• ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৫শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৯শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

বিদেশি কর্মীদের ‘ক্রীতদাস’ বললেন ভ্যান্স, তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারত

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ৯, ২০২৬
বিদেশি কর্মীদের ‘ক্রীতদাস’ বললেন ভ্যান্স, তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারত
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের ‘চুক্তিভিত্তিক ক্রীতদাস’ হিসেবে অভিহিত করায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারত। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ধরনের বক্তব্যকে ‘অনভিপ্রেত’ এবং ‘অত্যন্ত আপত্তিকর’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

ভারতের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যকার মেধা ও পেশাদারদের অবাধ যাতায়াত উভয় অর্থনীতির জন্যই ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

সম্প্রতি মার্কিন গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পারমানেন্ট লেবার সার্টিফায়েড (পার্ম) কর্মসূচি থেকে আটটি বড় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ করে মার্কিন প্রশাসন। এরপরই বিতর্কিত এই মন্তব্য করেন জেডি ভ্যান্স।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট যে ভাষায় ভারতীয় পেশাজীবীদের অভিহিত করেছেন তা অযৌক্তিক। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীরা অত্যন্ত শিক্ষিত এবং তাঁরা দেশটির অর্থনীতি ও উদ্ভাবন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিজের ইতিহাসই তৈরি হয়েছে কয়েক প্রজন্মের অভিবাসীদের হাত ধরে, যাদের শ্রম ও উদ্ভাবন দেশটির সমৃদ্ধি এনেছে। এই প্রেক্ষাপটে বেদনাদায়ক ঐতিহাসিক ও ঔপনিবেশিক বার্তা বহন করে এমন পরিভাষা ব্যবহার করা অত্যন্ত আপত্তিকর।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে, দুই দেশের মধ্যকার পেশাজীবীদের যাতায়াত মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ভাবন, প্রতিযোগিতা, গবেষণা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ফলে এটি উভয় দেশের জন্যই পারস্পরিক সুফল বয়ে আনে। সামাজিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫২ লাখের বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করছেন।

মার্কিন সরকারের গৃহীত সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কারণে আটটি শীর্ষস্থানীয় আইটি ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পার্ম (PERM) প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: মাইক্রোসফট (Microsoft) টাটা কন্সালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) উইপ্রো (Wipro) ইনফোসিস (Infosys) অ্যাডোবি (Adobe) কগনিজেন্ট (Cognizant) এইচসিএল (HCL) ক্যাপজেমিনি (Capgemini)।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই পদ্ধতির মাধ্যমে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়ায় মার্কিন নাগরিকেরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তবে ভারত সরকার বলছে, পার্ম কর্মসূচি স্থগিতের কারণে বর্তমানে চালু থাকা এইচ-১বি ভিসার বৈধতা বা ভিসা ধারীদের ওপর সরাসরি কোনো প্রভাব পড়বে না।

অবশ্য তালিকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মীদের স্থায়ী বাসস্থান (গ্রিন কার্ড) পাওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে।

জেডি ভ্যান্স কী বলেছিলেন?
বিতর্কের সূত্রপাত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। পার্ম কর্মসূচি স্থগিতের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি বিশেষ করে মাইক্রোসফটের উদাহরণ টেনে আনেন। ভ্যান্স দাবি করেন, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় কর্মীদের বাদ দিয়ে কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে। এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘গত এক বছরে মাইক্রোসফট প্রায় ৬ হাজার মার্কিন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। অথচ একই সময়ে তারা ৬ হাজার ৩০০টি এইচ-১বি ভিসা এবং প্রায় ৩ হাজার গ্রিন কার্ডের সুবিধা নিয়েছে। অর্থাৎ সহজ হিসাবে, মাইক্রোসফট প্রতি একজন ছাঁটাই হওয়া মার্কিন কর্মীর বিপরীতে প্রায় দেড়জন বিদেশি “চুক্তিভিত্তিক ক্রীতদাস” নিয়োগ দিয়েছে।’

ভ্যান্স আরও জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভর না করে ‘আমেরিকান কর্মীদের’ নিয়োগ দেওয়া।