গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ তিন বছর পেরিয়ে চতুর্থ বছরে প্রবেশ করেছে। তবে এই ধ্বংসযজ্ঞকে এখনই অতীত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ দূত ফ্রানচেস্কা আলবানিজে। তার ভাষায়, ‘গণহত্যা এখনো শেষ হয়নি।’
যুদ্ধের তৃতীয় বছরে আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলবানিজে বলেন, গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত থাকায় ফিলিস্তিনিদের কেবল ‘গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করাও যথাযথ নয়। কারণ, তাদের ওপর হুমকি এখনো কাটেনি।
বুধবার আনাদোলু সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে। তাতে তিনি আরও বলেন, ‘মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিপর্যয়কর। এটি সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো অবস্থারও বাইরে।’
২০২২ সাল থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূতের দায়িত্ব পালন করছেন ইতালীয় মানবাধিকার আইনজীবী আলবানিজে। তাঁর মতে, গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ক্রমেই অবনতিশীল পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। বিশেষ করে ইসরায়েলকে সমর্থনকারী দেশগুলোর নীতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও সামরিক তৎপরতা পুরোপুরি থামেনি। ফিলিস্তিনি হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে আরও ১ হাজার ৪৫৪ জন নিহত এবং ৫ হাজার ৯০ জন আহত হয়েছেন।
আলবানিজে সতর্ক করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের ‘গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া’ হিসেবে বর্ণনা করলে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে তাদের ওপর চলমান ধ্বংসযজ্ঞের অবসান হয়েছে।
তিনি বলেন, গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ এখনো চলছে। তাঁর দাবি, উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি