যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রার্থীরা।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মিরপুর বাঙলা কলেজের সামনে, মতিঝিলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ের সামনে, আসাদগেটের আড়ং মোড় ও নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেন তাঁরা। এ সময় এসব এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা জানিয়েছেন, আজ শনিবার বেলা ১১টায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের বিপরীতে তিন লাখের বেশি প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। পরীক্ষা আয়োজনের জন্য ঢাকার প্রায় ১০০টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছিল।
প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে স্থগিত হওয়া এই পরীক্ষার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) বিকাল ৩টায়।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তোলা হয়। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, নিয়োগ পরীক্ষা কমিটির দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত। এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় প্রার্থীদের সঙ্গে জনপ্রতি গড়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকার চুক্তি করে প্রশ্নপত্র সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও পোস্টে অভিযোগ করা হয়।

এ অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে শনিবার সকালে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।
পরীক্ষা স্থগিতের খবরের মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন চাকরিপ্রার্থীরা। বেলা ১২টার দিকে টেকনিক্যাল মোড়সংলগ্ন মিরপুর বাঙলা কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। প্রায় একই সময়ে মতিঝিলে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ের সামনেও বিক্ষোভ শুরু হয়। এ ছাড়া আসাদগেটের আড়ং মোড় ও নীলক্ষেত মোড়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন আন্দোলনকারীরা।
অন্যদিকে শিক্ষিত বেকার যুবকদের কাছে সোনার হরিণ সরকারি এই চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। সূত্র জানায়, পরীক্ষার দুদিন আগে একটি প্রভাবশালী মহল থেকে কিছু চাকরিপ্রার্র্থীকে বাছাই ও লিখিত পরীক্ষায় পাশ করানোর প্রক্রিয়া ছিল-এমন অভিযোগের সত্যতা আছে কি না, তা নিয়ে চলছে গোয়েন্দা তদন্ত।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের কারণে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও সিআইডি জড়িত চক্রকে আটক করতে গতকাল শুক্রবার রাত থেকে কাজ করছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, রাজধানীতে কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে সেটির ছায়াতদন্ত করে ডিবি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পরও ডিএমপির সাইবার ইউনিট ও ডিবির কয়েকটি দল বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৫ দাবি জাতীয় যুবশক্তির

যুব ও ক্রীড়া উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি থেকে এ সব দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে জাতীয় যুবশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা নিয়ে পাওয়া তথ্য থেকে তাঁদের সন্দেহ হয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম আরও বিস্তৃত হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ হয়, এবার হয়তো ভাগ-বাঁটোয়ারায় গন্ডগোল লেগেছিল। এ জন্য কেউ না কেউ প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর প্রকাশ করেছে। অন্যথায় ঘটনাটি সামনে আসত না।’
রিফাত রশিদ বলেন, ২৪২টি পদের বিপরীতে ৩ লাখ ১৯ হাজার পরীক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এতে দেশের চাকরির বাজারের সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ না দিয়ে কোটা, ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া প্রভাবিত করার অভিযোগ করেন তিনি।
জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল বলেন, বিএনপি দ্রুত আওয়ামী লীগের মতো হওয়ার চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রীয় যন্ত্রগুলোকে দলীয়করণ এবং অকার্যকর করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ফরহাদ সোহেল বলেন, ‘বাংলাদেশের যুবসমাজ বারবার বঞ্চিত হয়েছে, বারবার তাদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। বিএনপি আবার নতুন খেলায় লিপ্ত হয়েছে।’
ফরহাদ সোহেল অভিযোগ করেন, এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিবর্তে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেট এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে চাকরিপ্রত্যাশীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম বলেন, সরকার তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে কোনো কার্যকর পরিকল্পনা দেখাতে পারেনি। এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে এক কোটি চাঁদাবাজ তৈরির অভিযোগ করেন তিনি।
তারিকুল ইসলাম বলেন, যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচি থাকলেও সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো সচল করার কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাঁর অভিযোগ, চাকরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে তরুণদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
তারিকুল ইসলাম আরও বলেন, প্রশ্নফাঁসের তথ্য পরীক্ষার আগের রাতেই সামনে এলেও পরীক্ষা শুরুর আগে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এতে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আমিনুলের পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন, যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পরিবর্তে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে।