• ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৩রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

আজারবাইজান ও ইরাক সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ১৩, ২০২৬
আজারবাইজান ও ইরাক সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

মধ্যএশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে আজারবাইজান ও ইরাক সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সফরে আঞ্চলিক সহযোগিতা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের হুমায়ুন কবির জানান, মঙ্গলবার রাতেই আজারবাইজানের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। ১৫ ও ১৬ অক্টোবর দেশটিতে অবস্থানকালে রাজধানী বাকুতে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপবিষয়ক সম্মেলনের (সিআইসিএ) আওতায় উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন।

ওই সভায় বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রনীতি, নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কার্যক্রম সম্প্রসারণের নতুন ক্ষেত্র হতে পারে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত যোগাযোগ বাড়ানোরও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে সেখানে।

আজারবাইজান সফর শেষে ১৭ অক্টোবর ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যাবেন হুমায়ুন কবির। সেখানে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বক্তব্যও দেবেন তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উল্লেখযোগ্য ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাগদাদের বৈঠক বাংলাদেশের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা পেরিয়ে ইরাকে উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরাকসহ বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর সম্ভাবনাও সফরে গুরুত্ব পাবে বলে জানান হুমায়ুন কবির।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে প্রায় ৮০ লাখ বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। ফলে আঞ্চলিক সংঘাত ও নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যে তাঁদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও সার্বিক মঙ্গল নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে আঞ্চলিক সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক ও পর্দার আড়ালের যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখার প্রস্তাব এলে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।