ইরানের প্রাচীন সভ্যতা মুছে ফেলার চেষ্টা করা বিদেশি শক্তিগুলো শেষ পর্যন্ত ধুলোয় মিশে অপমানিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর পশ্চিমা আধিপত্যবাদী বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেছেন, আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের উত্তরাধিকার অনুসরণকারীদের পরিণতি হবে রোমান সম্রাট ভ্যালেরিয়ানের মতো; তাদেরও হাঁটু গেড়ে বসতে হবে। খবর প্রেস টিভির।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, ‘ইতিহাসজুড়ে আমরা ইরানিরা নিজেদের মহাবিশ্বের অধিপতি দাবি করা এমন শক্তির মুখোমুখি হয়েছি, যারা প্রাচীন সভ্যতাগুলোকে মুছে ফেলতে চেয়েছে। তারা আগুন আর ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে এসেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধুলো আর লজ্জা নিয়ে ফিরে গেছে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘যারা আলেকজান্ডারের উত্তরাধিকার অনুসরণ করতে চায়, তাদের পরিণতিও হবে ভ্যালেরিয়ানের মতো। তোমাদের হাঁটু গেড়ে বসতে হবে।’
গত ৮ অক্টোবর রুবিওর দেওয়া এক বক্তব্যের জবাবে গালিবাফ এসব কথা বলেন। ওই বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, পশ্চিমা বিশ্ব দীর্ঘ ঘুম থেকে জেগে উঠে হাজার বছর আগে প্রাচীন গ্রিসে জ্বলে ওঠা আগুন আবার প্রজ্বালিত করতে পারে।
রুবিও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, পশ্চিমা বিশ্ব তার দীর্ঘ ঘুম থেকে জেগে উঠতে পারে এবং হাজার বছর আগে প্রাচীন গ্রিসে প্রথম জ্বলে ওঠা আগুন আবার প্রজ্বালিত করতে পারে।’
সমালোচকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্বাধীন দেশগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তারের মার্কিন আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পায়। তাদের অভিযোগ, সভ্যতার পুনর্জাগরণের কথা বলে অন্য দেশগুলোকে নিজেদের অধীন করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।
গালিবাফের বক্তব্যে রোমান সম্রাট ভ্যালেরিয়ানের প্রসঙ্গও ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ২৬০ খ্রিষ্টাব্দে এডেসার যুদ্ধে সাসানীয় পারস্যের রাজা প্রথম শাপুরের কাছে বন্দি হন ভ্যালেরিয়ান। যুদ্ধবন্দি হিসেবে আটক হওয়া একমাত্র রোমান সম্রাট হিসেবে তিনি ইতিহাসে পরিচিত।
আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট ও ভ্যালেরিয়ানের প্রসঙ্গ টেনে গালিবাফের বার্তা হলো, প্রাচীন সাম্রাজ্যগুলোর সাময়িক বিজয়ের পথ অনুসরণ করলেও পশ্চিমা শক্তিগুলোর শেষ পরিণতি হতে পারে পরাজয় ও অপমান।
ইরানকে ঘিরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য সামনে এলো। সামরিক হামলা, অর্থনৈতিক চাপ ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে তেহরানকে নতি স্বীকারে ওয়াশিংটন বাধ্য করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে আসছে ইরানের নেতৃত্ব। তাদের বক্তব্য, পশ্চিমা শক্তির হুমকি ও আলটিমেটাম অতীতের ব্যর্থ সামরিক অভিযানেরই পুনরাবৃত্তি।