো।
১৯৬২ সালে সামরিক শাসনামলে গোপনভাবে ইফতার পার্টির মাধ্যমে শাহ মোয়াজ্জেম সভাপতি, শেখ ফজলুল হক মনি সাধারণ সম্পাদক এবং আমি সহ-সম্পাদক নির্বাচিত হই। এভাবেই শেখ ফজলুল হক মনির সঙ্গে আমার প্রথমদিকের পরিচয়; কয়েক দিনেই দুজন খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে গেলাম।
সিরাজুল আলম খান ছাত্রলীগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র বিষয়টি কিভাবে দেখেন ?
অনেক ক্ষেত্রেই ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির চেয়েও বঙ্গবন্ধু বেশি পছন্দ ও নির্ভর করতেন সিরাজুল আলম খানের ওপর। শেখ মনির সঙ্গে তার শীতল ও বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি অজানা ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে অবস্থানকালীনও দ্বন্ধ চলমান থাকে, বৃদ্ধি পায়। স্বাধীনতার পর যা বড়ভাবে দৃশ্যমান হয়ে সামনে আসে। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শেখ মনি ও সিরাজুল আলম খানের মতাদর্শ-পৃষ্ঠপোষকতা ছাত্রলীগের ২ গ্রুপ পরস্পরবিরোধী অবস্থানে চলতে থাকে। ১৯৭২ সালে একই দিনে ছাত্রলীগের ২ গ্রুপ ২ জায়গায় সম্মেলনের ঘোষণা দেয়। ২ গ্রুপই সম্মেলন উদ্বোধন করাতে চায় বঙ্গবন্ধুকে দিয়ে। বহু জল্পনা-কল্পনা, নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মনি সমর্থিত ছাত্রলীগের সম্মেলনে উপস্থিত হন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সিরাজুল আলম খানের বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের দৃশ্যমান সূচনা মূলত তখন থেকেই। যা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে, কখনো কমেনি।
‘নিউক্লিয়াস’ গঠনের কারণ কি ছিল ?
১৯৬২ সালের দিকে ছাত্রলীগের ভেতরে গড়ে তুলেছেন ‘নিউক্লিয়াস’। নেতৃত্বে সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমেদ। নিউক্লিয়াসের প্রধান কাজ আন্দোলন, সংগ্রামকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার দিকে নিয়ে যাওয়া। বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা নিয়ে যখন তর্ক-বিতর্ক চলছে, সিরাজুল আলম খান তখন দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছেন ৬ দফার পক্ষে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে ছাত্রলীগ পালন করেছে অবিস্মরণীয় ভূমিকা। বঙ্গবন্ধুর ওপর চাপ তৈরি করেছেন যে, ৭ মার্চের ভাষণে যেন ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ দেওয়া হয়।বঙ্গবন্ধু নিউক্লিয়াস সম্পর্কে অবগত হন আগরতলা মামলা থেকে মুক্তির পরে ৭০ সালের দিকে।
ভারতের ইন্দনে কি ‘স্বাধীনতা’ চিন্তা মনে এসেছিলো ?
দিল্লির বিষয়গুলো আমার মাথায় শুধু ছিলোই না, সেটি আমাকে পেয়ে বসেছিলো। সেই সাথে নাম প্রকাশ করা যাবে না কিন্তু একটি পক্ষ আমাদের ছাত্রদের টার্গেট করে তারা বাংলাদেশ স্বাধীনের দিকে আন্দলোনের একটা হাওয়া লাগানোর চেষ্টা করেছিল যা পরবর্তীতে আমরা বুজেছি।
১৯৬২ সালে সোহ্রাওয়ার্দীর মুক্তির দাবিতে পোস্টার লাগানোর ঘটনার পর আমাদের দুজনের আলোচনা আকারে-ইঙ্গিতে না হয়ে অস্পষ্টতার পরিবর্তে সুস্পষ্টভাবে কথাগুলো বেরিয়ে আসতে লাগলো যে, ‘স্বাধীনতা’ ছাড়া কোনো জাতি বেশি দূর এগুতে পারে না। উপরন্তু, বারোশত মাইলেরও দূরে থেকে একটি রাষ্ট্র আমাদেরকে তাদের উপনিবেশের মতো ব্যবহার করবে এবং আমাদের সম্পদগুলো নিয়েই যাবে বিনিময়ে আমাদের ওপর অত্যাচার, অবিচার, নিপীড়ন ও শোষণ ছাড়া আর কিছুই করবে না তেমন পরাধীন একটি দেশে বাস করার অর্থ নিজের চিন্তা-চেতনা ও স্বপ্নকে পরাধীনতার মোড়কে চিরতরে আবদ্ধ করে রাখা।
পাকিস্তানের ‘স্বাধীনতা’ তাই আমাদের জন্য ‘পরাধীনতা’। পাকিস্তানের বিষয়টি আমাদের দুজনের মধ্যে আর রাখ-ঢাক থাকলো না। প্রায় প্রতি রাতেই এ আলোচনা আমাদেরকে মধ্যরাত পর্যন্ত জাগিয়ে রাখতো। হলে ফিরতাম শেষ রাতে।
আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে আলোচনাটা মূলত হতো কার্জন হলের প্রাঙ্গণে ও ফজলুল হক হলের পুকুর পাড়ে। আমি ঢাকা কলেজে থাকাকালে একদিন কলেজ ছুটির পর কলেজ অডিটরিয়ামে কামরুদ্দিন আহমদ (জাতিসংঘে পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য)-এর একক বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। তার বক্তৃতা আমার শুধু ভালোই লাগেনি, আমার মনে হলো রাজনীতির জ্ঞান অন্যসব জ্ঞানের শীর্ষে। বক্তৃতায় আন্তর্জাতিক বিষয়সমূহ অতি সুন্দরভাবে তিনি তুলে ধরলেন যেমন, মিশরের বিরুদ্ধে সুয়েজ খালকে কেন্দ্র করে ব্রিটেন ও মিশরের যুদ্ধ, প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে জওহরলাল নেহেরু, স্বাধীনতা আন্দোলনকারীদের মধ্যে জোমো কেনিয়াত্তা এদের ভুমিকা কীভাবে একটা জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন আনতে পারে তাও আমার চিন্তার জগতে একটি মাত্রা হিসেবে যুক্ত হলো।
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তির কয়েক মাস পরে কামরুদ্দিন আহমদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সদরঘাটে জেলা বার লাইব্রেরিতে গেলাম। তিনি এ্যাডভোকেট ছিলেন। দেখা হবার পর বাসায় যেতে বললেন। ঠিকানা নিলাম ও কয়েক দিনের মধ্যেই ৯/এ, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় তাঁর বাসায় গেলাম। প্রথমে আমি একা এবং পরে রাজ্জাক ও আমি নিয়মিত যেতাম। তবে সে যাওয়া সবসময়ই রাতের বেলায়। কারণ সামরিক গোয়েন্দারা আমাদেও ওপর কড়া নজর রাখতো বলে আমাদের ধারণা। ১৯৬০-’৬১ সাল। কামরুদ্দিন সাহেব দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ও তাতে আমাদের অংশগ্রহণের ব্যাপারে আগ্রহ দেখে নিয়মিত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বললেন। তিনি তাঁর যে কোনো আলোচনাতেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস ও দর্শনের ওপরে গুরুত্ব দিয়ে রাজনীতি চর্চার কথা বলতেন।
গোপনে বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ) গঠন নিয়ে ভূমিকা কেমন ছিল ?
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের বিশ্বস্ত ও শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে এই বাহিনী গঠিত হয়। প্রধান সংগঠক: এর মূল সংগঠক বা রূপকার ছিলেন চারজন ছাত্র ও যুবনেতা শাজ্জাদুল আলম খান (সিরাজুল আলম খান), শেখ ফজলুল হক মণি, তোফায়েল আহমেদ এবং আব্দুর রাজ্জাক।
ভারতীয় সহায়তা প্রসঙ্গে কি মন্তব্য ?
এই বাহিনী গঠনে ও প্রশিক্ষণে ভারতের তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল সুজন সিং উবান বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
এই বাহিনী গঠনে ও প্রশিক্ষণে ভারতের তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল সুজন সিং উবান বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
এই বাহিনী অস্থায়ী মুজিব নগর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত ছিল। একই সঙ্গে এই বাহিনী স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সেনাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জগজিৎ সিং অরোরার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। এই বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল সুজন সিং উবান, যিনি ভারতীয় স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের কমাণ্ডার (ইন্সপেক্টর জেনারেল) ছিলেন। ভারতের ভূখণ্ডে একটি গোপন স্থানে এই বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হতো যার তত্ত্ববধায়ক ছিলেন ব্রিগেডিয়ার টি. এস ওবেরয়। কর্নেল বি ডি কুশাল এই বাহিনীর প্রশাসনিক বিষয়াদি দেখাশোনা করতেন।
ইতিহাসে জানতে পারবেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল উবানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মুজিব বাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সদস্যকে দেরাদুনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শেখ ফজলুল হক মনি, তোফায়েল আহমদ, সিরাজুল আলম খান ও আবদুর রাজ্জাক এই বাহিনীর যৌথ অধিনায়ক ছিলেন।
মুজিব বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের জন্য যুদ্ধ করেনি এই বিষয়ে এখনো প্রকাশ্য বলতে সমস্যা আছে কি ?
আমাদের ভারতীয় নিয়ন্ত্রক এবং প্রশিক্ষকগণ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তাঁরা আমাদের (মুক্তিযোদ্ধাদের) বন্ধু হিসেবে নয় বরং এজেন্ট হিসেবে বিবেচনা করেন। ভারতীয় বাহিনীর আসল রূপ উন্মোচিত হয় পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর, যখন আমি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের দ্বারা ব্যাপক হারে লুটতরাজ ও লুণ্ঠন প্রত্যক্ষ করি। সৈন্যরা যা কিছু পেয়েছে তার ওপরই ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং সেগুলো ভারতে নিয়ে গেছে। আমাদের শহর, শিল্পাঞ্চল, বন্দর, সেনানিবাস, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এমনকি আবাসিক এলাকাগুলোতেও কারফিউ জারি করা হয়েছিল যাতে লুটতরাজ সহজতর হয়। সিলিং ফ্যান থেকে শুরু করে সামরিক সরঞ্জাম, থালাবাসন থেকে শুরু করে পানির ট্যাপ—সবকিছুই তারা খুলে নিয়ে গিয়েছিল। লুট করা মালামাল ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য হাজার হাজার সেনা যান ব্যবহার করা হয়েছিল। ইতিহাস খুব কমই এ ধরনের নিষ্ঠুর ও জঘন্য লুণ্ঠনের রেকর্ড রেখেছে। উচ্চপদস্থ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের যোগসাজশ ছাড়া এত বড় মাপের লুণ্ঠন সম্ভব হতো না।
মুজিব বাহিনী গঠনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট কি ছিল ?
প্রবাসী মুজিবনগর সরকার এবং সর্বাধিনায়ক কর্নেল ওসমানিকে না জানিয়ে গোপনে শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বে মুজিববাহিনী গঠিত হয়েছে বলে খুবই নেতিবাচক একটি মনোভাব ভারতের মাটিতে ১৯৭১ সালে মুজিববাহিনী গঠনের সময় থেকেই প্রচারিত ও প্রচলিত রয়েছে। মুজিববাহিনী গঠিত হলে কর্নেল ওসমানী তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ্যে ব্যক্ত করেছিলেন।
বি এল এফ-এর নাম পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধুর নামে ‘মুজিববাহিনী’ রাখা হয়। এই মুজিব বাহিনীতে বিশেষভাবে নির্বাচিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের পৃথক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধকালে ‘মুজিববাহিনী’ নামের পাশাপাশি ‘বি এল এফ’ নামও প্রচলিত ছিল।
‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই মুজিব বাহিনীর কিছু সদস্যই লুটপাটে নেতৃত্ব দিয়েছিল। তারা বঙ্গবন্ধু সরকারকে সহযোগিতা দূরের কথা বরং তাদের কর্মকাণ্ড সরকারকে ধীরে ধীরে জনবিচ্ছিন্ন করে দেয়। মুজিব বাহিনী সৃষ্টির যে মূল লক্ষ্য ছিল, অর্থাৎ নতুন সরকারকে শক্তিশালী করা, তা মাঠে মারা যায়। তারা ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দৈত্যের রূপ নেয়। কিছুদিন পর তো তারা সরাসরি অবস্থান নেয় সরকার তথা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধেই’।
‘সানি ভিলা,২১ নং রাজেন্দ্র রোড, নর্দান পার্ক, ভবানীপুর’ এই ঠিকানা নিয়ে এখনো রহস্য কেন ?
চূড়ান্ত গোপনীয়তা রক্ষার উদ্দেশ্যে কলকাতার ভবানীপুরের একটি বাড়ির ঠিকানা ওই চার ছাত্রনেতাকে লিখে না দিয়ে মুখস্ত করান শেখ মুজিবুর রহমান । ‘সানি ভিলা,২১ নং রাজেন্দ্র রোড, নর্দান পার্ক, ভবানীপুর’। যুদ্ধ শুরু হলে তারা এ ঠিকানায় গেলে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন বলে জানান। বাড়িটি বঙ্গবন্ধুর বিশেষ সহযোগী এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক পিরোজপুর এলাকার বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন সুতারের। বাড়িটি পূর্ব-বাংলা থেকে আগত আওমীলীগ-ছাত্রলীগের নীতিনির্ধারক নেতৃবৃন্দের যোগাযোগের কাজে ব্যবহার করার জন্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার চিত্তরঞ্জন সুতারকে বরাদ্দ করেছিল । যুদ্ধ শুরু হলে এ ছাত্রনেতারা এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে সানি ভিলায় সমবেত হয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মুজিববাহিনী গঠনের কাজে লেগে যান। মুজিববাহিনী গঠনের শুরুর দিকে উপরোক্ত চার ছাত্রনেতা সানি ভিলায় থাকতেন।
শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরলেন ১৯৭১ সালের ১০ জানুয়ারি। যাঁকে অবিসংবাদিত নেতা মানেন, সেই তিনিই ৮-৯ মাসের মধ্যে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল জাসদ গঠন করলেন কেন? গঠন করতে হলো কেন?
৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ঠিক চারমাসের মধ্যে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে মতবাদ আর মতভেদকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়। সেই বিভেদ থেকে পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠিত হয় জাসদ। মতবাদ প্রতিষ্ঠা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে ব্যাপক দুরত্বের সৃষ্টি হয়। এক গ্রুপ বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঘোষনা এবং আরেক গ্রুপ মুজিববাদ প্রতিষ্ঠার ঘোষনা দিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান গ্রহন করে।
১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর দলটির সাত সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা দেয়া হয়। মেজর (অবঃ) মোহম্মদ আব্দুল জলিল হন সভাপতি এবং আ স ম আবদুর রব হন যুগ্ম আহ্বায়ক। ঘোষণাপত্রে সামাজিক বিপ্লবের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র তথা শ্রেণিহীন শোষণহীন কৃষক শ্রমিকরাজ প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা দেয়া হয়।
১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল – জাসদ আত্মপ্রকাশ করে । সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে কেন জাসদ নামের দলটি প্রতিষ্ঠিত হলো, কারা দলটি প্রতিষ্ঠা করলেন – তা হয়তো এই প্রজন্মের অনেকেই জানেন না। দলটি নিয়ে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক উভয় প্রতিক্রিয়া এখনো বিদ্যমান।
১৯৮০ সালে বিভিন্ন বিতর্ককে কেন্দ্র করে প্রথম জাসদ ভাঙনের কবলে পড়ে এবং জাসদ থেকে বেরিয়ে একদল নেতা বাসদ গড়ে তোলে। ১৯৮৪ সালে আরেক দফা ভাঙ্গন হয়। ১৯৮৬ সালে কাজী আরেফ আহমেদ ও হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন দলটি জাসদ (ইনু) হিসেবে পরিচিতি পায়। ১৯৯৭ সালে জাসদ (রব), জাসদ (ইনু) এবং বাসদ (মাহাবুব) এর একাংশ মঈন উদ্দিন খান বাদলের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়, আ স ম রব সভাপতি এবং হাসানুল হক ইনু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে আ স ম রবের নেতৃত্বে কতিপয় নেতা জেএসডি নামে জাসদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
জাসদের সর্বেসর্বা সিরাজুল আলম খান , বিষয়টি অস্বীকার করার যায় ?
১৯৭২ সালের অক্টোবরে শেখ ফজলুল হক মনি ও মোস্তফা মহসিন মন্টুকে দায়িত্ব দিয়ে যুবলীগ গঠন করেন বঙ্গবন্ধু। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যুবলীগের কমিটি গঠনের ৪-৫ দিনের মধ্যে ৩১ অক্টোবর গঠন করি ‘জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)’। মেজর (অব.) জলিল ও আসম রবকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে কমিটি ঘোষণা হয় । সিরাজুল আলম খান জাসদের কোনো পদে নাই ।
জাসদের ১ম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালের ২৩ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কাউন্সিলে মেজর এম এ জলিলকে সভাপতি এবং আসম আব্দুর রবকে সাধারন সম্পাদক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।
দল গঠন করছেন, নেতা তৈরি করছেন, নীতি নির্ধারণ করছেন কিন্তু জাসদের নেতৃত্বে ভারতীয় দূতাবাসে হামলা ও সেনাবাহিনীর ভেতরে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা কেন হয় ? তার সাথে আপনার যোগসূত্র আছে বলে অভিযোগ কেন ?
গণবাহিনীর কর্মকাণ্ড, ভারতীয় হাইকমিশনে হামলার মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো না জানিয়ে করা হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনার কে জিম্মির সিদ্ধান্ত ছিল কর্নেল তাহের সমর্থিত এবং তার ভাইদের। যদিও সেটা দলের উপর দায়ভার ছিল।
রক্ষীবাহিনী ও গণবাহিনী মুখোমুখি হয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কি ছিল ?
জাসদ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ক্ষমতাসীনদের দমন পীড়ন মারাত্মক আকার ধারণ করে। জাসদ প্রতিষ্ঠার শুরুতে ১২ নভেম্বর ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার মুজিব বাহিনী প্রধান সিদ্দিক মাষ্টার খুন হন। প্রকাশ্যে খুন করা হয় ঈশ্বরদীর বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান কচিকে। শাহজাদপুরে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলালুজ্জামান হেলাল সহ ৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। যশোরে খুন হন, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি সাবেক সাংসদ মোশাররফ হোসেন।
মানিকগঞ্জ জেলা জাসদের যুগ্ম আহবায়ক সাদত হোসেন রবিনকে হত্যা করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের জিএস বোরহান উদ্দিন রোকন সহ শত শত নেতাকর্মী এই সময়ে খুন হয়। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার ছাতারপাড়া গ্রামে রক্ষীবাহিনীর হাতে খুন হন, শামসুল হাদী, মুসা, উম্মত, খলিল, জিলানী, কুদ্দুস, মন্টু সহ ৭ জন। পাবনায় খুন হয় ফারুক, কানু, শেখর, বাদশা, রফিক, স্বপন সহ অনেকে।
১৯৭৪ সালের জুলাই মাসে জাসদ গনবাহিনী গঠন করে। জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি মোহাম্মদ শাজাহান গনবাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার নিযুক্ত হন। কর্নেল তাহের ফিল্ড কমান্ডার এবং হাসানুল হক ইনু ডিপুটি কমান্ডার নিযুক্ত হন। স্বাধীনতার পর হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলে যেতে হয়েছিল।
জাসদ রাজনীতিতে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন দেয়। ১৯৭২ সালে জাসদ রাজনীতির উত্থান পর্ব বলা হলেও ৭৫ পরবর্তী সময়কাল হলো বেশী দুর্যোগপুর্ন। ৭৬ সালে কর্নেল তাহের এর ফাঁসি দেওয়া এবং সমস্ত শীর্ষ নেতাদের জেলে থাকার কারনে জাসদের সাংগঠনিক শক্তি নিম্নমুখী হতে থাকে।
১৯৭৫ সালের আগস্টের ১ বা ২ তারিখে তিনি ভারতে কেন গিয়েছিলেন ? তবে কি জানতেন ১৫ আগস্ট কিছু হবে ?
ভারতে কেন গিয়েছিলাম সেটা না জানাই ভালো। অনেক কিছুই বলা যায় না বা বলার বিষয় ও না। তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যখন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। বেলা ১১টার দিকে রেডিওতে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা শুনলাম। তখন আমি কোলকাতায়। ঘটনাটিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারিনি। তার পরিণতি রাজনৈতিকভাবে না হয়ে, এভাবে যে মর্মান্তিকভাবে হলো, আর সেটাও পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ—এ সত্যটি মেনে নিতে আমার খুবই কষ্ট হয়েছে।’
১৫ আগস্টের সঙ্গে জড়িতদের সাথে জাসদ নেতারা মিটিং করেছে, রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা করেছে। হত্যাকাণ্ডের পর জাসদ উল্লাস করেছে। ‘খুনি মুজিব খুন হয়েছে’ তাৎক্ষণিকভাবে লিফলেট প্রকাশ করেছে কেন ?কর্নেল তাহের কেন বলেছিলেন ” শেখ মুজিবের লাশ বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেয়া উচিত ছিল ? এই কর্নেল তাহের কে তো শেখ মুজিব সরকার ভালো পদে সরকারি চাকুরী ও দিয়েছিলো।
জাসদই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পথ তৈরি করে দিয়েছিল অনেকেই সেটা বলে। দলটিকে নিয়ে আলোচনা যাই হোক না কেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে অন্তত এক দশক রাজনীতির মোড় ঘুরানো নানা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা ছিল দলটির।৭ই নভেম্বর সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থানকে সফল করার জন্য কাজ করেছে জাসদের আওতাধীন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা।১৯১৭ সালে সোভিয়েত বিপ্লবের মতোই কাজ করতে চেয়েছিল জাসদ।
জাসদের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠে বিপ্লবী গণবাহিনী। এছাড়া সামরিক বাহিনীর মধ্যে ১৯৭৩ সালে থেকে কাজ করছিল বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা। বিষয়টি কি অস্বীকার করা যায় ?
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর দৃশ্যপট বদলে যায়।হত্যাকারী সেনা সদস্যদের সহায়তায় খন্দকার মোশতাক আহমেদ ক্ষমতাসীন হবার পর জাসদ সাইড-লাইনে চলে যায়।
এরপর ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানের পর জাসদ আবারো তৎপর হয়ে উঠে।
সে ঘটনার প্রতিক্রিয়ার আরেকটি অভ্যুত্থান হয় ৭ই নভেম্বর, যার মাধ্যমে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন। জাসদ তখন সাংগঠনিক-ভাবে প্রস্তুত ছিল না এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও জাসদকে সমর্থন দেয়নি। জাসদ নেতারা এখনো অকপটে স্বীকার করেন যে ৭ই নভেম্বর ‘অভ্যুত্থানের সুফল’ তারা কাজে লাগাতে পারেননি।